বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ পৌর এলাকার ১ নম্বর চরহোগলা গ্রামে পাওনা টাকা নিয়ে সালিস চলাকালে পুলিশের সামনে খোরশেদ সিকদারকে (৬০) লাথি দিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর ও তাঁর ছেলেদের বিরুদ্ধে। গতকাল রোববার বিকেলে এই ঘটনা ঘটে। পরে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে জড়িত অভিযোগে মেহেন্দীগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন হাওলাদারকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। রোববার রাতে মেহেন্দীগঞ্জ পৌর বিএনপি স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
এদিকে নিহত খোরশেদ সিকদারের মেয়ে বাদী হয়ে মেহেন্দীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেছেন। তবে হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি মেহেন্দীগঞ্জ থানা-পুলিশ। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে নিহত ব্যক্তির পরিবার।
নিহত ব্যক্তির ভাতিজি সানজিদা আক্তার বলেন, ‘চাচাকে (খোরশেদ শিকদার) পুলিশের সামনে জাহাঙ্গীর তার ছেলে নাইম, জাফর গোপনাঙ্গে লাথি মারে। তিনি পড়ে গেলে জাহাঙ্গীর ও তার ছেলেরা চাচাকে লাত্থি দিতে দিতে মেরে ফেলে। একটা মানুষকে প্রশাসনের সামনে খুন করে ফেলেছে।’
নিহত ব্যক্তির চাচাতো ভাই মো. জামাল হোসেন মিয়া বলেন, ‘প্রশাসনের সামনে আমার ভাইকে কী করে মেরে ফেলল!’
মেহেন্দীগঞ্জ পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ রিয়াজ শাহিন লিটন এবং সদস্যসচিব রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী দিনু মিয়া স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘বিএনপির মেহেন্দীগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন হাওলাদারের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী অভিযোগ থাকায় তাঁকে তাঁর পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হলো।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ওই ঘটনায় নিহত ব্যক্তির মেয়ে নাসিমা বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, পাওনা টাকা নিয়ে মারামারি হয়েছে। এ সময় একজন পড়ে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। তবে তিনি স্বীকার করেন সালিসের মতো কিছু একটা হচ্ছিল এবং ঘটনাস্থলে পুলিশের একাধিক সদস্য ছিলেন। তবে পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করবে বলে জানান পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান।