হোম > বিশ্লেষণ

যুদ্ধে ইসরায়েলের আরও ঘনিষ্ঠ হলো আরব আমিরাত

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবিটি ভিডিও থেকে নেওয়া

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব সামরিক মোড় নিয়েছে ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। ইরানের ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে আবুধাবিতে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে বিশ্বের সর্বাধুনিক ‘লেজার গান’ বা ‘আয়রন বিম’ প্রযুক্তি মোতায়েন করেছে তেল আবিব। এই পদক্ষেপ কেবল একটি অস্ত্র সরবরাহ নয়, বরং গত কয়েক দশকের আরব-ইসরায়েল সম্পর্কের শীতলতা কাটিয়ে এক শক্তিশালী সামরিক অক্ষ তৈরির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের পশ্চিমাঞ্চল থেকে আমিরাতের দিকে ৫০০টির বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রায় ২ হাজারটি ঘাতক ড্রোন ছোড়া হয়েছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রচলিত ‘আয়রন ডোম’ বা ‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাগুলো হিমশিম খাচ্ছিল। কারণ, ইরানের একেকটি ‘শাহেদ’ ড্রোন উৎপাদন খরচ মাত্র কয়েক হাজার ডলার, যেখানে সেগুলোকে ধ্বংস করতে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের দাম কয়েক মিলিয়ন ডলার। এই আর্থিক ও কারিগরি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইসরায়েল তার পরীক্ষাধীন ‘আয়রন বিম’ লেজার সিস্টেমকে যুদ্ধের ময়দানে নামিয়ে দিয়েছিল। এটি উচ্চ-শক্তির লেজার রশ্মির মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তুকে আকাশেই বাষ্পীভূত করে দেয়, যার প্রতিটি শটের খরচ নামমাত্র।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কেবল লেজার নয়, ইসরায়েলের ‘এলবিট সিস্টেমস’ নির্মিত ‘স্পেকট্রো’ নামক একটি হালকা ওজন ও উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন নজরদারি ব্যবস্থাও আমিরাতে কাজ শুরু করেছে। এটি শাহেদ ড্রোনগুলোর মতো ছোট এবং কম উত্তাপ ছড়ানো লক্ষ্যবস্তুকে ২০ কিলোমিটার দূর থেকেই নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাত এখন তাদের পুরোনো ‘সাইডউইন্ডার’ আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে ‘প্যাসিভ লেজার সিকার হেড’ দিয়ে আধুনিকায়ন করছে, যা ‘স্পেকট্রো’র সঙ্গে তাল মিলিয়ে ড্রোন শিকারে বিপ্লব ঘটাবে।

ইসরায়েল কেবল হার্ডওয়্যার নয়, বরং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চ প্যাডের রিয়েল-টাইম ইন্টেলিজেন্স আমিরাতের সঙ্গে শেয়ার করছে। এক ইসরায়েলি কর্মকর্তার ভাষায়, ‘আমরা তাদের আমাদের অন্দরমহলে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছি।’ ২০২০ সালের আব্রাহাম অ্যাকর্ডস যে কেবল একটি কাগুজে চুক্তি ছিল না, এই সামরিক সহযোগিতা তার প্রমাণ। আবুধাবি এখন আর দ্বিমুখী নীতিতে নেই; তারা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কৌশলগত অংশীদার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দামি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। পেন্টাগনের তথ্যমতে, থাড এবং প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় অর্ধেক মজুত ইতিমধ্যেই ব্যবহৃত হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনীয় স্টাইলে কম খরচে ড্রোন ঠেকানোর কৌশল মধ্যপ্রাচ্যেও অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইউএই সরকার এই মোতায়েন নিয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে অস্বীকার করলেও, আবুধাবিতে ইসরায়েলি সেনাসদস্যদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি একটি শক্তিশালী ‘ডিফেন্স ব্লক’ তৈরির বার্তা দিচ্ছে। এই নতুন মেরুকরণ ইরানের আঞ্চলিক আধিপত্যের পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।

তথ্যসূত্র: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস

৩ নাবিকের মৃত্যু, পচন ধরা লাশ: উপসাগরীয় সংঘাতের কোলাটেরাল ড্যামেজ ভারতীয় নাবিকেরা

রাজনীতির যৌনকরণ: ভারতে মুসলিম নারীদের লক্ষ্যবস্তু করতে যেভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এআই

বিজেপিতে না গিয়ে কেন ‘অস্তিত্বহীন’ দলে ভিড়ছেন তৃণমূলের বিদ্রোহীরা

ব্রেক্সিটের বর্ষপূর্তিতে ইইউতে ফেরার দাবি জোরদার, তবে পথ কতটা কঠিন

মার্কিন হামলায় ৩ ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর পর ট্রাম্প-মোদি সম্পর্ক নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠছে

গাজা গণহত্যা: বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, ইসরায়েলের ৮০ বছরের পরিকল্পনার ফসল

যুদ্ধ, মূল্যস্ফীতি ও সুদের চাপ: সংকটের মধ্যেও বিশ্ববাজারে কেন কমছে সোনার দাম

লাগাতার অস্থিরতায় ক্লান্ত লগ্নিকারীরা, রেকর্ড গতিতে বিনিয়োগ হারাচ্ছে বিশ্ব জ্বালানি বাজার

ইরানসহ আঞ্চলিক জোটই কি ইসরায়েলকে ঠেকানোর একমাত্র পথ

পূর্বসূরিরা এড়িয়ে যেতেন, সেই ঝুঁকিগুলোই কেন নিচ্ছে বর্তমান ইরান সরকার