সন্তান-স্বজনদের মুক্তি দিয়ে চিরতরে চলে গেলেন বৃদ্ধা আনোয়ারা বেগম। ছেলে ও ছেলের বউ ফেলে যাওয়ার পরে রাস্তায় ও পরে বরিশালের মুলাদি উপজেলা হাসপাতালের বারান্দায় দিন কেটেছে আনোয়ারা। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে মারা যান তিনি।
আনোয়ারা বেগম উপজেলা সফিপুর ইউনিয়নের চরপদ্মা গ্রামের ছত্তার খানের স্ত্রী। চলতি বছরে ২ জানুয়ারি তাঁর ছেলে হানিফ মিস্ত্রী ও ছেলের বউ তাঁকে মুলাদি উপজেলার খেজুরতলা বাজারে ফেলে গিয়েছিল বলে জানা গেছে।
ওই সময় স্থানীয়রা থানা-পুলিশের পরামর্শে মুলাদি হাসপাতালে পৌঁছে দেন। এর পর থেকে পথচারী, হাসপাতালে আসা লোকজনের দেওয়ায় খাবার, পানি খেয়ে জীবন কাটছিল এই বৃদ্ধার।
হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, বৃদ্ধা আনোয়ারা বেগমের এক হাত ও এক পা অচল ছিল। তাঁকে হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে রাখা হয়েছিল। আজ বৃহস্পতিবার তিনি মারা যান। মৃত্যুর পরেও তাঁর সন্তান কিংবা কোনো স্বজনরা আসেননি।
মুলাদি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস. এম মাকসুদুর রহমান বলেন, বৃদ্ধা আনোয়ারা বেগমের স্বজনদের খোঁজ করে পাওয়া যায়নি। পরে স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তায় থানা-পুলিশের তত্ত্বাবধানে তাকে মুলাদি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।