ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক পারাপারের সময় বেপরোয়া একটি বাসের ধাক্কায় মো. ইউনুস (৬০) নামের এক পথচারী নিহত হয়েছেন। শনিবার রাতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ঘাতক বাসটি আটক করতে গেলে গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব জহির সাজ্জাদ হান্নান শরীফ ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে হাইওয়ে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে নিহত ব্যক্তির সুরতহাল প্রতিবেদন ছাড়াই মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে থানায় পাঠিয়ে দেওয়ায় আইনি জটিলতায় পড়েছে ইউনুসের পরিবার। রোববার দুপুর পর্যন্ত তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাত ৮টার দিকে গৌরনদী উপজেলার আশোকাঠি হাসপাতালের সামনে রাস্তা পার হওয়ার সময় বরিশালগামী ফেমা পরিবহনের একটি বাস ইউনুসকে চাপা দেয়। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে তিনি মারা যান। ইউনুস আগৈলঝাড়া উপজেলার সেরাল গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মচারী ছিলেন।
নিহত ব্যক্তির স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা নিহত ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে সমঝোতা করে বাসটি আশোকাঠি হাসপাতালের সামনে থেকে ছেড়ে দেন। পরে খবর পেয়ে গৌরনদী হাইওয়ে থানা-পুলিশ আশোকাঠি পেট্রলপাম্প এলাকা থেকে বাসটি আটক করে।
গৌরনদী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে বাসটি আটক করে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করলে ১৫ থেকে ২০ জন যুবক এসে বাধা দেন। পরে উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব হান্নান শরীফ ঘটনাস্থলে এসে বাস ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেন।’
এসআই শরীফুল আরও বলেন, ‘এ সময় খবর আসে যে বাসের ধাক্কায় আহত ইউনুস মারা গেছেন। এরপর পরিস্থিতি বদলে গেলে হান্নান শরীফ ও তাঁর লোকজন সরে যান। তবে সুরতহাল প্রতিবেদন ছাড়াই তাঁর লোকজন লাশটি নিহত ব্যক্তির গ্রামের বাড়ির পাশের আগৈলঝাড়া থানায় পাঠিয়ে দেন, যা আইনবহির্ভূত। বিষয়টি হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি ও পুলিশ সুপারকে জানানো হয়েছে।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব জহির সাজ্জাদ হান্নান শরীফ বলেন, বরিশালে চোখের ডাক্তার দেখাতে শরীয়তপুর থেকে ৬২ জন রোগী নিয়ে বাসটি যাচ্ছিল। হাসপাতালের সামনে দুর্ঘটনা ঘটে। পরে বাসটি পেট্রলপাম্পে সাইড করতে গেলে হাইওয়ে পুলিশ চালকের ওপর চড়াও হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে পুলিশের বাগ্বিতণ্ডা হয়। তিনি দাবি করেন, পুলিশের কাজে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি।
নিহত ব্যক্তির চাচাতো ভাই মো. মিন্টু বলেন, ‘মানুষ মারা গেছে, কিন্তু আইন প্রয়োগ করতে দেবে না। হান্নান শরীফের ছেলেরা গাড়ি নিতে পুলিশকে বাধা দিয়েছে। এখনো নিহত ইউনুসের দাফন সস্পন্ন হয়নি। আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাফিজ সিকদার হাইওয়ে থানায় গেছেন। পুলিশের সঙ্গে কথা বলে আইনি জটিলতা শেষ হলে নিহত ইউনুসের জানাজা সস্পন্ন হবে।’
বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, ‘পুলিশের কাজে বাধা দিয়ে হান্নান শরীফ মারাত্মক অন্যায় করেছেন। তাঁর মতো লোকের কারণে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। সরকারি কাজে বাধা দেওয়ায় পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে কেন আইনি পদক্ষেপ নেয় না।’
এ ব্যাপারে গৌরনদী হাইওয়ে থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত ওসি এবং ভাঙ্গা থানার পরিদর্শক মো. হেলাল বলেন, দুর্ঘটনার পর বাস আটক নিয়ে ঝামেলা হয়েছিল। এই ঘটনায় মামলা করা হবে।