চট্টগ্রাম নগরের চন্দনপুরা এলাকায় সাবেক সংসদ সদস্য ও ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমানের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনায় ব্যবহৃত সাবমেশিনগানসহ তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার ও বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদের তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, এসব আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে বিদেশি পিস্তল ও রিভলবার হলো পুলিশের, যা ২০২৪ সালে সিএমপির দুটি থানা থেকে লুট হয়েছিল।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টায় নগরের দামপাড়ায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় পুলিশ। এর আগে নগরের চকবাজার, পাঁচলাইশ, খুলশী ও বায়েজিদে দিনভর অভিযান চালিয়ে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ওরফে রিমন, মো. মনির ও মো. সায়েম নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আসামিদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী একটি এসএমজি, দুটি ম্যাগাজিন এবং ৫০টি গুলি; একটি বিদেশি রিভলবার ও ৯টি গুলি এবং একটি ব্রাজিলিয়ান টরাস (নাইন এমএম) পিস্তল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, গ্রেপ্তার আসামি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ওরফে রিমন সম্প্রতি চন্দনপুরায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে সংঘটিত গুলির ঘটনায় প্রধান পরিকল্পনাকারী ও সমন্বয়কারী হিসেবে ছিলেন। মূলত তিনি পর্দার অন্তরালে থেকে বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদের অস্ত্রভান্ডার নিয়ন্ত্রণ করাসহ সাজ্জাদ গ্রুপের চাঁদাবাজি এবং খুনের মুখ্য পরিকল্পনাকারী ও সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করতেন।
গ্রেপ্তার আসামিরা শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের নির্দেশে খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও বালুমহাল নিয়ন্ত্রণে সশস্ত্রভাবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা উদ্ধার করা তিনটি অস্ত্র ব্যবসায়ীর বাড়িতে সংঘটিত গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে জানিয়েছেন। তবে বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলে জানান অতিরিক্ত কমিশনার।
ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, উদ্ধার করা আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে রিভলবার ও পিস্তল নগরের ডবলমুরিং ও পাহাড়তলী থানা থেকে লুট করা হয়েছিল। আর সাবমেশিনগানটি ‘পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের’ কাছ থেকে কেনা হয়েছে।
ওয়াহিদুল হক আরও বলেন, চকবাজার থানা-পুলিশের একটি দল মঙ্গলবার কাইয়ুমকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে চকবাজার এলাকা থেকে থ্রি টু বোরের একটি বিদেশি রিভলবার ও ৯টি গুলি উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যে পাঁচলাইশ থানা-পুলিশের একটি দল ব্রাজিলিয়ান টরাস নাইন এমএম পিস্তল এবং একটি মোটর সাইকেলসহ মনিরকে গ্রেপ্তার করে। মনিরের দেওয়া তথ্যে বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকা থেকে সায়েমকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁর দেখানোমতে খুলশী থানা এলাকা থেকে এসএমজি, দুটি ম্যাগাজিন এবং ৫০টি গুলি উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে চট্টগ্রাম নগরের চন্দনপুরায় পুলিশি পাহারায় থাকা ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমানের বাসা লক্ষ্য করে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর দাবি, কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা এই গুলি ছুড়েছে।