হামিদ দাবাসির নিবন্ধ
ইরানিদের আন্দোলনকে যুক্তিসংগত বলেই মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক হামিদ দাবাসি। তবে উপনিবেশোত্তর তত্ত্বের অন্যতম এই তাত্ত্বিক মনে করেন, ইরানে চলমান আন্দোলনে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের হস্তক্ষেপ আছে। আর তাদের লক্ষ্য মূলত ইরানকে ভেঙে ছোট ছোট জাতি রাষ্ট্রের পরিণত করা এবং ইসরায়েলি ও মার্কিন কুকর্ম থেকে বৈশ্বিক নজর অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়া। লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ে প্রকাশিত তাঁর নিবন্ধটি অনুবাদ করেছেন আজকের পত্রিকার সহসম্পাদক আব্দুর রহমান।
গত বছরের শেষ দিকে ইরানজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ)। বিশ্বের বড় বড় গণমাধ্যম এই সংস্থার তথ্য উদ্ধৃত করেছে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, নিহতদের বেশির ভাগই বিক্ষোভকারী। পাশাপাশি ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর ৪৫ জনেরও বেশি সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।
এইচআরএএনএ ও পশ্চিমা গণমাধ্যম এ বিষয়ে পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য উৎস নয়—এ কথা স্বীকার করলেও—ইরানের ভেতরে একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন বিক্ষোভচক্র যে গড়ে উঠছে, তা এখন স্পষ্ট। বিশেষ করে বিবিসি পার্সিয়ানকে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্র-সমর্থিত এক ধরনের মিশনে দেখা যাচ্ছে। যার উদ্দেশ্য এই বিক্ষোভের মাত্রা অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করা। তারা ইরানি জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশকে ধারাবাহিকভাবে উপেক্ষা করছে, যারা রাষ্ট্রীয় নীতির সঙ্গে একমত নয়, কিন্তু একই সঙ্গে ইসরায়েল বা তার মুক্তভাবে ব্যবহৃত পুতুল রেজা পাহলভির ইশারায় চলতেও অস্বীকৃতি জানায়।
এটি ইসরায়েলের স্বার্থে যুক্তরাজ্যের ‘সফট পাওয়ার’ ব্যবহারের আরেকটি উদাহরণ। বিবিসি পার্সিয়ানের ইরানবিষয়ক বিক্ষোভ নিয়ে মোহগ্রস্ত কভারেজ গভীরভাবে জড়িয়ে আছে তাদের নীতিগতভাবে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের গণহত্যাকে রোগাক্রান্তের মতো উপেক্ষা করার প্রবণতার সঙ্গে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি প্রকাশ্যে চলমান বিক্ষোভের কথা স্বীকার করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বৈধ অর্থনৈতিক ক্ষোভ থাকা মানুষদের সঙ্গে তাদের পার্থক্য করতে হবে, যারা এই আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে অন্য কুৎসিত উদ্দেশ্য—যেমন শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন ও ইরানের ভাঙন—বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। সেটিই ইসরায়েলের প্রকল্প। সব দিক বিবেচনায়, এই নতুন বিক্ষোভচক্র একসঙ্গে যেমন বাস্তব, তেমনি ব্যাপকভাবে প্রভাবিত ও নিয়ন্ত্রিতও।
প্রথমত, এই বিক্ষোভের শিকড় ইরানের সেই গভীর অর্থনৈতিক সংকটে, যা দেশটি দশকের পর দশক ধরে বহন করে আসছে। এই অর্থনৈতিক দুরবস্থার পেছনে দুটি পরিপূরক কারণ রয়েছে—একদিকে অভ্যন্তরীণ রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি ও অদক্ষতা, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞা। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের সাম্প্রতিক একটি শিরোনাম বিষয়টি যথার্থভাবে তুলে ধরেছে, ‘অর্থনীতি ধসে পড়ায় ইরানের মুদ্রা ‘ছাইয়ে পরিণত’।’
একই সময়ে, এই নির্দিষ্ট সংকটটি মূলত (যদিও পুরোপুরি নয়) ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে তৈরি করা এক ধরনের মনোযোগ সরানোর বিভ্রান্তিমূলক কৌশল। আবারও তারা লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন বা ভেনেজুয়েলার মতো একটি অকার্যকর রাষ্ট্রকে লক্ষ্যবস্তু করছে—নিজেদের ক্ষমতায় টিকে থাকতে এবং গাজায় চলমান গণহত্যা থেকে বৈশ্বিক মনোযোগ সরিয়ে নিতে।
ইরানিদের তাদের কঠোর ও অসহনীয় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার পূর্ণ অধিকার ও যুক্তিসংগত কারণ রয়েছে। দরিদ্র হয়ে পড়া ও বিলুপ্তপ্রায় মধ্যবিত্ত চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছে, আর শ্রমজীবী শ্রেণি ভেঙে পড়ছে কল্পনাতীত বঞ্চনার চাপে।
কিন্তু আজ ইরানের প্রতি ইসরায়েলের মনোযোগের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। প্রথম ও প্রধান কারণ হলো বিভ্রান্তি সৃষ্টি—ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান ইসরায়েলি গণহত্যা এবং দখলকৃত পশ্চিম তীরের যা কিছু অবশিষ্ট আছে, তার পদ্ধতিগত দখল থেকে বৈশ্বিক দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়া। তেল আবিব মনে করে, তারা যত বেশি আঞ্চলিক বিশৃঙ্খলা ও বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারবে, তত দ্রুত বিশ্ব গাজার গণহত্যা ভুলে যাবে এবং সামনে এগিয়ে যাবে।
দ্বিতীয় ও সংশ্লিষ্ট লক্ষ্য হলো—ইরানকে ভেঙে ছোট ছোট জাতিগত রাষ্ট্রে পরিণত করা, যেমনটা ইসরায়েল লেবানন ও সিরিয়ার মতো অন্যান্য আঞ্চলিক দেশের ক্ষেত্রে চায়। তেল আবিব পুরো অঞ্চলকে নিজেদের প্রতিচ্ছবিতে পুনর্গঠন করতে চায়—একটি গ্যারিসন রাষ্ট্রের আদলে। তথাকথিত ‘সোমালিল্যান্ড’কে স্বীকৃতি দেওয়ার তাদের কুটিল পদক্ষেপ এই পরিকল্পনারই একটি নকশা।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি এখানে মূলত একটি বিভ্রান্তিমূলক প্রসঙ্গ। ওবামা প্রশাসনের সময় ইরান ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি পারমাণবিক চুক্তি হয়েছিল। ইসরায়েল শুরু থেকেই সেই চুক্তির বিরোধিতা করেছে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে তাদের পঞ্চম কলাম এআইপ্যাকের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয়ের স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে—প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে দ্রুত সেই চুক্তি ভেঙে দেন। ফলে ইরান ও বিশ্বের মধ্যে কোনো পারমাণবিক চুক্তি না থাকার জন্য প্রধানত ইসরায়েলই দায়ী।
এদিকে, ইরানের শাসকগোষ্ঠী ও দরিদ্র জনগণের বিরুদ্ধে সমানভাবে অস্ত্র হিসেবে নিষেধাজ্ঞা ব্যবহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রই মূলত দায়ী। এই নিষেধাজ্ঞার পেছনে দুটি কারণ দেখানো হয়—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অতিরঞ্জিত উদ্বেগ, এবং তেহরানকে অঞ্চলে কম আক্রমণাত্মক ও আরও প্রো-ইসরায়েলি অবস্থান নিতে বাধ্য করার জন্য মার্কিন-ইউরোপীয় চাপ।
এই অঞ্চলের বিশ্লেষণে অনুপস্থিত থেকে যায় সেই বাস্তবতা যে, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সবচেয়ে উচ্চকণ্ঠ শত্রু হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করা ইসরায়েল নিজেই একটি পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র। একই সঙ্গে তারা প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে বহুমুখী যুদ্ধে লিপ্ত—বিশেষত ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে, যারা নিজেদের মাতৃভূমিতেই বন্দী হয়ে আছে।
অতীতের অস্থিরতার ঢেউয়ের তুলনায়, বর্তমান বিক্ষোভ এখনো ২০২২ সালের ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ আন্দোলনের মতো ব্যাপকতা, তাৎপর্য বা প্রামাণিক অবস্থানে পৌঁছায়নি। সেই আন্দোলন এখনো একাডেমিক আলোচনার বিষয় হলেও, এটি যে নারীদের নেতৃত্বে সংঘটিত হওয়ায় ঐতিহাসিক ও প্রতীকী গুরুত্ব বহন করেছিল—এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই।
বর্তমান বিক্ষোভ অত্যন্ত সহিংস এবং এটি কোনোভাবেই নারীদের নেতৃত্বে পরিচালিত নয়। মাহসা আমিনি আন্দোলনই সম্ভবত আধুনিক ইরানি ইতিহাসের শেষ সত্যিকারের, স্বদেশজ ও প্রামাণিক গণ-আন্দোলন—যার বৈশ্বিক তাৎপর্য ছিল। এর বিপরীতে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভগুলো মোসাদ এজেন্টদের দ্বারা অপরিবর্তনীয়ভাবে দূষিত। ক্ষোভ উসকে দিতে ও উত্তেজনা ছড়াতে মসজিদে আগুন দেওয়া হয়েছে, যা জে কে রাউলিংয়ের মতো ব্যক্তিদের ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্যের অজুহাত জুগিয়েছে।
এই বিক্ষোভগুলো ভুয়া খবরেও কলুষিত, যা ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের স্বার্থে ইরানি সরকারকে দুর্বল করার জন্য ব্যবহার করে আসছে। হারেৎজ, দ্য মার্কার ও সিটিজেন ল্যাবের তদন্ত অনুযায়ী, ইসরায়েলি ‘হাসবারা’ (হাসবারা হলো একটি হিব্রু শব্দ যার আভিধানিক অর্থ ‘ব্যাখ্যা করা।’ বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে এটি মূলত ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে পরিচালিত জনযোগাযোগ বা প্রচার কৌশলকে বোঝায়।) সক্রিয়ভাবে শেষ পাহলভি সম্রাটের বিকারগ্রস্ত পুত্র রেজা পাহলভির পক্ষে সমর্থন তৈরি করছে।
ইসরায়েলের শীর্ষ কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে ইরানি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে উসকানি দিচ্ছেন, যদিও এ ধরনের উসকানি শেষ পর্যন্ত সেই অস্থিরতাকেই অবিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। তবুও, সাম্প্রতিক বিক্ষোভের কিছু দিক বাস্তব এবং সম্ভাব্যভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
ইরানি রাষ্ট্র এখন টিকে থাকার মোডে রয়েছে। তবে এক সংকটের পর আরেক সংকটের সঙ্গে লড়াই করা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ডিএনএ-র অংশ; বরং তারা এতে এক ধরনের তৃপ্তি খুঁজে পায়। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও অন্যান্য বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার পর, রাষ্ট্র কঠোরভাবে এই বিক্ষোভ দমন করবে এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক ঘাঁটি কিংবা সরাসরি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই নিয়ে যেতে দ্বিধা করবে না। এই প্রেক্ষাপটে প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র বিনিময়ই পরিস্থিতিকে হঠাৎ ও আমূলভাবে বদলে দেবে।
এর মধ্যেই, বিক্ষোভগুলো যেন অন্ধ ক্রোধে এগোচ্ছে। রাষ্ট্র এমন সব বৈধ ও যুক্তিবাদী কণ্ঠকে আটক করেছে বা নির্বাসনে যেতে বাধ্য করেছে, যারা জাতীয় স্বার্থে এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে পারতেন। শান্তিপূর্ণ ও বৈধ বিকল্পের অনুপস্থিতিতে—মির হোসেইন মুসাভি, জাহরা রাহনাভার্দ, মোহাম্মদ খাতামি, মোস্তাফা তাজজাদেহ বা আবোলফজল কাদিয়ানির মতো ব্যক্তিত্বদের বাদ দিয়ে—মাঠ ছেড়ে দেওয়া হয়েছে অবৈধ ও সুযোগসন্ধানী প্রো-পাহলভি রাজতন্ত্রবাদী ও মুজাহিদিন-ই-খালকের হাতে, যাদের ইরানের ভেতরে কোনো বাস্তব জনপ্রিয় ভিত্তি নেই।
এদিকে বিবিসি ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতো পশ্চিমা গণমাধ্যম যখন জায়নিস্ট পুতুল পাহলভির জন্য একটি কৃত্রিম জনভিত্তি তৈরি করতে থাকে, তখন ইরানি রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র—যেমনটি ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন—অথবা ইসরায়েল, কিংবা উভয়ের হামলার আশঙ্কা করছে।
যদিও বিক্ষোভ অন্তত আংশিকভাবে দেশের ভেতর থেকেই শুরু হয়েছিল, তারপরও সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও প্রকাশ্যে বলেছেন, এতে মোসাদ এজেন্টরা জড়িত। এটি সত্য নাকি ইরানি কর্তৃপক্ষকে ভীত করার উদ্দেশ্যে চালানো কোনো সাই-অপস কৌশল—তা স্পষ্ট নয়। তবে যাই হোক, বিষয়টি পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছে।
মূলত, এই আন্দোলন কোনো বিপ্লব নয়; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হাতে সাজানো এক ধরনের কাঁচা বিভ্রান্তিমূলক অভ্যুত্থানের চেষ্টা। ১৯৫৩ সালে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে উৎখাতে সিআইএ-এমআই ৬ পরিচালিত অভ্যুত্থানের আদলে, এখানে আমেরিকানরা সামরিক শক্তি জোগাতে পারে, আর ব্রিটিশরা বিবিসি পার্সিয়ানের মতো মাধ্যম দিয়ে ভুয়া খবর সরবরাহ করতে পারে।
এই অভ্যুত্থান প্রকৃত ও বৈধ কারণেই শুরু হয়েছিল, কিন্তু ইসরায়েল তা ছিনতাই করার চেষ্টা করছে। যেমন তারা গ্যারিসন রাষ্ট্র গড়তে ফিলিস্তিন ছিনতাই করেছে, জায়নবাদের বৈধতা দিতে ইহুদিবাদকে আত্মসাৎ করেছে, তেমনি এবার তারা আরেকটি দেশের সামাজিক আন্দোলন চুরি করতে চাইছে। এর ফলে তারা কেবল অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কল্যাণভিত্তিক বৈধ প্রতিবাদগুলোকেই সম্পূর্ণভাবে অবিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে—যা একটি গোটা জাতির স্বার্থে পরিচালিত হয়েছিল।