হোম > বিশ্লেষণ

শুধু ইরান নয়, আরও বহু দিকে হারছেন ট্রাম্প

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এক নজিরবিহীন সংকটের মুখে পড়েছে। মার্কিন সাংবাদিক জোনাথন লেমায়ারের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্প কেবল ইরানের যুদ্ধক্ষেত্রেই নয়, বরং কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয়—প্রতিটি ক্ষেত্রে বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছেন। এই টালমাটাল পরিস্থিতিকে বিশ্লেষকেরা তাঁর ‘প্রেসিডেন্সির অশনিসংকেত’ হিসেবে অভিহিত করছেন।

ট্রাম্পের ধারণা ছিল ইরানের ওপর হামলা হবে ২০২৪ সালের ভেনেজুয়েলা অভিযানের মতো সংক্ষিপ্ত ও সফল। কিন্তু যুদ্ধের ৫০ দিন পার হলেও ইরান দমে যায়নি, বরং দেশটি এখন বিশ্ব অর্থনীতির জীবনরেখা হরমুজ প্রণালির ওপর আগের চেয়ে বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। ট্রাম্পের প্রথাগত ‘ভয় দেখানোর রাজনীতি’ তেহরানের ওপর কাজ করছে না। এমনকি ট্রাম্প যখন ইরানকে ‘পুরোপুরি ধ্বংস’ করার হুমকি দিয়েছেন, তখন ইরান বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী করে এর জবাব দিয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনী দিয়ে হরমুজ প্রণালি অবরোধের যে ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ ট্রাম্প নিয়েছেন, তা কেবল বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটকেই ঘনীভূত করেছে।

ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি তাঁকে বিশ্বমঞ্চে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। যুদ্ধের আগে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করায় এখন সংকটের সময়ে তারা পাশে দাঁড়াচ্ছে না। বিশেষ করে ডেনমার্কের কাছ থেকে ‘গ্রিনল্যান্ড’ দাবি করার মতো অদ্ভুত কূটনৈতিক আচরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ট্রাম্পের ওপর চরম অসন্তুষ্ট। এমনকি রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেও টাকার কার্লসন বা স্টিভেন ব্যাননের মতো কট্টরপন্থীরা এই যুদ্ধকে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ বলে সমালোচনা করছেন।

একই সপ্তাহে বিশ্বের বৃহত্তম দুই ধর্মের অনুসারীদের ক্ষুব্ধ করেছেন ট্রাম্প। ইস্টার সানডের সকালে মুসলিমদের উদ্দেশে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার এবং পরে এআই দিয়ে নিজেকে যিশুখ্রিষ্ট বানিয়ে ছবি পোস্ট করে তিনি ক্যাথলিক খ্রিস্টান ও পোপ লিও চতুর্দশের রোষানলে পড়েছেন। পোপের সমালোচনা করতে গিয়ে তাঁকে ‘উগ্র বামপন্থীদের সমর্থক’ বলা এবং নিজেকে ঈশ্বরপুত্রের মতো উপস্থাপন করা ট্রাম্পের নিজের দলের ক্যাথলিক ভোটারদের মধ্যেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

হোয়াইট হাউসের অন্দরে এখন অস্বস্তির ছায়া। ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের হঠাৎ জেফরি এপস্টেইন কেলেঙ্কারি নিয়ে মুখ খোলা হিতে বিপরীত হয়েছে, যা ধামাচাপা পড়া পুরোনো বিতর্ককে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। এদিকে হাঙ্গেরির নির্বাচনে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ভিক্টর ওরবানের শোচনীয় পরাজয় ট্রাম্পের ‘অনুদারবাদী রাজনীতি’র মডেলের ব্যর্থতাকেই ফুটিয়ে তুলেছে। সামনে নভেম্বরের নির্বাচন, অথচ তেলের দাম বৃদ্ধি ও যুদ্ধ নিয়ে জনগণের অসন্তোষের কারণে রিপাবলিকানরা এখন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে পরাজয়ের আতঙ্কে দিন গুনছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘকাল ভয়ের সংস্কৃতি দিয়ে রাজনীতি শাসন করেছেন। কিন্তু ইরান যুদ্ধ তাঁকে এমন এক দেয়ালের সামনে দাঁড় করিয়েছে, যেখানে তাঁর প্রচলিত কৌশলগুলো আর কাজ করছে না। মিত্রদের অবজ্ঞা, ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে সংঘাত ও ভুল অর্থনৈতিক পদক্ষেপ তাঁকে এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। পোপ থেকে শুরু করে বিশ্বনেতারা এখন আর ট্রাম্পকে ভয় পাচ্ছেন না; আর এটাই সম্ভবত ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির জন্য সবচেয়ে বড় অশনিসংকেত।

দ্য আটলান্টিক থেকে অনুবাদ করেছেন আবদুল বাছেদ

ইরানি সেনার কাঁধে থাকা ক্ষেপণাস্ত্রেই থমকে যেতে পারে মার্কিন বিমান হামলা

দুপক্ষই জিতবে—যেভাবে এমন চুক্তির পথে হাঁটতে পারে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের ১০০ বিলিয়ন ডলার: কোন কোন দেশে জব্দ, অবমুক্ত হলে ফায়দা কতটা

মুইজ্জুতে মোহভঙ্গ হচ্ছে মালদ্বীপবাসীর

দশক না পেরোতেই ব্রেক্সিটের মোহভঙ্গ, ইইউতে ফেরার গুঞ্জন

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার মধ্যেই সৌদিতে কেন সেনা-যুদ্ধবিমান পাঠাল পাকিস্তান

এবার হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের জুয়া, রাশিয়ার চালে ভেস্তে যেতে পারে ‘মাস্টারপ্ল্যান’

৩১ বছর পর প্রত্যক্ষ সংলাপে ইসরায়েল-লেবানন, হিজবুল্লাহকে ছাড়া কি সমাধান সম্ভব

১৮৫৭ সালে ডেনমার্ককে ক্ষতিপূরণ দিয়ে টোল বন্ধের বাস্তবতা হরমুজে

ইরানের ‘হরমুজ কার্ড’ কি বুমেরাং হতে পারে