‘আমি মারের সাগর পাড়ি দেব’ গানের মধ্য দিয়ে আজ শুক্রবার শুরু হলো ‘জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলন’। জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের আজ প্রথম দিন। রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন হয়।
উদ্বোধক বিশিষ্ট চিন্তাবিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘গান ও প্রাণ—এই দুয়ের মধ্যে শুধু শব্দগত সম্পর্ক আছে, তা নয়। এ দুটি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। গান থাকলে প্রাণ থাকে, আর প্রাণ থাকলে গান থাকে। সংগীত হলো শিল্পকলার সর্বোচ্চ স্তর। সকল শিল্পকলাই সেই স্তরে পৌঁছাতে চায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘সংগীতের চর্চার দরকার হয়। সামাজিকভাবে এই চর্চা জরুরি। এটা অব্যাহত রাখার জন্য সামাজিক উদ্যোগ দরকার। জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ্ সেই কাজটা করছে। সংগীতের সামাজিকীকরণ করছে। আমরা রবীন্দ্রনাথকে জানি তাঁর বহুমুখী প্রতিভার জন্য। বিশ্বে অনেক বড় কবির জন্ম হয়েছে, কিন্তু রবীন্দ্রনাথের মতো এত বিস্তৃত জায়গায় বিচরণ সারা বিশ্বে বিরল। গীতিকবিতায় তো তিনি সবাইকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। এ কারণেই নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন।’
স্বাগত বক্তব্যে পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লিলি ইসলাম বলেন, ‘বিশ্বগ্রাসীর বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার ছিলেন রবীন্দ্রনাথ। সমাজে যখন অস্থিরতা, বিভ্রান্তি, অবক্ষয়ের দেখা দিয়েছে, তখনই সংস্কৃতি পথ দেখিয়েছে। জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ্ প্রতিষ্ঠা থেকেই এই কাজ করে আসছে। এটি শুধু রবীন্দ্রসংগীত প্রচারেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।’
প্রারম্ভিক বক্তব্যে পরিষদের নির্বাহী সভাপতি বুলবুল ইসলাম বলেন, ‘এই দীর্ঘ চলার পথ সহজ ছিল না। এই পথে অনেক মানুষ কান্ডারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আজকে একজনকে মনে করতেই হয় তিনি ওয়াহিদুল হক। এরপরে সম্প্রতি হারালাম সন্জীদা খাতুনকে। আমরা ভীষণ দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছি। সাম্প্রদায়িক হানাহানি, মৌলবাদের উত্থান, ছায়ানটে-উদীচীতে আগুন। এখন পর্যন্ত খুব নিরাপদ বোধ করি না। সদ্য গণতান্ত্রিক সরকার এসেছে। তারা যেন এই বাধাকে প্রতিহত করে। আমাদেরকেও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এসব বাধাবিঘ্ন প্রতিহত করতে হবে। পৃথিবী এখন উত্তাল। এর থেকে উত্তরণ হতে হবে। সবাই মানবিক মানুষ হওয়ার চেষ্টা করব।’
আয়োজনের সভাপতি ছিলেন জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের সভাপতি প্রাবন্ধিক মফিদুল হক এবং সঞ্চালনায় ছিলেন ত্রপা মজুমদার।
সকাল ১০টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল হলে উদ্বোধনী আয়োজন শুরু হয়। আলোচনার পরে ছিল রবীন্দ্রসংগীত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব। বিকেলে প্রতিনিধি সম্মেলন। সন্ধ্যায় সংগীতানুষ্ঠান, নৃত্যানুষ্ঠান, আবৃত্তি ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে প্রথম দিনের কার্যক্রম শেষ হয়।
পরের দিন শনিবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দ্বিতীয় দিনের আয়োজন। এরপর শুরু হবে প্রতিনিধি সম্মেলন। থাকবে সেমিনার। বিকেলে থাকবে পুরস্কার ও পদক বিতরণ আয়োজন। এবার রবীন্দ্রপদক পাচ্ছেন অধ্যাপক সৈয়দ আকরম হোসেন। প্রধান অতিথি থাকবেন অভিনেত্রী ফেরদৌসী মজুমদার। সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুই দিনের এই সৃষ্টিযজ্ঞ।