এশিয়ার বিভিন্ন দেশে জ্বালানি তেলের রেশনিং শুরু হয়েছে, হাসপাতালগুলোয় টান পড়েছে চিকিৎসা সরঞ্জামের। সাধারণ মানুষ প্লাস্টিক ব্যাগ মজুত করছে এবং প্যাকেজিং সংকটে পড়েছে কলকারখানাগুলো। এশিয়াজুড়ে চলমান এই সরবরাহ সংকট এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ, তাদের মোট আমদানির প্রায় অর্ধেকই আসে এশিয়া থেকে।
কেন এই সংকট
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে অ্যালুমিনিয়াম, প্লাস্টিক ও রাবার সরবরাহ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। বিশ্বের মোট পলিপ্রোপাইলিনের ২৫ শতাংশ ও পলিথিন উৎপাদনের ২০ শতাংশই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। এ ছাড়া বিশ্বের এক-চতুর্থাংশ সালফার ও ১৫ শতাংশ সারের জোগান দেয় এই অঞ্চল।
বৈশ্বিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কেপিএমজির তেল ও গ্যাস বিভাগের বিশ্বপ্রধান অ্যাঞ্জি গিলডিয়া বলেন, সবাই অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি নিয়ে চিন্তিত, কিন্তু পেট্রোকেমিক্যাল ও ফিডস্টক সরবরাহেও এখন বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার ইওচুন ও সিঙ্গাপুরের পিসিএসের মতো বড় পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদকেরা ইতিমধ্যে ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ (অনিবার্য কারণবশত প্রতিশ্রুতি পালনে অক্ষমতা) ঘোষণা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ঝুঁকি
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যতটা ভাবছে, তারচেয়েও বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০-এর সূচক গত তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো দীর্ঘমেয়াদি গড় ছাড়িয়ে গেছে। বিনিয়োগ কৌশলী রস মেফিল্ডের মতে, ট্রাম্পের শুল্ক বা ট্যারিফ আগে থেকে অনুমেয় ছিল, কিন্তু এই যুদ্ধ কোম্পানিগুলোকে প্রস্তুতির কোনো সুযোগ দেয়নি।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় এপ্রিলের শেষ নাগাদ বিশ্ববাজারে ৭০ কোটি ব্যারেল তেলের ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে কেপলার। এশিয়ার জ্বালানি সংকটের কারণে কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যেতে না পারলে উৎপাদন ব্যাহত হবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে মার্কিন আমদানিতে।
এখন পর্যন্ত কেন তীব্র প্রভাব পড়েনি
যুক্তরাষ্ট্রের মোট জ্বালানি আমদানির মাত্র ৭ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসে এবং দেশটি নিজের অধিকাংশ জ্বালানি নিজেরাই উৎপাদন করে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই সমস্যা এখন পর্যন্ত প্রাপ্যতার চেয়ে উচ্চমূল্যের বেশি। সিটি গ্রুপের প্রধান অর্থনীতিবিদ নাথান শিটস বলেন, যুদ্ধের আগে পাঠানো শেষ চালানগুলো মাত্র এশিয়ায় পৌঁছেছে, তাই বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হতে আরও সময় লাগবে।
ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের অর্থনীতিবিদ স্টিফেন ব্রাউন বলেন, প্লাস্টিকের এই সংকট বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে তিন মাস এবং অ্যালুমিনিয়ামের অভাবে অটোমোবাইল কারখানায় উৎপাদন কমতে চার মাস সময় লাগতে পারে।
করোনা মহামারি ও ট্রাম্পের শুল্ক যুদ্ধের সময় কোম্পানিগুলো তাদের সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা বৈচিত্র্য এনেছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রকে কিছুটা সুরক্ষা দিয়েছে। কিন্তু এবার ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ উন্মুক্ত না হলে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হতে পারে।