হোম > সারা দেশ > বান্দরবান

রুমায় কেওক্রাডংয়ে আটকা পড়েছেন অর্ধশতাধিক পর্যটক

বান্দরবান প্রতিনিধি

বান্দরবানের সাঙ্গু নদীতে বেড়েছে পানি। ছবি: আজকের পত্রিকা

টানা প্রবল বর্ষণের কারণে বান্দরবানে পাহাড়ধস ও বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে থানচি উপজেলার নাফাখুম ও রেমাক্রীতে আটকে পড়া পর্যটকেরা নিরাপদে সদরে ফিরলেও রুমা উপজেলার কেওক্রাডংয়ে অর্ধশতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানা ভারী বর্ষণে জেলার সাত উপজেলায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করা প্রায় ৩০ হাজার পরিবার পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে তৎপরতা শুরু করা হয়েছে।

বান্দরবানের সদর উপজেলার কালাঘাটা, কাসেমপাড়া, মেম্বারপাড়া, ইসলামপুর, বনরূপাপাড়া, হাফেজঘোনা, বাসস্টেশন এলাকা, স্টেডিয়াম এলাকা, নোয়াপাড়া, কসাইপাড়সহ বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ের পাদদেশে কয়েক হাজার পরিবার অপরিকল্পিতভাবে বসবাস করছে। তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে জেলা শহরে মাইকিং করেছে প্রশাসন।

রুমার স্থানীয় ট্যুরিস্ট গাইড রুকন উদ্দিন বলেন, বগালেক থেকে কেওক্রাডং যাওয়ার পথে পেঁপেবাগান এলাকায় বিশাল পাহাড় ধসে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে অনেক পর্যটক আটকা পড়েছেন।

থানচির ট্যুরিস্ট গাইড মামুনর রশিদ বলেন, থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে একটি গাইড প্রতিনিধিদল আজ মঙ্গলবার লাইফ জ্যাকেট ও ট্রলার নিয়ে গিয়ে রেমাক্রী এবং থানচিতে আটকে পড়া সব পর্যটককে থানচি সদরে নিয়ে আসে।

থানচি উপজেলায় বিভিন্ন হোটেল ও কটেজে আটকা পড়া পর্যটকেরা অর্থসংকটে পড়ায় স্থানীয় কটেজের মালিকেরা তাঁদের কাছ থেকে ভাড়া না নেওয়া ও খাবারের জন্য অর্ধেক বিল রাখছেন বলে জানান শীলগিরি রিসোর্টের মালিক মং নু মার্মা।

আজ জেলার আলীকদম-লামা সড়কের পানি কমে যাওয়ার কারণে লামা-আলীকদমের সড়ক যোগাযোগ চালু হয়েছে। অন্যদিকে আলীকদমের পোয়ামুহুরী খাল ও লামার মাতামুহুরী নদীতে পানি কমছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃষ্টি অব্যাহত না থাকলে দুই উপজেলার নিম্নাঞ্চল থেকে পানি নেমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। থানচিতে নৌ যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

জেলার বিশেষ করে রুমা, থানচি, লামা ও রোয়াংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেলেও হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

গতকাল সোমবার রাত থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। আজ সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবানে ১২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে জেলা আবহাওয়া অফিস। তবে বেলা ৩টার দিকে এর পরিমাণ ছিল ১৪৯ মিলিমিটার। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে আগামী শুক্রবার (১০ জুলাই) পর্যন্ত বান্দরবানের সাতটি উপজেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের যাতায়াতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন।

জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস জানিয়েছেন, পাহাড়ধস ও প্রাণহানি ঠেকাতে সাতটি উপজেলায় সতর্ক করতে মাইকিংয়ের পাশাপাশি ১২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং চিকিৎসাসেবা দিতে আটটি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বান্দরবানে ভারী বর্ষণ: থানচির বিভিন্ন এলাকা থেকে আটকে পড়া শতাধিক পর্যটক সদরে

বান্দরবানে টানা বৃষ্টিতে বন্যা ও পাহাড়ধসের শঙ্কা, ৭ উপজেলায় ২২০ আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত

শুক্রবার পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা

ভারী বৃষ্টিতে সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি, থানচিতে শতাধিক পর্যটক আটকা

কৃষক দল নেতার স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

বান্দরবানে জাতীয় যুবশক্তির ১০ নেতা-কর্মীর পদত্যাগ

নাইক্ষ্যংছড়িতে ৬ রাবার শ্রমিককে অপহরণ

সেনা অভিযানে অস্ত্র-গুলি উদ্ধার, কেএনএফের সক্রিয় সদস্য আটক

বান্দরবানের প্রাথমিক বিদ্যালয়: ১৭৪ স্কুলে ভারপ্রাপ্তের ভার

নাইক্ষ্যংছড়িতে গয়াল কেন্দ্র পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী টুকু