টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন জেলেরা। এরই মধ্যে ট্রলার ধোয়া-মোছার কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে দেলোয়ার হোসেন (৫০) নামে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় বাচ্চু (৫০) নামে আরও এক জেলে আহত হয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা সদর ইউনিয়নের বাদুরতলা খালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আনসার খানের মালিকানাধীন এফবি সিমা-৩ ট্রলারে কাজ করার সময় বিদ্যুতায়িত হন তাঁরা। পরে খালের পানি থেকে দেলোয়ারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী।
নিহত দেলোয়ার হোসেন বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের চরমোনাই গ্রামের জয়নাল খলিফার ছেলে। প্রায় তিন মাস আগে তিনি পাথরঘাটায় এসে ট্রলারের জেলে শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। আহত বাচ্চু পাথরঘাটা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাজেম হাওলাদারের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মা ইলিশ সংরক্ষণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় আজ মধ্যরাতে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন জেলেরা। এ জন্য এফবি সিমা-৩ ট্রলারটি ধোয়া-মোছা করছিলেন তাঁরা।
এ সময় খালের পাড়ের একটি ঘর থেকে সাবমারসিবল পাম্প চালানোর জন্য বিদ্যুতের সংযোগ নেওয়া হয়। কাজ করার সময় দেলোয়ার বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে খালের পানিতে পড়ে যান। একই ঘটনায় বাচ্চুও বিদ্যুতায়িত হয়ে আহত হন।
পরে স্থানীয় বাসিন্দারা খালে তল্লাশি চালিয়ে দেলোয়ারকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন। আহত বাচ্চুকে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
ট্রলারের মাঝি জয়নাল হোসেন জানান, তাঁরা প্রতি বছর জেলেদের দাদন দিয়ে ট্রলারে মাছ ধরতে নিয়ে যান। দেলোয়ারও বরিশালের চরমোনাই থেকে পাথরঘাটায় এসে দাদন নিয়ে ট্রলারের শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। দুর্ঘটনার খবর তাঁর পরিবারকে জানানো হয়েছে।
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বরগুনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।