হোম > সারা দেশ > বরিশাল

প্রকল্পের মেয়াদ শেষ: ইলিশ উৎপাদনে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা

খান রফিক, বরিশাল 

ফাইল ছবি

বরিশালের বাজারে ইলিশের দেখা মিলছে না। যা উঠছে তার দাম আকাশচুম্বী। জেলেরা বলছেন, ভরা মৌসুমেও নদ-নদী, সাগর—কোথাও ইলিশের দেখা নেই। এরই মধ্যে ইলিশ উৎপাদন নিয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে মৎস্য অধিদপ্তর। তারা বলছে, জাটকা, মা ইলিশ এবং অভয়াশ্রমে ইলিশ রক্ষায় যে কার্যক্রম এত দিন পরিচালিত হয়ে আসছে, তা অর্থের অভাবে বাধার মুখে পড়বে। কারণ এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ। নতুন করে শিগগির অর্থ বরাদ্দ হচ্ছে না।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প শুরু হয় ২০২০ সালে। সেই সময় থেকে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করা হতো। এই সময় জেলেদের প্রণোদনা, অভিযান চালানো, নজরদারি—সবকিছুই হতো এই প্রকল্পের অর্থে। এ প্রসঙ্গে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের পরিচালক মোল্লা এমদাদুল হক আজকের পত্রিকাকে বলেন, ২০২০ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মেয়াদ দুই বছর বাড়ানো হয়েছিল। ২২৯ কোটি টাকার এ প্রকল্প শেষ হয় গতকাল ৩০ জুন। নতুন করে এ ধরনের আরও আধুনিক প্রকল্প ছাড়া ইলিশ সম্পদ রক্ষা সম্ভব নয়। এ জন্য ইলিশ রক্ষায় আরেকটি ২০০ কোটি টাকার প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছেন তাঁরা। তিনি বলেন, বর্তমানে সেটির ফিজিবিলিটি স্টাডিজ চলছে। মন্ত্রণালয়, একনেক ঘুরে এটি আগামী এক দেড় বছরের আগে আলোর মুখ দেখবে না। এখন হয়তো রাজস্ব খাতে ইলিশের কার্যক্রম চলবে। কিন্তু ইলিশ সম্পদ রক্ষায় নতুন প্রকল্প না হলে কিছু ক্ষতি তো হবেই। কারণ এই প্রকল্পের মাধ্যমেই ইলিশ রক্ষা, জাটকা রক্ষা, অভয়াশ্রম রক্ষা চলত। তাঁরা যানবাহন ও জেলেদের নানা সহায়তাও দিতেন। এবারও অভয়াশ্রমের ৪০ হাজার জেলেকে সহায়তা করেছেন। সেই অর্থ কোথা থেকে আসবে, সেটা এখনো অনিশ্চিত।

বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এই প্রকল্প হাতে নেওয়ার পর ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিভাগে ইলিশের মোট উৎপাদন হয়েছিল ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৯৮৭ টন। ২০২০-২১ অর্থবছরে বিভাগে ইলিশের মোট উৎপাদন হয়েছিল ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৩০১ টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিভাগে ইলিশের মোট উৎপাদন হয়েছিল ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৭৮৩ টন। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিভাগে ইলিশের মোট উৎপাদন হচ্ছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৮০ টন।

প্রকল্প হাতে নেওয়ার পরও ইলিশের উৎপাদন কমেছে। তবে মৎস কর্মকর্তারা বলছেন, এই প্রকল্প যদি চলমান না থাকে, উৎপাদন আরও কমবে। এ প্রসঙ্গে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ইলিশ আমাদের জাতীয় মাছ এবং জিআই পণ্য। সে কারণে ইলিশের চাহিদার ওপর চাপও বেশি। কিন্তু দিন দিন ইলিশের উৎপাদন ও আকার কমছে। এ জন্য আমাদের নদ-নদীর পাশাপাশি সাগরে ইলিশ রক্ষায় জোর দিতে হবে। আর এ জন্য ইলিশ রক্ষায় নতুন করে বড় আকারের প্রকল্পের বিকল্প নেই।’ তিনি বলেন, নতুন প্রকল্পের আওতায় নদী দূষণ, ভরাট এবং সাগরে ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে নানা কর্মকৌশলের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

যা করা হয় প্রকল্প থেকে

ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের পরিচালক এমদাদুল হক জানান, তাঁরা শেষ চার বছরে মা ইলিশ রক্ষায় ৬ হাজার ৫৬টি অভিযান, ৮ হাজার কম্বিং অভিযান এবং জাটকা রক্ষায় ১৯ হাজার অভিযান চালিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে বরিশাল জেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. হাদিউজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় আমাদের এত অভিযান চলত। ২২ দিনের মা ইলিশ রক্ষা অভিযানকালে হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জের মতো বড় উপজেলায় ২৫-৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হতো এ প্রকল্পের মাধ্যমে।’

এসব অভিযানকালে প্রতিটি বড় স্পিডবোটে ঘণ্টায় ৫০-৬০ লিটার তেল লাগে। এ খরচও মিটত ওই প্রকল্পে। এ ছাড়া জেলেদের সহায়তা, নৌ পুলিশ, প্রশাসন, কোস্ট গার্ডকে অভিযানকালে বরাদ্দ দেওয়াও হতো এ প্রকল্পের আওতায়। হাদিউজ্জামান বলেন, প্রকল্প না থাকলে হয়তো সরকার রাজস্ব খাত দিয়ে চালাবে। কিন্তু তা চলমান রাখা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়বে।

হতাশায় জেলেরা

এদিকে ইলিশ না পেয়ে হতাশ জেলেরা। মেঘনা তীরবর্তী উলানীয়ার জেলে তোফায়েল হোসেন বলেন, মাছ ধরে এখন আর সংসার চলে না। কেননা গত দু দিন ধরে মেঘনায় নেমে ইলিশের দেখা মেলেনি। তিনি মনে করেন, সরকার সহায়তা না করলে জাল, বোট তৈরি করে নদীতে মাছ ধরা সম্ভব না।

বরিশাল সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের কালাবদর নদীতে এক যুগ ধরে মাছ ধরেন জেলে ছালাম। তিনি জানান, জাল নিয়ে নদীতে নামলেই যে মাছ পাওয়া যাবে, সেই আশা নেই। নদীতে ইলিশ খুব কম পাচ্ছেন। ইলিশের আহরণ ও উৎপাদন বাড়াতে জাটকা ধরা যেমন বন্ধ করতে হবে, তেমনি সরকারকে জেলেদের সহায়তা করতে হবে।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজেস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ড. হাফিজ আশরাফুল হক আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমাদের নদী মরে গেছে, চ্যানেল কমে গেছে। ইলিশ গভীর জলের মাছ। পানিই নাই, তাহলে ইলিশ কী করে বিচরণ করবে। নদীতে তো স্রোতও কমে গেছে। তা ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নদীর পানির তাপমাত্রা বাড়ছে। এসব কারণে ইলিশের উৎপাদন কমে যাচ্ছে এবং আকারও ছোট হচ্ছে।’ তিনি মনে করেন, ইলিশ সম্পদের উন্নয়নে শুধু প্রকল্প নিলেই হবে না। উন্মুক্ত পরিবেশে প্রাকৃতিকভাবে ইলিশকে বিচরণের সুযোগ দিতে হবে।

এআই দিয়ে আর্জেন্টিনার জার্সি বদলে ব্রাজিলের জার্সি পরাল পুলিশ, পরে শোকজ

মুলাদীতে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পথচারী নিহত

আগৈলঝাড়ায় ব্রিজে রডের পরিবর্তে বাঁশ, ভেঙে দিল প্রশাসন

অপহরণ মামলা করিয়েছিলেন স্ত্রী, ঘরের মাটি খুঁড়ে স্বামীর লাশ উদ্ধারের পর নিজেই গ্রেপ্তার

দুই বোনের দোকান ভাঙচুর, ছাত্রদলের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের বিক্ষোভ

আগৈলঝাড়ায় ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি, ৩৮ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ

রেলপথসহ ৬ দফা দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন

বরিশালে অতিরিক্ত ভাড়ার অভিযোগে ২০০ থ্রি-হুইলার আটক করল শিক্ষার্থীরা

কাজের তিন দিন পরেই হাতের টানে উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং

কৃষকের হাত ও চোখ বেঁধে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, অপহরণ মামলা