হোম > সারা দেশ > খুলনা

খুলনা-দর্শনা রেললাইন: অসমাপ্ত রেখেই প্রকল্প শেষ, গচ্চা ২২ কোটি টাকা

তৌফিকুল ইসলাম, ঢাকা 

ছবি: সংগৃহীত

উন্নত যাত্রীসেবা, পণ্য পরিবহনে সীমাবদ্ধতা দূর করতে ২০১৮ সালে খুলনা-দর্শনা জংশন সেকশনে সিগন্যালসহ ডাবল লাইন রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। প্রকল্পের অধিকাংশ ভারতীয় এক্সিম ব্যাংকের ঋণে (এলওসি) হওয়ার কথা ছিল। তবে সাত বছর পার হলেও সমীক্ষা ও নকশা প্রণয়ন ছাড়া মাঠপর্যায়ে কিছুই হয়নি এই প্রকল্পের। এর মধ্যেই ভারতীয় পক্ষ অর্থায়নে আগ্রহ হারিয়ে ফেলায় গত বছর প্রকল্পের ঋণ বাতিল হয়। এই পরিস্থিতিতে নতুন অর্থায়ন না খুঁজেই রেলপথ মন্ত্রণালয় উল্টো প্রকল্পটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে ২২ কোটি ৫২ লাখ ১১ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

প্রকল্প সূত্র জানায়, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ অর্থায়নে আগ্রহ না দেখানোয় খুলনা-দর্শনা জংশন সেকশনে সিগন্যালসহ ডাবল লাইন রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটি ভারতীয় ঋণ তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ২০২৫ সালের ৫ মার্চ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত ২৩তম দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে উভয় পক্ষ একমত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর প্রকল্পের পরামর্শক সেবা কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। গত ৬ মে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রকল্পটি অসমাপ্ত রেখেই শেষ করার সিদ্ধান্ত হয়। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গত ২৩ ডিসেম্বর সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, শুরুতে প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। এরপর দুই দফায় ২০২৩ সালে এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। সাত বছরে প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ৫.২০ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ০.৬৪ শতাংশ। এ সময়ে মাঠপর্যায়ে রেললাইন বসানোর কোনো কাজ হয়নি। তবে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, নকশা প্রণয়ন করা হয়েছিল। এ ছাড়া দরপত্র দাখিল করা হয়েছিল। এসব কাজে ২২ কোটি ৫২ লাখ ১১ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের অর্থায়ন ছিল ৬ কোটি ৪৮ লাখ ৩৮ হাজার টাকা এবং ভারতীয় ঋণ ছিল ১৬ কোটি ৪ লাখ টাকা। খরচ হওয়া ২২ কোটি টাকার মধ্যে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের বিল ছিল ১৬ কোটি ৪ লাখ টাকা, ৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা আইটি ভ্যাট হিসেবে ব্যয় হয়েছে এবং বাকি টাকা বেতনসহ অন্যান্য খাতে খরচ হয়েছে।

এই বিষয়ে প্রকল্পের পরিচালক মনিরুল ইসলাম ফিরোজী বলেন, ‘সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকল্পটি অসমাপ্ত রেখেই শেষ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রকল্পটি সমাপ্ত করতে সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (আরডিপিপি) ইতিমধ্যেই পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেই শেষ হয়েছে। প্রকল্পের ব্যয়ে যে ঋণ নেওয়া হয়েছে, তা পরিশোধ করতে হবে।’

বর্তমানে খুলনা-দর্শনা সেকশনে সিঙ্গেল ব্রডগেজ লাইন রয়েছে। সিঙ্গেল লাইনের কারণে পণ্য ও যাত্রী চাহিদার তুলনায় কার্যক্ষমতা অনেক কম। এ জন্য প্রায় ১২৬ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণ করে ডাবল লাইনে উন্নীতের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। শুরুতে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩ হাজার ৫০৬ কোটি ৭৫ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে ২ হাজার ৬৮৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ভারতীয় এক্সিম ব্যাংক এবং ৮১৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা বাংলাদেশ সরকার বহন করার কথা ছিল। তবে নকশায় ব্যয় আরও বেড়ে গেলে প্রকল্পে জটিলতা সৃষ্টি হয়।

সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হতো ১২৬.২৫ কিলোমিটার ব্রডগেজ মেইন লাইন এবং ১৪.৪০ কিলোমিটার লুপ লাইন। ১৬টি স্টেশন পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার, ৩৭টি প্ল্যাটফর্মের মধ্যে ৫টি নতুন এবং ১২টি পুনর্নির্মাণ করা। চারটি গার্ডার ও ১৪৩টি আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ, ১৮টি স্টেশনে সিবিআই সিগন্যাল চালু, ১৭টি ফুটওভার ব্রিজ এবং ১১০ একর ভূমি অধিগ্রহণ অন্তর্ভুক্ত ছিল।

রেল কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল ঢাকা-খুলনা ও খুলনা-চিলাহাটি করিডরে রেল চলাচলের সক্ষমতা বাড়ানো। নিরাপদ ও আরামদায়ক পরিবহন নিশ্চিত করা, মালামাল পরিবহনে সীমাবদ্ধতা দূর করা এবং ব্রডগেজ কনটেইনার চালু করে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বাড়ানো। পাশাপাশি উন্নত যাত্রীসেবা এবং রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখা।

প্রকল্পটি অসমাপ্ত রেখেই শেষ করার বিষয়ে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে কাজ শুরুর আগেই খুলনা-দর্শনা রেললাইন প্রকল্প বাতিল হওয়া প্রকল্প পরিকল্পনা ও অর্থায়ন ব্যবস্থার বড় ধরনের দুর্বলতা তুলে ধরে। দীর্ঘ সময় ধরে শুধু সমীক্ষা ও নকশায় কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে প্রকল্প অসমাপ্ত রাখা জনস্বার্থের জন্য উদ্বেগজনক। গুরুত্বপূর্ণ এই রেল করিডরে সক্ষমতা বাড়াতে বিকল্প অর্থায়ন ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার দিকে সরকারের নজর দেওয়া উচিত।’

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ইজারা: সংকট কাটছে না বন্দরের

গোপালগঞ্জে স্বতন্ত্রই বাধা দলীয় প্রার্থীদের

বরিশালের ২১ আসন: বিএনপির ঘাঁটিতে বড় ভাগ বসাতে পারে জামায়াত

নড়াইল-১ আসন: আওয়ামী লীগের ভোট টানতে মরিয়া সবাই

ফুলের রাজ্যে ভোটের ঝড়ের শঙ্কায় চাষিরা

চাঁদপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর গাড়িবহরে হামলা, আহত ২০

খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবক নিহত

রাজধানীর শ্যামপুরে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় নিরাপত্তাকর্মী নিহত

ফতুল্লায় শাশুড়িকে হত্যার দায়ে জামাতার মৃত্যুদণ্ড

মুন্সিগঞ্জে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত ৩