বরগুনায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার হলে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করার অভিযোগে এক যুবলীগ নেতার স্ত্রীসহ দুই চাকরিপ্রার্থীকে আটক করেছে পুলিশ।
গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বরগুনা শহরের পৃথক দুটি পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে তাঁদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন—বরগুনা সরকারি কলেজের ২ নম্বর কেন্দ্রের ৩০২ নম্বর কক্ষের পরীক্ষার্থী যুবলীগ নেতার স্ত্রী ইয়ামনি এবং আইডিয়াল কলেজ কেন্দ্রের ১০৭ নম্বর কক্ষের পরীক্ষার্থী রাসেল মিয়া। ইয়ামনি যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন রাসেলের স্ত্রী। তাঁর কাছ থেকে কমিউনিকেটিভ ইলেকট্রনিক ডিভাইস (মাস্টার কার্ডের মতো দেখতে) একটি পিন ও সিম উদ্ধার করা হয়।
পরীক্ষা দেওয়ার সময় গতিবিধি সন্দেহজনক হলে তল্লাশি করে ইয়ামনির কাছ থেকে একটি ডিভাইস ও কান থেকে একটি ডিভাইস এবং রাসেল মিয়ার কাছ থেকে একটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।
বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, গোয়েন্দা সংস্থা থেকে প্রাপ্ত গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়। এরই অংশ হিসেবে ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ দুই পরীক্ষার্থীকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
তিনি আরও বলেন, আটক রাসেল মিয়াকে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাফর আরিফ চৌধুরী ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন। অপর পরীক্ষার্থী ইয়ামনির বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইয়ামনি টিকটকে বেশ সক্রিয়। তাঁর স্বামী ইসমাইল হোসেন বরগুনা সদর উপজেলার আয়লাপাতাকাটা ইউনিয়নের যুবলীগের আহ্বায়ক। তিনি দক্ষিণ ইটবাড়িয়া গ্রামের আবদুস সালাম মুহুরির বড় ছেলে।
এ ঘটনার পর থেকে স্ত্রী আটক হওয়ার পর থেকে ইসমাইল হোসেন ফোন বন্ধ রেখেছেন। বরগুনা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সালেহ বলেন, ‘এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।’
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, ‘ডিভাইসসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে। একজনকে ৭ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং এক নারীর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।’