বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় পুলিশ কর্মকর্তার ছেলে ইমাম হাসান তাইমকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্যের জন্য আগামী ২৯ মার্চ দিন ধার্য করা হয়েছে।
আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) আসামিপক্ষের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।
এ মামলায় আসামি ১১ জন। তাঁদের মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান ও সাবেক এসআই শাহাদাত আলী। আজ সকালে তাঁদের কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ।
পলাতক আসামিরা হলেন—ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান, যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারী জোনের সাবেক ডিসি ইকবাল হোসাইন, এডিসি শাকিল মোহাম্মদ শামীম, ডেমরা জোনের তৎকালীন এডিসি মো. মাসুদুর রহমান মনির, তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার নাহিদ ফেরদৌস, যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাকির হোসেন, পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) ওহিদুল হক মামুন ও এসআই (নিরস্ত্র) সাজ্জাদ উজ জামান।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ২০ জুলাই ইমাম হাসান তাইম যাত্রাবাড়ীর কাজলা পদচারী–সেতুর কাছে পুলিশের গুলিতে মারা যান। ইমাম নারায়ণগঞ্জের সরকারি আদমজী নগর এমডব্লিউ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। ওই ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১১ আসামির বিরুদ্ধে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
মর্গে গিয়ে ইমাম হাসানের লাশ খুঁজে পাওয়ার পর তাঁর বাবা পুলিশ কর্মকর্তা ময়নাল হোসেন তাঁর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ফোনে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘একজনকে মারতে কতগুলো গুলি লাগে, স্যার?’