হোম > সারা দেশ

জমি লিখে নিতে সাদা কাগজে সই নেওয়ার অভিযোগ এএসপির বিরুদ্ধে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

সরাইল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. জাহাঙ্গীর আলম। ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে জমি প্রতিপক্ষের নামে লিখে দিতে চাপ প্রয়োগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অলিখিত তিনটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা পুলিশের সরাইল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে। ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, টাকা দাবি এবং জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের পক্ষ নেওয়ার অভিযোগও করেছেন এক ব্যবসায়ী।

এ ঘটনায় গত ২৭ অক্টোবর চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সরাইল উপজেলার শাখাইতি গ্রামের বাসিন্দা ও চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী আবুল হোসেন সোহাগ।

অভিযোগে সোহাগ বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে ব্যবসা করছেন। সরাইলের শাখাইতি গ্রামে তাঁর কেনা জমি রয়েছে। এর মধ্যে একটি জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও মামলা চলছে। প্রতিপক্ষ নাজমা খাতুনের কাছ থেকে ব্যবসার প্রয়োজনে তিনি তিন লাখ টাকা নিয়েছিলেন। তবে ওই লেনদেনকে কেন্দ্র করে জাল স্ট্যাম্প তৈরি করে তাঁর ১৬ শতাংশ জমি নাজমার নামে লিখে দিতে চাপ প্রয়োগ করেন এএসপি জাহাঙ্গীর আলম। জমি লিখে না দিলে মামলা দিয়ে হয়রানির ভয় দেখানো হয়। একপর্যায়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে অলিখিত তিনটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

সোহাগের আরও অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা বলে তাঁর কাছে দেড় লাখ টাকা দাবি করেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। পরে তিনি প্রথম ধাপে ১০ হাজার টাকা দেন। তবে ওই টাকা দেওয়ার পরও এএসপি প্রতিপক্ষ নাজমা খাতুনের পক্ষে অবস্থান নেন।

সোহাগের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে স্ট্যাম্প চুক্তির ১৬ লাখ টাকার একটি মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। তিনি ওই চুক্তি করেননি। এ ছাড়া এএসপি তাঁকে নিজের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখান এবং জমি প্রতিপক্ষকে লিখে দিতে বলেন। তিনি রাজি না হওয়ায় ১২ বছর কারাদণ্ড ভোগের ভয়ও দেখান এএসপি। এ ঘটনার পর এএসপির নির্দেশে তাঁর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদালতে একটি মামলাও করা হয়েছে।

সোহাগ বলেন, এসব ঘটনার পর থেকে আমি আতঙ্কে রয়েছি এবং নিজের সম্পত্তি নিয়েও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। নিরুপায় হয়ে আমি চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি বরাবর অভিযোগ করেছি। অভিযোগ দেওয়ার পর স্থানীয় দুই সালিসকারীর মাধ্যমে ওই ১০ হাজার টাকা ফেরত পাঠান, তবে আমি ওই টাকা গ্রহণ না করে ফিরিয়ে দিয়েছি।

ভুক্তভোগী সোহাগের অভিযোগপত্র। ছবি: সংগৃহীত

অন্যদিকে প্রতিপক্ষ নাজমা খাতুন বলেন, আবুল হোসেন সোহাগ তাঁদের জমি লিখে দেওয়ার কথা দিয়েছিলেন। এ নিয়ে তিনি আদালতে দুটি মামলাও করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে এএসপি মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা হচ্ছে। ২০২১ সাল থেকে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। তাঁদের মধ্যে তিন লাখ টাকার একটি স্ট্যাম্প চুক্তি হয়েছিল।

এএসপি আরও বলেন, ‘আমি তো তদন্তকারী কর্মকর্তা না। আমি কেন সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেব? বিষয়টি নিয়ে আগের পুলিশ সুপার স্যার উভয় পক্ষকে নিষ্পত্তি করার জন্য আমাকে বলেছিলেন।’

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মো. জালাল উদ্দিন ফাহিম বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় এ নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন।

আদা চাষে প্রণোদনা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী

ধামইরহাটে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ গেল মাদ্রাসাশিক্ষার্থীর

চাঁদপুরে ডাকাতিসহ ১৯ মামলার আসামি গ্রেপ্তার

কীর্তনখোলার স্রোতে ভেসে গিয়ে কিশোর নিখোঁজ

‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগে শামীম হত্যা মামলায় যুবদল নেতা সাদিকুল রিমান্ডে

ফরিদপুরে ধর্ষণ ও অপহরণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

দফায় দফায় গ্যাস-জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে মানবাধিকার পরিষদের ক্ষোভ

৬ শিক্ষার্থী, ১১ শিক্ষক-কর্মচারী: সেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে শোকজ

ফেনীতে অস্ত্রের মুখে শুঁটকিবোঝাই কাভার্ড ভ্যান ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৪

কুমিল্লা সীমান্তে ৬৪ লাখ টাকার ভারতীয় বাজি জব্দ