বাংলা বর্ষপঞ্জির সবচেয়ে বড় উৎসব বর্ষবরণের দিন পয়লা বৈশাখ। এই উৎসব ঘিরে প্রতিবারের মতো এবারও দেশীয় পোশাকের দোকানগুলো নতুন পসরায় সেজে উঠেছে। কিন্তু আশানুরূপ ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈশাখী বাজারে ক্রেতার সমাগম কমেছে। এবারও এর ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে না।
দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলোর সংগঠন ফ্যাশন উদ্যোগ বা ফ্যাশন এন্ট্রাপ্রেনিউরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এফইএবি) সভাপতি আজহারুল হক আজাদ গতকাল শুক্রবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘২০২০ সালের করোনার পর থেকেই বৈশাখের কেনাকাটা সেভাবে হচ্ছে না। রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ঈদ বা রোজার সময় নববর্ষ পড়াসহ নানা কারণে সমস্যা হচ্ছিল। এবার আমরা আশা করেছিলাম, চিত্রটা একটু হলেও বদলাবে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে মনে হচ্ছে, লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বিক্রি ৪০-৫০ শতাংশ কম।’
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে কয়েক দশক ধরে দেশে নতুন পোশাক, খাদ্যসামগ্রী, ভ্রমণসহ নানা খাতে সংগঠিত অর্থনৈতিক কার্যক্রম হয়ে আসছে। এটি দিনে দিনে আকারে অনেক বেড়েছে। মিডিয়ায় এই আর্থিক কর্মকাণ্ডের একটি নামও দেওয়া হয়েছে—বৈশাখের অর্থনীতি।
ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছরও পয়লা বৈশাখ ছিল ঈদের মাত্র তিন দিন পর। তা ছাড়া ছিল রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাঝুঁকি। তবে এবারের প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন। দীর্ঘ অস্থিরতা কাটিয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল। আর পয়লা বৈশাখও পড়েছে ঈদের কয়েক সপ্তাহ পরে। কিন্তু ভালো ব্যবসা করার আশা পূরণের লক্ষণ দেখছেন না ব্যবসায়ীরা।
রাজধানীর বিভিন্ন বিপণিবিতান ও দেশীয় ফ্যাশন হাউস ঘুরে দেখা গেছে, পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে লাল-সাদা থিমের শাড়ি, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, কুর্তি, শিশুদের পোশাকসহ নানা ধরনের কালেকশন আনা হয়েছে। কিন্তু আয়োজনের তুলনায় ক্রেতার উপস্থিতি নিতান্তই কম।
বসুন্ধরা সিটি বিপণিবিতানের রঙ বাংলাদেশ আউটলেটের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মাসুদ রানা বললেন, ‘এমনিতে বৈশাখের আগে এ সময় আমরা দম ফেলার ফুরসত পাই না। অথচ এবার কাস্টমার নাই। যুদ্ধ বা হাম পরিস্থিতির কারণে এমন হতে পারে। তা ছাড়া ৭টার মধ্যে শোরুম বন্ধের সময়সীমাও একটা বড় কারণ।’
আজিজ সুপার মার্কেটের বিসর্গ ফ্যাশনের মালিক স্বপন কুমার শিকদার বলেন, ‘এবার বিক্রি গত বছরের তুলনায় ভালো হলেও ২০২০ সালের আগের তুলনায় অনেক কম।’
বসুন্ধরা সিটির বিপণিবিতানে কেনাকাটা করতে আসা গৃহিণী সিফাত আহমেদ বলেন, ‘আমার চার বছরের বাচ্চাকে হামের ভয়ে বাইরে বের করছি না। পয়লা বৈশাখেও বের হওয়ার ইচ্ছা নেই। তবে ঘরে বসে বৈশাখ উপলক্ষে ছবি তুলতে ওর জন্য জামা কিনতে এসেছি।’
সব মিলিয়ে ব্যবসায়ীরা এখন শেষ মুহূর্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। তাঁদের আশা, পয়লা বৈশাখের আগের দুদিন কিছুটা হলেও বিক্রি বাড়তে পারে।