সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার ও বনকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিষ বিক্রেতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. সোহেল শেখ (৩৬), তাঁর স্ত্রী লাইজু বেগম (৩২) ও বিষ বিক্রেতা মো. সেলিম মিয়া (৫২)। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের নির্দেশনার পর তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে গত ২ নভেম্বর সুন্দরবনের ছোট জোংড়া খালে বন বিভাগের টহল দলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ওই দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জোংড়া বন টহল ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মতিউর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে টহলে যান। সেখানে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরার অভিযোগে একটি নৌকা জব্দের চেষ্টা করেন। এ সময় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কয়েকজন তাঁদের ওপর হামলা চালান। এতে মতিউর রহমান ও নৌকার চালক মো. এরশাদ আলী আহত হন।
এ ঘটনায় মতিউর রহমান বাদী হয়ে সোহেল, তাঁর স্ত্রী লাইজু, ইউনুস আলী, নূপুর ও অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনের বিরুদ্ধে দাকোপ থানায় মামলা করেন। গত ৪ নভেম্বর মামলাটি নথিভুক্ত হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার রাতে মোংলা ও দাকোপ থানা-পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে জয়মনি এলাকা থেকে সোহেল ও লাইজুকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা মোংলা বাজারের সার ও কীটনাশক বিক্রেতা সেলিম মিয়ার দোকান থেকে মাছ ধরার বিষ ক্রয়ের তথ্য দেন। পরে সেলিমকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
দাকোপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, আজ দুপুরে গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার ও বিষ সরবরাহের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ অপরাধে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।