মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার বা ‘পুরো সভ্যতা’ বিলীন করে দেওয়ার হুমকির আলটিমেটামের পর শেষ মুহূর্তে এসে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় তেহরান-ওয়াশিংটন। এর আওতায় ইরান ও ওমানকে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি থেকে টোল আদায়ের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
আঞ্চলিক এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এপি জানিয়েছে, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার আওতায় ইরান ও ওমান উভয় দেশকেই পারস্য উপসাগরের প্রবেশপথ—সংকীর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ফি বা টোল আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানান, ইরান এই অর্থ দেশটির পুনর্গঠন কাজে ব্যবহার করবে। তবে ওমান এই অর্থ কী কাজে ব্যয় করবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হওয়া যায়নি। হরমুজ প্রণালি ওমান এবং ইরান—উভয় দেশের জলসীমানার মধ্যে অবস্থিত। ইতিপূর্বে বিশ্ববাসী এই পথটিকে আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে বিবেচনা করে আসছিল এবং আগে কখনোই এখানে কোনো টোল দিতে হয়নি।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের বিবৃতি এবং দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে উঠে আসা দুটি দাবি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যে উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। প্রথমত, তেহরান চায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর ওপর টোল আরোপ করতে। দ্বিতীয়ত, তারা স্পষ্টতই চায় যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বাহিনী অঞ্চলটি থেকে সরে যাক।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দাঁড়াচ্ছে—এই টোল কি মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর ওপরও প্রযোজ্য হবে? কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহর (৫ম ফ্লিট), অর্থাৎ ইউএস নেভাল ফোর্সেস সেন্ট্রাল কমান্ডের হেডকোয়ার্টার বাহরাইনে অবস্থিত, যা পারস্য উপসাগরের ভেতরে।
এই পঞ্চম নৌবহর প্রায় ২৫ লাখ বর্গমাইল জলসীমার দায়িত্বে রয়েছে। এর মধ্যে পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর, লোহিত সাগর এবং ভারত মহাসাগরের কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত। হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি, পঞ্চম নৌবহর লোহিত সাগরের উত্তরে সুয়েজ খাল এবং দক্ষিণে বাব এল-মান্দেব প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক প্রবেশপথগুলোর তদারকিও করে।
সিঙ্গাপুরের এস রাজরত্নম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের গবেষণা ফেলো কলিন কোহ বলেন, ‘যদি টোল দিতে হয়, তাহলে তা স্পষ্টভাবে পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রবেশাধিকারকে দুর্বল করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ট্রাম্প যদি মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে সেন্টকমের অবস্থান পুরোপুরি বদলে দেওয়ার পরিকল্পনা না করেন, তাহলে এই টোল ব্যবস্থা টেকসই হবে বলে আমি মনে করি না।’
তথ্যসূত্র: সিএনএন ও এপি