ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ফুল দিতে যাওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার তিন যুবককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। যাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে তারা হলেন—মো. সাকিব, মো. জিহাদুল ইসলাম জিহাদ, রায়হান রিফাদ।
এর আগে ধানমন্ডি থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে করা মামলায় তিনজনকে আদালতে হাজির করে ধানমন্ডি থানা-পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইকবাল আহমেদ জিন্নাহ প্রত্যেককে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
অন্যদিকে আদালতে তিন যুবকের পক্ষে তাদের আইনজীবী এম জাকির হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, শাহাব উদ্দিন রাজুসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে প্রত্যেককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, গত বছরের নভেম্বরের ৩০ তারিখ ধানমন্ডির কাজী নজরুল ইনস্টিটিউটে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে বিভিন্ন স্লোগান ও মিছিল দেন। এ সময় সেখানে ধানমন্ডি ২২ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি শওকত ওসমান বাবু ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ছাত্রলীগ কর্মী মিলন খানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় ধানমন্ডি মডেল থানার এসআই মো. আল হেলাল সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তিন যুবককে আদালতে হাজির করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ প্রতিবেদনে বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারের পর মামলার ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের মামলার সঙ্গে প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতা এবং ছাত্রলীগের সদস্য বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে মামলার অন্যান্য অজ্ঞাত আসামিদের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য তারা এড়িয়ে গেছেন। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করার জন্য তাদের তদন্তের সুবিধার্থে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনে পরবর্তীতে রিমান্ড আবেদন করা হবে।
জামিন চেয়ে আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, গতকাল রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ধানমন্ডি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কিন্তু ঘটনা দেখিয়েছে অনেক আগের। এই তিন আসামির রাজনৈতিক কোনো পরিচয় নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকসহ কয়েকজন বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসা জানানোর জন্য সেখানে যান। একজনকে গতকাল পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে এসেছে। এদের মধ্যে দুইজনের (রায়হান ও সাকিব) বয়স ১৮ এর নিচে। এদের সঙ্গে যাদের নিয়ে গেল তাদের তো ছেড়ে দিয়েছে। এদের কেন ধরে রাখা হলো। আইন কি সবার জন্য সমান না? আবেদনে নির্দিষ্ট কোনো কিছু উল্লেখ নেই। বয়স এবং অপরাধের সংশ্লিষ্টতা না থাকার বিবেচনায় তাদের জামিন আবেদন করছি।
উল্লেখ্য, তিন আসামির মধ্যে মো. সাকিব মিরপুর গভর্নমেন্ট রূপনগর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী। মো. জিহাদুল ইসলাম, নোয়াখালীর হাতিয়া ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী। রিফাত রায়হান বরিশালের রুপধন বন্দর আমেরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে আইনজীবীরা জানান।