ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নড়াইল-১ (সদর ও কালিয়া উপজেলা) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন আটজন। দিন যত ঘনাচ্ছে, ততই জমে উঠছে প্রচার। তবে আসনটিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোট বেশি থাকায় সেসব ভোট টানতে মরিয়া হয়ে প্রচার চালাচ্ছেন প্রার্থী ও তাঁদের কর্মী-সমর্থকেরা।
আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, জামায়াতে ইসলামীর ওবায়দুল্লাহ কায়সার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুল আজিজ, জাতীয় পার্টির মিলটন মোল্যা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) এস এম সাজ্জাদ হোসেন, জিয়া পরিষদের নেতা বি এম নাগিব হোসেন, সুকেশ সাহা ও মো. উজ্জল শেখ।
সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, জয় সুনিশ্চিত করতে দলীয় ও সাধারণ ভোটারদের কাছে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোট টানতে মরিয়া সবাই। তৃণমূল পর্যায়ের ভোটাররা জানান, তাঁরা পরিবর্তন চান। কর্মীবান্ধব সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে চান। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ও আওয়ামী লীগ সমর্থক ভোটাররা বলছেন, তাঁরা এমন প্রার্থীকে ভোট দিতে চান, যিনি নির্বাচিত হলে তাঁদের জানমালের নিরাপত্তা পাবেন এবং হামলা-মামলার শিকার হবেন না।
কালিয়া পৌরসভা ও কালিয়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন এবং নড়াইল সদর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে নড়াইল-১ সংসদীয় আসন গঠিত। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের দখলে থাকা এই আসনে এবার বিএনপির বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, জামায়াতে ইসলামীর ওবায়দুল্লাহ কায়সার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক (অব.) বি এম নাগিব হোসেনের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন ভোটাররা।
বিএনপি প্রার্থী বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। বিগত দিনে দলের নেতা-কর্মীদের পাশে থেকেছি। বিএনপিকে সুসংগঠিত করতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। আমি নির্বাচিত হলে কালিয়ার সার্বিক উন্নয়ন করব।’
জামায়াতের প্রার্থী ওবায়দুল্লাহ কায়সার বলেন, ‘সাধারণ মানুষ এখন আর জোরজবরদস্তি, দখলবাজি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি কর্মকাণ্ডকে পছন্দ করে না। আমাদের নেতা-কর্মীরা অন্যায় কাজকে কখনো সমর্থন দেয় না। এ কারণে সমাজের শান্তিপ্রিয় লোকজন জামায়াতের দিকে দিন দিন ঝুঁকে পড়ছেন।’
স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়া পরিষদ নেতা অধ্যাপক বি এম নাগিব হোসেন বলেন, ‘বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে তৃণমূল মানুষের সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। তৃণমূল পর্যায়ের ভোটারদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। বিজয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।’
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল-১ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৯১ হাজার ১৩৬ জন। এ ছাড়া এই আসনে পোস্টাল ব্যালটে ভোটার রয়েছেন ৩ হাজার ১৯ জন।