বরগুনার বেতাগীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের আয়োজনে প্যান্ডেল সাজিয়ে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান হয়েছে। উপজেলা ছাত্রলীগ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপজেলা ও জেলার প্রায় পাঁচ শতাধিক বর্তমান ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী অংশ নেন। গত রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের সবুজ কানন মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ঈদ পুনর্মিলনীর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল কবির রেজা। স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, প্রশাসনের গোপন সহায়তায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এমন কর্মসূচি পালন করেছে।
বেতাগী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সিফাত সিকদার তাঁর ফেসবুকে ওই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের ৪ মিনিটের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করেন। এতে তিনি লিখেছেন ‘ছাত্রলীগ ঐক্যবদ্ধ, ছাত্রলীগ অপ্রতিরোধ্য’।
ওই ভিডিওতে দেখা যায়, প্যান্ডেল করে চেয়ার-টেবিল সাজিয়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের জন্য খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে মোবাইল ফোনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ঈদ শুভেচ্ছা জানান বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌশিকুর রহমান ইমরান, বেতাগী উপজেলার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাকসুদুর রহমান ফোরকান, বেতাগী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম গোলাম কবির।
জানা গেছে, রোববার ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিন বেতাগী উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে সবুজ কানন মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে প্যান্ডেল সাজিয়ে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন বেতাগী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহেল আমিন হাওলাদার ও সাধারণ সম্পাদক সিফাত শিকদার। এই অনুষ্ঠানে বেতাগী পৌরসভাসহ উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ৫ শতাধিক ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। বেলা ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি চলে। এ সময় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের জেলা শাখার বিভিন্ন নেতা-কর্মীকে উপজেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বেতাগী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সিফাত সিকদার বলেন, ‘দীর্ঘদিন নেতা-কর্মীদের নিয়ে একসঙ্গে বসা হয়নি। তাই তাদের উজ্জীবিত করতে উপজেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে এই ঈদ পুনর্মিলনীর আয়োজন করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও আয়োজনটি সফল করায় সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব হুমায়ূন হাসান শাহীন বলেন, ‘বেতাগীর ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা কীভাবে প্রকাশ্যে এসে এমন একটি আয়োজন করেছেন—এটা আমাদের বোধগম্য নয়। ছাত্রলীগের এমন অনুষ্ঠানে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা রয়েছে বলে আমরা মনে করি। এ ছাড়া আমাদের দলীয় নেতা-কর্মীদের সহযোগিতা থাকতে পারে বলে মনে হচ্ছে। বিষয়টি আমরা জোরালোভাবে দেখব।’
বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুন অর রশিদ দাবি করেন, বেতাগী উপজেলা ছাত্রলীগের যে অনুষ্ঠানের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে, তা অনেক আগের ভিডিও।