হোম > সারা দেশ > গাইবান্ধা

জ্বালানি সংকটে বাড়ছে গাইবান্ধার চরাঞ্চলের কৃষকদের ভোগান্তি

আনোয়ার হোসেন শামীম, গাইবান্ধা

শ্যালো মেশিনে ভুট্টার খোসা ছড়াচ্ছেন চরের কৃষকেরা। গত বুধবার তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

দেশজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে গাইবান্ধার চরাঞ্চলেও। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন চরবাসী। জেলার সুন্দরগঞ্জ, সদর, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার নদীর বুকে জেগে ওঠা প্রায় ১৬৫টি চরে বসবাস করে প্রায় চার লাখ মানুষ। তাদের অধিকাংশের প্রধান পেশা কৃষি।

এসব চরে ভুট্টা, লাল মরিচ, বাদাম, মিষ্টি কুমড়া, পাটসহ নানা অর্থকরী ফসল উৎপাদন হয়। তবে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় কৃষিকাজ থেকে শুরু করে যাতায়াত পর্যন্ত প্রায় সবকিছুতেই জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভর করতে হয়। সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকটে এসব এলাকায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন ফসলের ভরা মৌসুম। কৃষকেরা মরিচ তোলা, ভুট্টা মাড়াই, ফসল শুকানোসহ বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে অনেক জমি পানির অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে। নদীপারের খেয়াঘাটগুলোতেও মাঝিরা ভোগান্তিতে রয়েছেন।

চরবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় নদীবন্দর ও ঘাটগুলোতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে কৃষকদের ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরের শহরে গিয়ে পেট্রলপাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ—দুই-ই বাড়ছে। আবার নিয়ম অনুযায়ী বোতলে তেল বিক্রি নিষিদ্ধ থাকায় অনেক সময় পাম্প থেকেও তেল পাওয়া যাচ্ছে না।

ফুলছড়ি উপজেলার কোচখালী চরের কৃষক মজিবর রহমান বলেন, কয়েক দিন আগেও স্থানীয় ঘাট থেকেই সহজে তেল পাওয়া যেত। এখন সেই ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। প্রতিদিন কাজ ফেলে দুই লিটার তেলের জন্য গাইবান্ধা শহরে যেতে হচ্ছে। তবুও তেল পাওয়া যাবে কি না, তার নিশ্চয়তা নেই। এতে সেচ দিতে দেরি হচ্ছে এবং ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

চরের আরেক কৃষক আজিম উদ্দিন জানান, চলতি বছর আট বিঘা জমিতে আগাম জাতের ভুট্টা চাষ করেছেন তিনি। ভুট্টা প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাড়াই করতে হয়। কিন্তু তেল সংকটের কারণে মেশিন চালাতে পারছেন না। শহরের পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অনেক কষ্টে প্রতিদিন দুই লিটার তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার রসুলপুরের কৃষক হাসান আলী বলেন, তেল না থাকায় মরিচ, বেগুন ও ধানের জমিতে সেচ দিতে পারছেন না।

আরেক কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, নৌকা চালিয়ে নদী পাড়ি দিয়ে শহরে তেল আনতে যেতে হয়। যাতায়াতেই একটি দিন নষ্ট হয়ে যায়। তেলের দামও বেড়েছে, তার ওপর বহন খরচ যোগ হওয়ায় কৃষিকাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

পুরাতন ফুলছড়ির খেয়া ঘাটের নৌকাচালক তোজাম্মেল প্রামাণিক বলেন, ‘আগে চরের মানুষ মোটরসাইকেলে ঘাটে এসে মালামাল নিয়ে যাতায়াত করতেন। আমরা নৌকায় করে তাঁদের পার করে দিতাম। কিন্তু জ্বালানি তেলের সংকটে সেই যাতায়াত প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। শ্যালো মেশিনের জন্যও তেল পাওয়া যাচ্ছে না।’

বালাসী ঘাটের নৌকাচালক রবিউল ইসলাম বলেন, আগে ঘাটেই প্রয়োজনমতো তেল পাওয়া যেত। এখন শহরের পাম্প থেকে আনতে হয়। অনেক সময় জারকিনে তেল দেওয়া হয় না, তখন বাইরে থেকে বেশি দামে কিনতে হয়।

স্থানীয় গৃহিণী আসমা বেগম বলেন, বাচ্চা অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেওয়া খুব কঠিন হয়ে গেছে। কোনো যানবাহন পাওয়া যায় না। অনেক সময় বিপদে পড়তে হয়।

চর নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার কর্মীরা বলেন, চরাঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহের বিকল্পব্যবস্থা না থাকার সংকট দীর্ঘায়িত হলে কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাও আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।

স্থানীয়দের মতে, চরাঞ্চলের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিকুল ইসলাম বলেন, জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব তাঁদের নয়। তবে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী কৃষকেরা জ্বালানি তেল পাওয়ার কথা।

বগুড়ার শেরপুরে দুই দিনব্যাপী বিজ্ঞান মেলা শুরু

বাড়ীতে ড্রামভর্তি পেট্টোল রেখে গভীর রাতে ৩০০ টাকা লিটারে বিক্রি, দণ্ড

ছেলের লাঠির আঘাতে বাবা নিহত

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ট্রাক্টরচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে ৫ মাস বয়সী শিশুর মৃত্যু

মৃত্যুর পর রামেক পিআইসিইউতে সিট পেল নেহা, হামে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

বগুড়া-৬: ভোট শেষ হওয়ার আগেই ফলাফল শিটে স্বাক্ষরের অভিযোগ

শ্বশুরবাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আ.লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, আটক ২

মাদারীপুরে ঘুড়ি ওড়াতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে আহত শিশুটি মারা গেছে

শুক্রবার ২৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না রাজধানীর যেসব এলাকায়