৭৪ লাখ টাকাসহ আটক ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াত ইসলামীর আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানকে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁর ইসিজিতে সমস্যা ধরা পড়েছে এবং হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কায় করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) রাখা হয়েছে।
এর আগে আজ বুধবার সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ৭৪ লাখ টাকাসহ জামায়াত নেতা বেলাল উদ্দিনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তিনি একটি বেসরকারি বিমানে ঢাকা থেকে সৈয়দপুরে আসেন।
পরে জিজ্ঞাসাবাদের সময় বেলাল উদ্দিন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে সৈয়দপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিকেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে রামেক হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে কার্ডিওলজি বিভাগের ১ নম্বর বেডে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান হরিপদ রায় বলেন, বুকের ব্যথা নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁর ইসিজিতে সমস্যা হয়েছে। তিনি ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে, এরপরই বলা যাবে তাঁর প্রকৃত শারীরিক অবস্থা।
তাঁর চিকিৎসায় থাকা রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম বলেন, তিনি এখনো শঙ্কামুক্ত নন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল আসার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে তাঁর এনজিওগ্রাম করতে হবে কি না। তবে মনে হচ্ছে, তাঁর হার্ট অ্যাটাক হয়েছে।
এদিকে রামেক হাসপাতালে বেলাল উদ্দিনকে দেখতে আসেন রংপুর মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি কে এম আনোয়ারুল হক কাজল। এ সময় তিনি বলেন, রাজনীতির পাশাপাশি তিনি (বেলাল) ব্যবসায়ী। ব্যবসায়িক কারণে তিনি টাকা পরিবহন করতেই পারেন। তিনি কোনো এলাকায় জনসম্মুখে যাননি টাকাপয়সা নিয়ে। বিমানে নিয়মকানুন মেনেই আনছিলেন।
প্রশাসন সেখানে অবহিত ছিল। কিন্তু একটি বিশেষ বিভাগ তাঁকে আটক করেছে এবং বিভিন্ন প্রশ্ন ও অমানুষিক টর্চার করার কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে তিনি সিসিইউতে ভর্তি রয়েছেন।
এ বিষয়ে নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রাপ্ত টাকা ও তাঁর উপস্থাপিত নথিপত্রগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এরপর এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটিতে তা হস্তান্তর করা হবে। এরপর সেখান থেকে সিদ্ধান্ত আসবে। তাঁর কাছ থেকে ৭৪ লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।