বরিশাল শিক্ষা বোর্ড
সম্প্রতি বরিশাল সরকারি আলেকান্দা কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা তাঁদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড পান। কার্ড হাতে পেয়ে বিস্মিত হতে হয় সব ছাত্রকে। কারণ, এতে তাঁদের ‘ফিমেল’ বা নারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধুই এই কলেজ নয়, বোর্ডের ছয় জেলার প্রায় ৩৮ হাজার ছাত্র রেজিস্ট্রেশন কার্ডে ‘ফিমেল’ হয়েছেন। এখন কলেজ কর্তৃপক্ষ নতুন কার্ড সংগ্রহে বোর্ডে ধরনা দিচ্ছে। সার্ভারে ভুল করায় এমনটা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ইউনুস আলী সিদ্দীকী।
সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে গতকাল সোমবার গিয়ে কথা হয় এইচএসসির বেশ কয়েকজন ছাত্রছাত্রীর সঙ্গে। তাঁরা বলেন, ‘ছাত্ররা কী করে ফিমেল হয়? কেন এমন ভুল হলো, তা খতিয়ে দেখা দরকার।’
মুলাদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ দেলওয়ার হোসেন জানান, তাঁর কলেজে এ বছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ৮৬৮ জন। তাদের মধ্যে ছাত্র ৪২৩ জন। রেজিস্ট্রেশন কার্ডে সবাইকে ‘ফিমেল’ চিহ্নিত করা হয়েছে। সংশোধনের জন্য কার্ড বোর্ডে পাঠানো হয়েছে।’
সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আক্তারুজ্জামান খান বলেন, ‘তাদের ১০০০ পরীক্ষার্থী। সবারই ফিমেল লেখা হয়েছে। আমরা সংশোধনের জন্য পাঠাব। নতুন করে রেজিস্ট্রেশন কার্ড করে দিতে হবে।’
এ বিষয়ে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান জানান, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষার্থী রয়েছে ৮১ হাজার ৮৩১ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৩৭ হাজার ৯৪৪ জন এবং ছাত্রী ৪৩ হাজার ৮৮৭ জন। তিনি দাবি করেন, ৩০ হাজারের মতো রেজিস্ট্রেশন কার্ডে ভুলে ‘ফিমেল’ লেখা হয়েছে। সার্ভারে ভুল করায় এমনটা হয়েছে। এখন নতুন করে ছাপিয়ে সংশোধন করে দিচ্ছেন। এগুলো ঢাকা থেকে ছাপানো হয়েছিল। তারাই সংশোধন করে দেবে।
বিভাগীয় শিক্ষক কর্মচারী ঐক্য ফ্রন্টের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মহসিন উল ইসলাম হাবুল বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের হাতে যখন ভুল রেজিস্ট্রেশন কার্ড পৌঁছেছে, তখন তারা একধরনের মানসিক ধাক্কা খেয়েছে। এর জন্য দায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। স্পর্শকাতর বিষয়ের ওপর তারা গুরুত্ব দেয়নি। এটা সংশোধন করতে হলে নতুন করে ছাপাতে হবে। এতে অর্থ অপচয় হবে। এই অর্থ কোনোভাবেই কলেজ থেকে নেওয়া যাবে না, বোর্ডকে বহন করতে হবে।’