রংপুরের গঙ্গাচড়ায় প্রায় ৪০ মিটার লম্বা একটি সড়কের ইট খুলে ট্রাকে করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সময় বাধা দিয়েছে এলাকাবাসী। আজ মঙ্গলবার সকালে বড়বিল ইউনিয়নের মন্থনা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো প্রকাশ্য টেন্ডার ছাড়াই সরকারি রাস্তার ইট অপসারণের চেষ্টা করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামসুল হুদা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে কয়েকজন শ্রমিক ট্রাকে ইট তুলছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তাঁরা জানান, চেয়ারম্যান সামসুল হুদার নির্দেশে ইটগুলো নেওয়া হচ্ছে এবং এগুলো ইউনিয়ন পরিষদে রাখা হবে। ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) ফোন দেন। তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানালে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বাজারের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী মিলে ট্রাকটি আটক করেন। পরে শ্রমিকেরা ট্রাক থেকে ইট নামিয়ে রেখে চলে যান।
হাটের ইজারাদার রুবেল মিয়া বলেন, ‘চেয়ারম্যান সামসুল হুদা আগের দিন বাজারে এসে ইট তোলার কথা বলেন। কোথায় যাবে জানতে চাইলে একেক সময় একেক কথা বলেছেন—কখনো বলেছেন উপজেলায় যাবে, আবার কখনো বলেছেন মসজিদে দেওয়া হবে।’
মন্থনা বাজার দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মারুফ মিয়া বলেন, শ্রমিকেরা বলেছে টেন্ডার হয়েছে। কিন্তু কারা টেন্ডার পেয়েছে জানতে চাইলে কোনো স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি। পরে চেয়ারম্যান একটি কাগজ পাঠালেও সেটি আমাদের কাছে সঠিক মনে হয়নি।
এলজিইডির একটি হিসাবপত্রে দেখা যায়, মন্থনা বাজারের ওই সড়ক থেকে উদ্ধারযোগ্য পুরোনো ইটের আনুমানিক মূল্য ৩৩ হাজার ৯০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে এজিং, ব্রিক ফ্ল্যাট সোলিং ও হেরিংবোন বন্ড মিলিয়ে হাজারের বেশি ইট রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের ব্যাপারে বড়বিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামসুল হুদা আজকের পত্রিকা বলেন, “সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তিন মাস আগে নোটিশ টাঙিয়ে নিলাম দেওয়া হয়েছে। নিলামের টাকা জমা হয়েছে। কিছু ব্যক্তি বাজার থেকে আমার কাছে ৫ হাজার টাকা দাবি করেছিল, না দেওয়ায় তারা এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে। আর আমি কেন আমার লোকজন পাঠাব? যারা টেন্ডারের ইটগুলো কিনেছে, তারাই তাদের লোকজন দিয়ে ইটগুলো তুলতে গেছে।’ পরে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে চেয়ারম্যান টেন্ডারের দাবি করে কিছু কাগজপত্রও দেখান। এসব কাগজে ইউনিয়ন পরিষদের নোটিশ ও একটি ব্যাংক রশিদ দেখা যায়।
এদিকে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) শাহ মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দপ্তর থেকে রাস্তার ইট বিক্রির জন্য কোনো টেন্ডার দেওয়া হয়নি। তবে ওই স্থানে নতুন করে সিসি ঢালাই কাজের টেন্ডার হয়েছে।’
সড়কের ইট খুলে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও জেসমিন আক্তার বলেন, যদি এমন হয়ে থাকে তাহলে ঘটনাটি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।