অবৈধ তিন চাকার যান চলাচল বন্ধের দাবিতে ও বাসমালিক সমিতিকে অবৈধ বলার কারণে ধর্মঘট ডেকেছে পটুয়াখালী বাস মিনিবাস মালিক সমিতি। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে বারোটায় হঠাৎ করেই এই সিদ্ধান্ত নেয় মিনিবাস মালিক সমিতি। এর ফলে পটুয়াখালী-বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রীরা।
দেখা গেছে, পটুয়াখালী কুয়াকাটা মহাসড়কের মধ্যে মহাসড়কের বাসস্ট্যান্ডের সামনের সড়কের মধ্যে বাস আড়া আড়ি করে রেখে দিয়েছে জেলার মিনিবাস মালিক-শ্রমিকেরা। এতে মহাসড়কের দুই পাশে যানজটের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে। বাসে অপেক্ষায় রয়েছে শত শত যাত্রীরা। বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ যাত্রীর।
যাত্রী হারুন প্যাদা বলেন, ‘আমি বরিশাল মেডিকেল হাসপাতালে যাব রোগী নিয়ে বাসের টিকিট কাটছি, হঠাৎ করে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এখন আমার টিকিট ফেরতও নেয় না, টাকাও দেয় না।’
অপর এক যাত্রী আফসার উদ্দিন বলেন, ‘আমি পরিবারসহ পাবনা যাব, হঠাৎ করে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে আমি এখন ভোগান্তিতে পরেছি।’
পটুয়াখালী বাস মালিক সমিতির সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন মৃধা বলেন, ‘করোনাকালীন সময়ে আমাদের পেটে ভাত নেই। তেলের টাকাটা পর্যন্ত পাচ্ছি না। এর মধ্যে অবৈধ নছিমন অটোরিকশাগুলো সড়কে বেপরোয়াভাবে চলে ও এতে করে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। আমরা বাস চালকদের ও যাত্রীদের সুবিধার্থে একটি সময় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ করেছি। এখানে আমাদের কোনো চাঁদাবাজি কোনো কিছু হয় না। কিন্তু ওরা বলে আমরা অবৈধ বাসমালিক সমিতি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছি। যত দিনে সড়কে অবৈধ ৩ চাকার গাড়ি বন্ধ করে দেওয়া না হবে তত দিন আমাদের অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট চলবে।’
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বাস স্ট্যান্ডের সামনের সড়কের মধ্যে বাস আড়াআড়ি করে রাখা বাসগুলোকে সরিয়ে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট নিরসন করা হয়েছে।’
এ ছাড়া বরিশাল, পটুয়াখালী, কুয়াকাটা মহাসড়কে আন্তজেলার বাস চলাচল অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ থাকবে। তবে দূর পাল্লার পরিবহন চলবে বলে জানান বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি।