দেহ ব্যবসায় বাধ্য করার অভিযোগে আপন ফুপু-ফুপাসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ১৮ বছরের এক তরুণী। গতকাল সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দর থানায় এ মামলা করা হয়।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- তরুণীর ফুফু নূপুর বেগম, ফুপা নজরুল ইসলাম এবং বন্দর থানাধীন নরকাঠী এলাকার সোহেল খান। অভিযোগকারী ও অভিযুক্তরা সবাই বরিশাল সদর উপজেলার টুঙ্গিবাড়িয়া ইউনিয়নের নরোকাঠী গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
মামলার এজাহারে তরুণী অভিযোগ করেছেন, ১৪ মাস আগে তাঁর বিয়ে হয়। বনিবনা না হওয়ায় দুই মাস পরে স্বামীর সংসার ছেড়ে বাবার বাড়ি চলে আসেন। তাঁর বাবার আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় ফুফু নূপুর বেগম চাকরি দেওয়ার কথা বলে তাঁকে ঢাকা নিয়ে আসেন। এরপর থেকে নয় মাস পর্যন্ত তরুণী তাঁর ফুফুর ঢাকার শনিরআখড়ার বাসায় ছিলেন।
ওই বাসায় কয়েক দিন থাকার পর ফুপা-ফুফু তাঁকে দেহ ব্যবসার প্রস্তাব দেন। এতে তিনি রাজি না হওয়ায় শারীরিক নির্যাতন এবং ঘরে আটকে রাখা হয়। নিরুপায় হয়ে তরুণী পাঁচ মাস ওই বাসায় থেকে দেহ ব্যবসায় লিপ্ত ছিলেন।
মামলার বিষয়ে বন্দর থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ওই তরুণীর অভিযোগ আমলে নিয়ে রাতেই মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওসি আরও জানান, দুই মাস আগে তরুণী তাঁর ফুফুর বাসার গৃহপরিচারিকার সহায়তায় পালিয়ে বরিশালে নিজ গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন। তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিষয় নিয়ে আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর আত্মীয়স্বজনদের পরামর্শে তিনি মামলা করেন। কিন্তু কিছু বাধা বিপত্তি থাকায় মামলা করতে দেরি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।