আদালতের নির্দেশে জমির দখল ফিরে পেয়েছিলেন বরগুনার আমতলী উপজেলার পশ্চিম কলাগাছিয়া গ্রামের অহেদ মুসুল্লী। সেই জমি চাষ করে তিনি ধানের চারাও রোপণ করেন। কিন্তু পরদিন সকালে গিয়ে দেখতে পান রাতের আঁধারে তুলে ফেলা হয়েছে সেই ধানের চারা। অভিযোগ উঠেছে, গুলিশাখালী ইউনিয়নের নিষিদ্ধ ঘোষিত ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. আলতাফ আকন, সেলিম আকন ও তাদের লোকজন এ কাজ করেছেন। প্রতিবাদ করায় তারা জমির মালিক বৃদ্ধ অহেদ মুসুল্লী ও তার লোকজনকে দুই দিন নিজ নিজ বাড়িতে আটকে রাখেন। এ ঘটনায় গতকাল রোববার রাতে আমতলী থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী পক্ষের ভাষ্য, পশ্চিম কলাগাছিয়া গ্রামের অহেদ মুসুল্লী ও তার চার ভাই পৈত্রিক সূত্রে ৪.১৫ শতাংশ জমির মালিক। তারা দাবি করেন, ওই জমি শত বছর ধরে তারা ভোগদখল করে আসছেন।
অহেদ মুসুল্লীর অভিযোগ, ২০২১ সালে গুলিশাখালী ইউনিয়নের নিষিদ্ধ ঘোষিত ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. আলতাফ আকন, সেলিম আকন, খবির আকন ও দেলোয়ার আকন সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে জোরপূর্বক জমিটি দখল করেন। পরে তিনি বরগুনা জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন।
অহেদ মুসুল্লী বলেন, মামলায় তাদের পক্ষে রায় হলেও আদালতের আদেশ অমান্য করে প্রতিপক্ষ জমি ভোগদখল করতে থাকে। গত বৃহস্পতিবার বরগুনা জজ আদালতের বিচারক জমিটি অহেদ মুসুল্লীদের চাষাবাদের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ পেয়ে গত শুক্রবার জমিতে চাষাবাদ শেষে ধানের চারা রোপণ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, শুক্রবার রাতেই আলতাফ আকন ও তার লোকজন রোপণ করা ধানের চারা তুলে ফেলেন। শনিবার সকালে বিষয়টি দেখে অহেদ মুসুল্লীর লোকজন প্রতিবাদ করলে প্রতিপক্ষ ক্ষিপ্ত হয়।
অহেদ মুসুল্লীর আরও অভিযোগ, প্রতিপক্ষের লোকজন গত দুই দিন ধরে তাদেরকে নিজ বাড়িতে জিম্মি করে রাখেন এবং বাইরে বের হলে মেরে ফেলার হুমকি দেন। পরে গতকাল রোববার রাতে অহেদ মুসুল্লীর ভাই ছালাম মুসুল্লী পালিয়ে গিয়ে আমতলী থানায় অভিযোগ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, অহেদ মুসুল্লীর জমি সেলিম আকন, আলতাফ আকন ও তাদের লোকজন জোরপূর্বক দখল করে গত পাঁচ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছেন। আদালতের আদেশ পাওয়ার পর গত শুক্রবার অহেদ মুসুল্লীর লোকজন সেখানে চাষাবাদ করে ধানের চারা রোপণ করেন। পরে রাতের আঁধারে সেই চারা তুলে ফেলা হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আলতাফ আকন বলেন, `ওই জমি আমাদের। আমাদের জমি আমরা চাষাবাদ করেছি।' আদালতের আদেশের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, `অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'