বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) অক্সিজেনের নল খুলে নেওয়ায় দিপালী সিকদার (৪৫) নামের এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় শনিবার (১৬ মে) হাসপাতালের সহকারী পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নিহত রোগীর ভাই। অভিযুক্ত ট্রলিম্যান মো. সোহেলকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। নিহত দিপালী বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি গত বুধবার (১৩ মে) শেবাচিম হাসপাতালে মারা যান।
শনিবার আকস্মিক শেবাচিম হাসপাতাল পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার। এ সময় সাংবাদিকেরা দিপালীর মৃত্যুর বিষয়টি তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার আশ্বাস দেন।
দিপালীর ভাই মিলন হালদার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, ১৩ মে শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালের ফিমেল মেডিসিন ইউনিট-১-এ ভর্তি হন দিপালী সিকদার। হাসপাতালে বেড খালি না থাকায় চিকিৎসকেরা তাঁকে ট্রলিতে রেখেই দুই ঘণ্টা অক্সিজেন দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু অক্সিজেন দেওয়ার এক ঘণ্টা পর ট্রলিম্যান সোহেল নলটি খুলে ট্রলি নিয়ে যান। এর কয়েক মিনিটের মধ্যে দিপালী মারা যান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নিহত দিপালীর ভাই মিলন হালদার বলেন, ‘আমি নিজে সেখানে উপস্থিত ছিলাম। আমি দেখেছি অন্য এক রোগীর কাছ থেকে ২০০ টাকা নিয়ে ট্রলিম্যান সোহেল অক্সিজেনের নল খুলে ফেলেন। পরে আমার বোন মারা যান।’
শেবাচিম হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘নিহত দিপালীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আমরা অভিযুক্ত ট্রলিম্যান সোহেলকে কাজ থেকে বিরত রেখেছি। ঘটনা তদন্তে হাসপাতালের উপপরিচালক এ কে এম নাজমুল আহসানকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।