হোম > শিল্প-সাহিত্য

সাঙ্গ হলো প্রাণের মেলা

শরীফ নাসরুল্লাহ, ঢাকা

আগেও ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন হয়েছে, বইমেলাও শুরু হয়েছে সময়মতো। ছবি: আজকের পত্রিকা

অমর একুশে বইমেলার শেষ দিনে ভিড় থাকে। মেলায় যাঁরা আসতে পারেননি, তাঁরা শেষ দিন হাজির থাকার চেষ্টা করেন। তবে এবারের মেলার শেষ দিনের চিত্র ছিল ভিন্ন। পাঠকের ভিড় চোখে পড়েনি। সন্ধ্যার দিকে অবশ্য পাঠক কিছুটা বেড়েছিল। স্টলে স্টলে ছিল জটলা। গত বছর মেলার শেষ দিনে ছিল সরকারি ছুটি। এবার তা-ও নেই। শুরু হয়েছে ঈদের কেনাকাটা। সবকিছু মিলে আজ রোববার রাত ৯টায় মেলার ইতি হলো প্রাণবন্তহীন।

মেলার শুরু থেকেই সময় নিয়ে প্রকাশকেরা দুই ভাগে ভাগ হয়ে যান। তড়িঘড়ি করে শেষ দিকে এসে যুক্ত হন একদল প্রকাশক। তাই শুরু থেকেই একটা অগোছালো যাত্রা ছিল এবারের মেলার। তবু পাঠকের আগমনে মেলা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। প্রকাশকেরা নতুন বইয়ের ডালি সাজিয়ে তোলেন। পাঠক ব্যাগে ভরেন প্রিয় লেখকের বই। এই করেই কেটে গেল ১৮ দিনের মেলা।

আজ শেষ দিনে সন্ধ্যা পেরিয়ে ৯টা বাজার আগে আগেই কিছু প্রকাশনী তাদের বই গোছাতে শুরু করে। মুক্তধারার কর্মীরা বই গুছিয়ে বাক্সবন্দী করছিলেন। জানালেন, বলতে বলতেই মেলা শেষ হয়ে গেল। আবার এক বছরের অপেক্ষা।

অমর একুশে বইমেলা-২০২৬ পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব ড. সেলিম রেজা জানিয়েছেন, বইমেলার তথ্যকেন্দ্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবার ১৪ মার্চ পর্যন্ত ১ হাজার ৭৭১টি নতুন বই মেলার তথ্যকেন্দ্রে জমা হয়েছে। প্রকাশিত সব বই তথ্যকেন্দ্রে জমা না হওয়ায় নতুন বইয়ের প্রকৃত সংখ্যা দেওয়া যায়নি। মোড়ক উন্মোচিত বইয়ের সংখ্যা ২৫২। গত বছর নতুন বই বের হয়েছিল ৩ হাজার ২৯৯টি।

গতকাল শনিবার পর্যন্ত ১৭ দিনে বাংলা একাডেমি ১৭ লাখ ৪ হাজার ৬২৯ টাকার বই বিক্রি করেছে। বইমেলায় অংশ নেয় মোট ৫৮৪টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ৫৭০টি।

২৬৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত ১৭ দিনে মোট বিক্রির পরিমাণ ৮ কোটি টাকা। সে ক্ষেত্রে গড় হিসাবে ৫৭০টি প্রতিষ্ঠানের বিক্রির পরিমাণ দাঁড়ায় ১৭ কোটি টাকা। গত বছর আনুমানিক ৪০ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছিল।

বইমেলায় নতুন বই বের হয়েছে ২ হাজার ৭টি। এর মধ্যে কম বের হওয়া বইয়ের মধ্যে আছে গোয়েন্দা ও অভিধান একটি, ভাষা নিয়ে তিনটি এবং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ছয়টি। আর বেশি বের হওয়া বইয়ের মধ্যে রয়েছে কবিতা ৭৭১টি, উপন্যাস ২৮৬টি ও গল্প ২৭১টি।

আজ মূল মঞ্চে মেলার সমাপনী প্রতিবেদন পাঠ করেন মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব ড. সেলিম রেজা। বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে সরকার বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতি উপজেলায় আধুনিক লাইব্রেরি স্থাপন করা হবে। জেলা পর্যায়ের মতো উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংস্কৃতিসচিব মো. মফিদুর রহমান।

বইমেলায় প্রান্ত সাহার প্রথম বই

রহস্য, অরণ্য আর বিস্ময়ের অভিযানে—বইমেলায় ইশতিয়াক হাসানের নতুন ৩ বই

নারীদের কথা শোনে পুণ্যবান

উপন্যাসের চাহিদা ফুরিয়ে যায়নি

পৃথিবীর একটি গল্প

বইমেলায় মুহাম্মাদ শফিউল্লাহর ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: মরদেহ গণনার কয়েকটি দিন’

ছায়ানটে গান ও আবৃত্তিতে একুশের শ্রদ্ধা

মাতৃভাষা দিবসে বাংলা একাডেমিতে কবিতাপাঠ ও স্মারক বক্তৃতা

তৌহিদুল হকের গুচ্ছ কবিতা

বিদায় নেওয়া হুমায়ূন এখনো আছেন