মাত্র ১৭ বছর বয়সে এঁকেছিলেন ‘সুজানা অ্যান্ড দ্য এলডার্স’। ২০ বছর বয়সে তাঁর হাতে তৈরি হয়েছিল ‘ম্যাডোনা অ্যান্ড চাইল্ড’-এর মতো মাস্টারপিস। তিনি আর্টেমিসিয়া জেন্টিলেস্কি। তিনি শুধু ছবিই আঁকেননি, ভেঙেছিলেন পুরুষতান্ত্রিক সমাজের হাজারো ট্যাবু।
১৫৯৩ সালে ইতালির রোমে জন্মগ্রহণ করেছিলেন আর্টেমিসিয়া। বাবা ওরাজিও জেন্টিলেস্কির হাত ধরে ক্যানভাসের সঙ্গে পরিচয় তাঁর। সে সময়কার রক্ষণশীল সমাজে আর্টেমিসিয়া প্রথম নারী হিসেবে ফ্লোরেন্সের ‘একাডেমি অব ফাইন আর্টস’-এর সদস্যপদ লাভ করেন। এই একাডেমিতেই বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালিলির সঙ্গে তাঁর গভীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। সেই সূত্র ধরে তাঁরা চিঠিপত্র আদান-প্রদান করতেন। নিজের বিখ্যাত ‘সেলফ-পোর্ট্রেট’ তৈরিতে তিনি দুটি মুখোমুখি আয়না ব্যবহার করে তৈরি করেছিলেন এক অনন্য পার্সপেকটিভ। তাঁর আঁকা ‘দ্য ইনক্লিনেশন’ ছবিটি প্রথমে সম্পূর্ণ নগ্ন থাকলেও পরবর্তী সময়ে তা কাপড়ে ঢেকে দেওয়া হয়।
লন্ডন সফরে গিয়ে রানি হেনরিয়েটা মারিয়ার জন্য বাবার সঙ্গে যৌথভাবে গ্রিনিচের কুইন্স হাউসের সিলিংয়ে ‘অ্যান অ্যালিগরি অব পিস’ নামের ৯টি নিখুঁত ছবি আঁকেন আর্টেমিসিয়া। তাঁর জীবন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ভিক্টোরিয়ান লেখক জর্জ এলিয়ট লিখেছিলেন তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘রোমোলা’। আজকের দিনেও জুডি শিকাগোর বিখ্যাত নারীবাদী শিল্পকর্ম ‘দ্য ডিনার পার্টি’-তে আর্টেমিসিয়ার জন্য একটি বিশেষ আসন সংরক্ষিত রয়েছে। এটি প্রমাণ করে,
যুগ যুগ ধরে তিনি নারীদের আত্মপ্রকাশের এক চিরন্তন প্রতীক। ১৬২১ সালের ৮ জুলাই ইতালীয় বারোক যুগের এই চিত্রশিল্পী মারা যান।