গত বছরের নভেম্বরের শুরুর দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি পোস্ট নাইজেরিয়ায় আতঙ্ক তৈরি করে। তিনি লিখেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ মন্ত্রণালয় ‘ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার’ পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশে ‘গানস-আ-ব্লেজিং’ বা সর্বশক্তি নিয়ে অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাঁর দাবি ছিল, নাইজেরিয়ায় খ্রিষ্টানদের হত্যা করা হচ্ছে।
নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা আহমেদ তিনুবুর নেতৃত্বাধীন নাইজেরিয়া সরকার দ্রুত এর জবাব দেয়। তারা, খ্রিষ্টান হত্যার অভিযোগ নাকচ করে। সরকার জানায়, দেশে সশস্ত্র গোষ্ঠী ও দস্যুতার কারণে জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতি রয়েছে। তবে শুধু খ্রিষ্টানদের টার্গেট করা হচ্ছে—এটি সত্য নয়। মুসলিম সম্প্রদায় ও ঐতিহ্যবাহী ধর্মাবলম্বীরাও হামলার শিকার হয়েছে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসন এতে সন্তুষ্ট হয়নি। তারা ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নে নাইজেরিয়াকে ‘কান্ট্রিজ অব পার্টিকুলার কনসার্ন–সিপিসি’ পর্যবেক্ষণ তালিকায় রাখে। এরপর নিষেধাজ্ঞা, আর্থিক সহায়তা কমানো এবং আবুজার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দেয়। অভিযোগ ছিল, সরকার খ্রিষ্টানদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
এদিকে, সম্ভাব্য বোমা হামলার আশঙ্কায় নাইজেরিয়াবাসী উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন। তিনুবু সরকার ‘খ্রিষ্টান গণহত্যার’ অভিযোগ অস্বীকার করলেও নীরবে অবস্থান বদলায়। আক্রমণাত্মক বক্তব্য না দিয়ে তারা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে যেসব নিরাপত্তা সংকট নাইজেরিয়ার বিভিন্ন সরকারের জন্য মাথাব্যথা হয়ে আছে, সেগুলো মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা তারা স্বাগত জানাবে।
কয়েক সপ্তাহ পর, ২৫ ডিসেম্বর রাতে, ট্রাম্পের ভাষায় ‘শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী’ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। লক্ষ্য ছিল উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়া। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর আফ্রিকা কমান্ড (আফ্রিকম) স্পষ্ট করে জানায়, এই হামলা ‘নাইজেরীয় কর্তৃপক্ষের অনুরোধে’ চালানো হয়েছে।
এরপর থেকে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বেড়েছে। চলতি সপ্তাহে ১০০ মার্কিন সেনা নাইজেরিয়ায় পৌঁছেছেন। তারা সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নাইজেরীয় সেনাদের প্রশিক্ষণ দেবেন। নাইজেরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, মার্কিন বাহিনী ‘প্রযুক্তিগত সহায়তা’ ও ‘গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ে’ সহযোগিতা করবে। তারা সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেবে না। তবে ‘সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে’ চিহ্নিত ও পরাজিত করতে সহায়তা করবে।
অনেকের কাছে এই পরিবর্তন বিস্ময়কর। তিন মাসের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে নাইজেরিয়া ট্রাম্পের ‘খ্রিষ্টান নিধনযজ্ঞ’ দাবিকে উল্টে দিয়ে এখন নিজেদের সামরিক লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পেয়েছে। আফ্রিকাকেন্দ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা (রিস্ক ম্যানেজমেন্ট) প্রতিষ্ঠান সিগন্যাল রিস্কের বিশ্লেষণ পরিচালক রায়ান কামিংস বলেন, এখানে বড় ধরনের পরিবর্তন হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ন্যারেটিভটি ‘তিরস্কার থেকে পুরোপুরি বদলে এখন এমন অবস্থায় গেছে, যেখানে বিষয়টি একসঙ্গে হাতে হাত ধরে মোকাবিলার চিত্র তৈরি হয়েছে।’
তবে বিশ্লেষকদের অনেকেই বলছেন, পরিবর্তনটি পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত নয়। তাঁরা মনে করেন, উত্তেজনা কমাতে নাইজেরিয়ার এই সহযোগিতা কৌশলগত পদক্ষেপ। নাইজেরীয় ঝুঁকি পরামর্শক (রিস্ক কনসালটেন্সি) প্রতিষ্ঠান এসবিএম ইন্টেলিজেন্সের প্রধান নির্বাহী চেতা নওয়ানজে বলেন, এটি অপ্রত্যাশিত বা ভণ্ডামি নয়। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৯৯ সাল থেকে নাইজেরিয়ার দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা অংশীদারত্ব পশ্চিমা সামরিক নীতির ওপরই নির্ভরশীল।
চেতা নওয়ানজের মতে, পরিবর্তন এসেছে ‘যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে।’ ওয়াশিংটন এখন এমন এক দেশে সরাসরি জড়িত হওয়ার ক্ষেত্রে নিজেকে বেশি অধিকারপ্রাপ্ত মনে করছে, যেখানে তারা কৌশলগত স্বার্থ দেখছে। আবুজাভিত্তিক বিকন সিকিউরিটি অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক কবির আদামু মনে করেন, তিনুবু প্রশাসন ‘ট্রাম্পের হুমকি প্রশমনে এবং দুই দেশের মধ্যে একটি যৌথ ওয়ার্কিং টিম গঠনে সফল হয়েছে।’ তবে তাঁর মতে, বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই প্রক্রিয়া নিয়ে সরকার যথেষ্ট স্বচ্ছ নয়।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘কিসের বিনিময়ে সরকার এটি করল?’ তাঁর অভিযোগ, পরিস্থিতি প্রশমনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কী ধরনের চুক্তি হয়েছে, তা জানাতে সরকার এখনো নাইজেরীয়দের কাছে স্বচ্ছতা দেখায়নি।
জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়া একটি যৌথ ওয়ার্কিংস কমিটি গঠন করে। লক্ষ্য ছিল, নাইজেরিয়াকে সিপিসি তালিকাভুক্ত করার বিষয়টি এবং ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সহিংসতা কমাতে কীভাবে কাজ করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করা। তবে ট্রাম্পের প্রথম হুমকি থেকে শুরু করে প্রথম মার্কিন হামলা পর্যন্ত ঠিক কী ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য খুবই কম।
তবে সিগন্যাল রিস্কের কামিংস একটি নির্দিষ্ট চুক্তির দিকে ইঙ্গিত করেন। তাঁর মতে, সেটিই পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ১৭ ডিসেম্বর নাইজেরিয়া সরকার একটি আইনি মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক লবিস্ট প্রতিষ্ঠান ডিসিআই গ্রুপকে নিয়োগ দেয়। এর জন্য ৯ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে বলে জানা যায়।
অনলাইনে প্রকাশিত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ডিসিআই ‘নাইজেরীয় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়কে সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরতে এবং পশ্চিম আফ্রিকার জিহাদি গোষ্ঠী ও অন্যান্য অস্থিতিশীল উপাদানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন বজায় রাখতে’ আইন সহায়তা প্রতিষ্ঠান অ্যাস্টর লিগ্যালের মাধ্যমে নাইজেরিয়া সরকারকে সহায়তা করবে।
কামিংস বলেন, ডিসিআইকে নিয়োগ দিয়ে নাইজেরিয়া মূলত ‘আগুনের বিরুদ্ধে আগুন’ নীতিতে এগিয়েছে। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার উদাহরণ টানেন। সেখানে ট্রাম্প প্রশাসন ‘শ্বেতাঙ্গ গণহত্যা’র অভিযোগ তুলেছিল, যেটিকে অনেকেই ভুয়া দাবি বলে মনে করেন। কামিংসের মতে, নাইজেরিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা—দুই ক্ষেত্রেই প্রথমে স্থানীয় সংখ্যালঘু লবি গোষ্ঠীগুলো এই অভিযোগ ছড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রে রিপাবলিকান ও ইভানজেলিক্যাল গোষ্ঠীর সহায়তায় এসব দাবি ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে পৌঁছায়। তারা বাছাই করা বা অতিরঞ্জিত তথ্য উপস্থাপন করেছিল।
কামিংস বলেন, নাইজেরিয়া লবি গ্রুপ নিয়োগ দিয়েছে ‘মূলত ট্রাম্প প্রশাসনকে বোঝাতে যে, নাইজেরিয়ায় যা ঘটছে এবং কিছু লবি গোষ্ঠী ট্রাম্প প্রশাসনকে যা বলেছে, তা বাস্তব পরিস্থিতির সঠিক প্রতিফলন নয়।’ তিনি, ‘এবং সেটিই সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নাইজেরিয়ার প্রতি অবস্থান বদলে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।’
কামিংস বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের আফ্রিকা নীতি যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল ইভানজেলিক্যাল গোষ্ঠী দ্বারা প্রবলভাবে প্রভাবিত। এই গোষ্ঠী বিশ্বজুড়ে খ্রিষ্টানদের নিয়ে উদ্বিগ্ন। তারা কৃষ্ণাঙ্গ শাসিত সরকারগুলোর কথিত ‘শিকার’ হিসেবে তুলে ধরা শ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘুদের প্রতিও সহানুভূতিশীল।
কামিংস বলেন, নিজের মূল সমর্থকগোষ্ঠীকে সন্তুষ্ট রাখার দিক থেকে ট্রাম্পের এসব উদ্বেগ আন্তরিক। তবে অন্য দিক থেকে এগুলো কৌশলগতও। তিনি ‘খ্রিষ্টান নিপীড়ন’ বা ‘শ্বেতাঙ্গ গণহত্যা’র মতো বিষয় ব্যবহার করেন, যাতে বৃহত্তর পররাষ্ট্রনীতির সমন্বয় নিশ্চিত করতে অন্য দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা যায়।
নওয়ানজে ও আদামু বলেন, ভূরাজনৈতিক লাভের জন্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর চাপ দেওয়ার কৌশল শুধু আফ্রিকায় নয়, আফ্রিকার বাইরেও দেখা যায়। তাঁরা উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করেছে। নাইজেরিয়ার মতো ভেনেজুয়েলাতেও বিপুল তেলের মজুত রয়েছে।
নওয়ানজে বলেন, ‘নাইজেরিয়ার তেলের মজুত কয়েক শ বিলিয়ন ব্যারেল। এটি আফ্রিকার বৃহত্তম তেল উৎপাদক দেশ। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে একতরফা পদক্ষেপের মাধ্যমে কৌশলগত সম্পদ সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।’ তাই তাঁর মতে, নাইজেরিয়াকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ আংশিকভাবে ‘বিশ্ব জ্বালানি প্রবাহের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার’ প্রচেষ্টা। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের ব্যাখ্যাটি সত্য। তবে এটি সুবিধাজনকও। কারণ এটি এমন হস্তক্ষেপের আড়াল দেয়, যা একই সঙ্গে সম্পদ নিরাপত্তার লক্ষ্যও পূরণ করে।’
ভেনেজুয়েলার উদাহরণ টেনে আদামু বলেন, মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের অপহরণের ঘটনা দেখে নাইজেরিয়ার সরকার সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতায় আরও আগ্রহী হয়েছে। আদামু নাইজেরিয়ার যুক্তরাষ্ট্রকে হস্তক্ষেপের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ‘পরিকল্পিত সমঝোতা’ বলে বর্ণনা করেন। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগির মাধ্যমে নিরাপত্তা সুবিধা পাওয়া যাবে। একটি শক্তিশালী দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কও মজবুত হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রমের ওপর নাইজেরিয়ার তত্ত্বাবধান বজায় থাকবে।
নওয়ানজে বলেন, প্রেসিডেন্ট তিনুবুর দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা ছিল ‘কার্যকর প্রয়োজনীয়তা।’ তাঁর মতে, ‘নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী অতিরিক্ত চাপে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সহায়তা ও বিমান শক্তি বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কৌশলগত সুবিধা দেয় তাদের।’
তবে কামিংস সতর্ক করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা নাইজেরিয়ার সন্ত্রাসবিরোধী সক্ষমতা বাড়াতে পারে। কিন্তু এটি কেবল ‘উপসর্গের চিকিৎসা’ করবে। সহিংসতার মূল সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণগুলো অমীমাংসিতই থেকে যাবে। তিনি বলেন, ‘এই বিদ্রোহগুলোর কারণ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে নাইজেরিয়াকে সহায়তা করতে পারে, সে বিষয়ে যথেষ্ট মনোযোগ দেওয়া হয়নি। মূল সমস্যা অর্থনৈতিক। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সুশাসন নিশ্চিত করা, জনসেবায় প্রবেশাধিকার বাড়ানো জরুরি। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য এমন চুক্তি নিশ্চিত করতে হবে, যা জিহাদিদের প্রস্তাবের চেয়ে ভালো।’
বিশ্লেষকেরা বলেন, নাইজেরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি উল্টো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে শক্তিশালীও করতে পারে। নওয়ানজে বলেন, ‘সংঘাত বাড়ার বাস্তব ঝুঁকি রয়েছে।’ তাঁর প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সিপিসি ঘোষণা দেওয়ার পর হামলার সংখ্যা বেড়েছে।
তিনি বলেন, ইসলামিক স্টেট সাহেল প্রভিন্স (আইএসএসপি) এবং আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট জামা’আত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিনের (জেএনআইএম) মতো গোষ্ঠীগুলো ‘বিদেশি হস্তক্ষেপের বয়ানকে ব্যবহার করে নিয়োগ ও উগ্রবাদ ছড়াতে অভ্যস্ত।’ তিনি আরও বলেন, ‘ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের নাইজেরিয়ায় চালানো হামলা তাদের প্রচারণার উপকরণ দিয়েছে। এতে তারা স্থানীয় ক্ষোভকে পশ্চিমা শক্তির বিরুদ্ধে বৈশ্বিক যুদ্ধের অংশ হিসেবে তুলে ধরতে পারছে।’ তিনি সতর্ক করেন, ‘আরও একটি ঝুঁকি আছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নিজেদের বিদেশি দখলের বিরুদ্ধে লড়াইকারী হিসেবে নতুনভাবে পরিচিত করতে পারে। এতে প্রচারণায় তারা এমন সুবিধা পাবে, যা সামরিক ক্ষতির চেয়েও বড়।’
আদামু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আরও বেশি, বিশেষ করে প্রতীকী হামলায় উৎসাহিত করতে পারে। এর চেয়েও বড় বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি নিয়ে নাইজেরীয়দের মধ্যে মতভেদ ও বিতর্ক রয়েছে। এতে ধর্মীয় ও জাতিগত বিভাজন আরও গভীর হতে পারে। তিনি বলেন, আবুজার জন্য ‘অভ্যন্তরীণ ভাবমূর্তির ঝুঁকি’ রয়েছে। অতীতে নাইজেরিয়ার সরকারগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে উপস্থিতির অনুমতি দিলে জন–সমালোচনার মুখে পড়েছিল। এখন অনেকেই মনে করেন, তিনুবু দেশকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন।’
নওয়ানজে একমত পোষণ করে বলেন, অভ্যন্তরীণ ‘দৃষ্টিভঙ্গির’ বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করেন, ‘সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হয়েছে—এমন ধারণা জাতীয়তাবাদী ক্ষোভ বাড়ায়। সরকারের প্রতি অবিশ্বাসও গভীর করে।’
কামিংসের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে নাইজেরিয়া কঠিন অবস্থায় ছিল। তিনি বলেন, ‘সমগ্র পরিস্থিতি বিবেচনায় তিনুবু সরকারের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার সিদ্ধান্ত তুলনামূলকভাবে বুদ্ধিমানের কাজ।’ তাঁর যুক্তি, ঐতিহাসিকভাবে নাইজেরিয়া পশ্চিমাপন্থী। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রবাসী সম্পর্ক রয়েছে। ব্রিকস বা অন্য দক্ষিণ-দক্ষিণ জোটের মতো বিকল্প অংশীদার না থাকায়, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা ও সামঞ্জস্যই ছিল এই সংকট প্রশমনের সর্বোত্তম উপায়।
তবে নওয়ানজের মতো অন্য বিশ্লেষকেরা উদ্বিগ্ন। তাদের আশঙ্কা, ট্রাম্পকে নাইজেরিয়ার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অধিকার দেওয়া, যদিও তা নাইজেরিয়ার তত্ত্বাবধানে, ভবিষ্যতে দেশটিকে আরও সংকটে ফেলতে পারে।
নওয়ানজে সতর্ক করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি, তা সীমিত হলেও, সংঘাতের আদর্শিক পরিসর বাড়িয়ে অস্থিতিশীলতা আরও গভীর করতে পারে। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আগেই অনুপ্রাণিত ছিল। এখন তাদের হাতে আরও শক্তিশালী গল্প এসেছে।’
অনুবাদ করেছেন আজকের পত্রিকার সহসম্পাদক আব্দুর রহমান