১৮৭৫ সালের ১৮ জুন বিখ্যাত জোড়াসাঁকো ঠাকুর পরিবারে জন্ম নেন সুনয়নী দেবী। তিনি ছিলেন গুণেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা এবং অবনীন্দ্রনাথ ও গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট বোন। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই শুধু দুই ভাইয়ের ছবি আঁকার নিরীক্ষা লুকিয়ে লুকিয়ে দেখেই তাঁর চিত্রশিল্পে হাতেখড়ি হয়।
১২ বছর বয়সে বিয়ে হয়ে গেলেও ৩০ বছর বয়সে গিয়ে স্বামীর অনুপ্রেরণায় তিনি পুরোদমে ছবি আঁকা শুরু করেন। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত নিয়মিত কাজ করতেন তিনি। গ্রামীণ পটচিত্র, মাটির পুতুল এবং কালীঘাটের পটের সহজ-সরল রূপ ছিল সুনয়নী দেবীর মূল অনুপ্রেরণা। তাঁর তুলিতে ফুটে উঠত মূলত পৌরাণিক চরিত্র ও লোকজ আবহ। তাঁর আঁকা ছবির একটি বড় বৈশিষ্ট্য ছিল মাছের মতো টানা টানা অর্ধনিমীলিত চোখ, যা ছবির পাত্র-পাত্রীর আধ্যাত্মিক ভাব ফুটিয়ে তুলত।
জাপানি ওয়াশ টেকনিকের ছোঁয়ায় জলরঙে আঁকা তাঁর ‘গোপীবেশে রাধাকৃষ্ণ’ কিংবা ‘রাধিকার সাইড প্রোফাইল’ চিত্রকর্মগুলো সরলতা ও ধ্রুপদি শিল্পের এক অপূর্ব মিশ্রণ। অস্ট্রীয়-আমেরিকান শিল্প ইতিহাসবিদ, কিউরেটর ডা. স্টেলা ক্র্যামরিশের মতে, তাঁর ছবিগুলোর লাইনের সাবলীলতা ও গভীর প্রশান্তি সরাসরি তাঁর অন্তরের প্রকৃতি থেকে উৎসারিত হতো। ভারতীয় লোকশিল্পের এই আধুনিক মেলবন্ধন তাঁকে ভারতীয় আধুনিক শিল্প গ্যালারির অন্যতম কান্ডারিতে পরিণত করেছে। ১৯৬২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তিনি মারা যান।