হোম > বিশ্লেষণ

ভেনেজুয়েলার তেলের দখল ট্রাম্পের হাতে গেলে পৃথিবীর কী হবে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের যে কোনো দেশের তুলনায় সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল মজুত রয়েছে ভেনেজুয়েলায়—প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ব্যারেল। দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বিপুল তেলসম্পদের ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি তুলেছেন। তাঁর পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগ করে বিপুল পরিমাণ তেল উত্তোলনে নামবে। তবে জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই উদ্যোগ পৃথিবীর জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলার তেল বিশ্বের সবচেয়ে নোংরা বা দূষণকারী তেলগুলোর একটি। কার্বন ট্র্যাকার থিঙ্কট্যাঙ্কের জ্বালানি গবেষণা প্রধান গাই প্রিন্স বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক ব্যাপার নয়—এটি বিজ্ঞানের প্রশ্ন। ভেনেজুয়েলার ওরিনোকো বেল্ট অঞ্চলে থাকা তেল মূলত ‘হেভি সাওয়ার ক্রুড’, যা কানাডার অয়েল স্যান্ডসের মতোই ঘন ও আঠালো। এতে হালকা তেলের তুলনায় অনেক বেশি কার্বন রয়েছে।

এই তেল উত্তোলন করা অত্যন্ত জটিল ও শক্তি খরচের ব্যাপার। পরিবেশবাদী সংস্থা ‘অয়েল চেঞ্জ ইন্টারন্যাশনাল’-এর গবেষণা পরিচালক লর্ন স্টকম্যান জানিয়েছেন, এই তেল স্বাভাবিকভাবে তরল অবস্থায় মাটির ওপর উঠে আসে না; ভূগর্ভে বাষ্প ঢুকিয়ে আগে গরম করে নিতে হয়। এই প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস পোড়ানো হয়, যা আরও বেশি কার্বন নিঃসরণ ঘটায়।

সমস্যা এখানেই শেষ নয়। ওই তেলের উচ্চ সালফার মাত্রার কারণে এর পরিশোধন প্রক্রিয়াও ব্যয়বহুল ও দূষণকারী। এ ছাড়া ভেনেজুয়েলার পুরোনো ও জীর্ণ অবকাঠামোর কারণে মিথেন লিকেজ, গ্যাস ফ্লেয়ারিং ও তেল ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও মারাত্মক। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলায় তেল ও গ্যাস খাতে মিথেন নিঃসরণ বৈশ্বিক গড়ের ছয় গুণ।

রিস্টাড এনার্জির হিসাবে—প্রতি ব্যারেল ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদনে যে পরিমাণ জলবায়ু দূষণ হয়, তা বৈশ্বিক গড়ের দ্বিগুণেরও বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের বড় তেল কোম্পানিগুলো কিছু ক্ষেত্রে নিঃসরণ কমাতে সক্ষম হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন—এই তেলের প্রকৃতিগত সীমাবদ্ধতার কারণে বড় মাত্রায় দূষণ কমানো প্রায় অসম্ভব।

অর্থনৈতিক দিক থেকেও প্রকল্পটি অনিশ্চিত। বর্তমানে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেলেরও কম, যেখানে একসময় তা ছিল ২০ লাখের বেশি। এই উৎপাদন ধরে রাখতে আগামী ১৫ বছরে অন্তত ৫৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন। আর অতীতের মতো উৎপাদন বাড়াতে লাগবে প্রায় ১৮৩ বিলিয়ন ডলার—যা কম দামের তেলবাজারে অবাস্তব বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দিয়েগো রিভেরা রিভোতা বলেন, ভেনেজুয়েলার তেল ব্যাপকভাবে উত্তোলন করা হলে বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। তবে পরোক্ষভাবে আরও বড় ক্ষতি হতে পারে। কারণ এই পদক্ষেপে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে বিশ্বকে এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা ব্যাহত হবে এবং পুরোনো সম্পদ-নির্ভর সংঘাতের রাজনীতি আবার শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

বিশেষজ্ঞরা তাই মনে করেন, ভেনেজুয়েলার তেলের দখল শুধু একটি দেশের বিষয় নয়—এটি পুরো গ্রহের ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করতে পারে।

মার্কিন নেতৃত্বে ‘সম্পদ সাম্রাজ্যবাদের’ নতুন যুগের যাত্রা কি শুরু হলো

ইরানের এবারের বিক্ষোভ কেন অতীতের চেয়ে আলাদা

জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানে ভর করে আইএমএফের ঋণ থেকে মুক্তি চায় পাকিস্তান

ভেনেজুয়েলায় ‘গণতন্ত্রী’ মাচাদোর পরিবর্তে মাদুরো–ঘনিষ্ঠ দেলসিকেই কেন বেছে নিলেন ট্রাম্প

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নজিরবিহীন অস্বাভাবিক উত্তেজনা, মেরামত সম্ভব কি

সহজ যে ৪ ধাপে গ্রিনল্যান্ড কবজা করতে পারেন ট্রাম্প

মাদুরোর মামলাটি যেভাবে ভেস্তে দিতে পারেন তাঁর আইনজীবীরা

মাদুরোকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পরও কেন নিশ্চুপ পুতিন

‘প্রয়োজনের তাগিদে’ তারেক রহমানে আস্থা দিল্লির, জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন চায় বিএনপি

যে স্বার্থে ইয়েমেনে অস্থিরতা জিইয়ে রাখতে চায় আরব আমিরাত ও ইসরায়েল