হোম > নারী

কল্পনা চাওলার মহাকাশে হারিয়ে যাওয়ার ২০ বছর

তামান্না-ই-জাহান, ঢাকা

ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন ছিল আকাশ ছোঁয়ার। ছুঁয়েওছিলেন। আবার মৃত্যুও সেই মহাকাশে। বলছি কল্পনা চাওলার কথা। তিনি ভারতে জন্ম নেওয়া প্রথম নারী মহাকাশচারী। কল্পনা চাওলার জন্ম ১৯৬২ সালের ১৭ মার্চ ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের কার্নালে। ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে উড়োজাহাজ দেখতে স্থানীয় ফ্লাইং ক্লাবে যেতেন। সে সময় ভারতে মেয়েদের উচ্চতর শিক্ষাগ্রহণ ছিল একপ্রকার বিলাসী চিন্তা। কিন্তু এমন বাস্তবতায় মায়ের অনুপ্রেরণায় কল্পনা এগিয়ে গেছেন, নিয়েছেন উচ্চতর শিক্ষা।

এক সাক্ষাৎকারে কল্পনা শৈশবের স্মৃতিচারণা করে বলেছিলেন, স্কুলে যখন সহপাঠীরা পাহাড়-পর্বত, গাছপালা, আকাশ, মানুষ আঁকত; তখন তিনি আঁকতেন উড়োজাহাজের ছবি। ব্যবহারিক ক্লাসে বিভিন্ন ধরনের উড়োজাহাজের মডেল তৈরি করতেন। বরাবরই কল্পনার পছন্দের বিষয় ছিল বিজ্ঞান। একবার গণিতের ক্লাসে শিক্ষক তাঁকে বললেন নাল বা শূন্য সেটের উদাহরণ দিতে। তিনি তখন বলেছিলেন, ভারতীয় নারীরা নাল সেটের অন্যতম উদাহরণ। কারণ তখন পর্যন্ত কোনো ভারতীয় নারীই মহাকাশবিজ্ঞানী হননি।

দ্বাদশ পরীক্ষায় ভালো ফলের পর কল্পনা চিন্তা করলেন, এবার তাঁকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া শুরু করতে হবে। ভাবনামতো পাঞ্জাব ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। এরপর ১৯৮২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসে অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে মাস্টার্স করার সুযোগ পান। কল্পনা ব্যক্তিগত জীবনে লেখক-গবেষক জ্যঁ পিয়েরে হ্যারিসনকে ১৯৮৩ সালে বিয়ে করেন। ১৯৯১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন কল্পনা।

১৯৮৮ সালে তিনি যোগ দেন মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসায়। সংস্থার এমস রিসার্চ সেন্টারে গবেষক হিসেবে শুরু করেন কর্মজীবন। ১৯৯৪ সালের ডিসেম্বরে কল্পনা নাসার জ্যোতির্বিজ্ঞানী হিসেবে নিয়োজিত হন। ১৯৯৫ সালে নাসার মহাকাশযাত্রী দলের সদস্য হন তিনি।

১৯৯৬ সালে কল্পনা স্পেস শাটল কলম্বিয়া এসটিএস-৮৭ মিশনে স্পেশালিস্ট হিসেবে অংশ নেন। এই মিশন ১৯৯৭ সালের নভেম্বরে কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে যাত্রা শুরু করে ১৫ দিন মহাকাশে অবস্থান করেন। সেটিই ছিল তাঁর প্রথমবারের মতো মহাকাশে ভ্রমণ।

২০০০ সালে এসটিএস-১০৭ মিশনে আবার তাঁকে মিশন স্পেশালিস্ট হিসেবে নির্বাচন করা হয়। সেটি ছিল স্পেস শাটল কলম্বিয়ার চূড়ান্ত অভিযান। ২০০৩ সালে কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে মহাকাশের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন কল্পনাসহ সাতজন। স্পেস শাটলটি প্রায় ১৬ দিন মহাকাশে অবস্থান করে। তবে পরে জানা যায়, শাটলটি উড্ডয়নের পরপরই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তা সত্ত্বেও মিশনটি সফলভাবে চলতে থাকে। ২০০৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মহাকাশযানটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশ করে। কিন্তু কেনেডি স্পেস সেন্টারে অবতরণের ১৬ মিনিট দূরত্বে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়।

বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে সংঘর্ষে বিস্ফোরিত হয়ে যায় মহাকাশযানটি। এতে মিশনের সাত অভিযাত্রীই প্রাণ হারান। সেই সাতজনের একজন কল্পনা চাওলা। চেনা বায়ুমণ্ডলই যাঁকে ঘরে ফিরতে দেয়নি।

কল্পনা চাওলার মহাকাশে হারিয়ে যাওয়ার ২০ বছর আজ। মৃত্যুর দুই দশক পেরোলেও স্মৃতিতে গেঁথে আছেন এই মহাকাশচারী কন্যা। তাঁর স্মৃতিতে মঙ্গল গ্রহের একটি পর্বতচূড়ার নাম দেওয়া হয় ‘কল্পনা হিল’। এ ছাড়া ‘এসএস কল্পনা’ নামে আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বয়ে নিয়ে যাওয়া একটি মহাকাশযানের নামকরণ করে নাসা। আর কল্পনার জন্মভূমি ভারত 
তাদের প্রথম মেটেরোলজিক্যাল স্যাটেলাইটের নাম রাখে ‘কল্পনা-১’।

শরিয়তি ফারায়েজ অনুযায়ী মেয়ের সন্তান নানার সম্পত্তির সরাসরি ওয়ারিশ হয় না

নিরাপত্তাহীন নারী ও শিশু, সংখ্যা বাড়ছে নির্যাতিতের

শেক্‌সপিয়ার বিশেষজ্ঞ ভয়ংকর এক নারী ইয়েং থিরিথ

ক্ষত আর স্বপ্ন নিয়ে নতুন ভোরের অপেক্ষায় নারীরা

বইকে বেঁচে থাকার শক্তি হিসেবে দেখাতে চান দিয়া

সৌন্দর্যশিল্পের মুকুটহীন সম্রাজ্ঞী এলিজাবেথ আরডেন

বড়দিনের বিখ্যাত গানগুলোর নেপথ্যের নারীরা

উদ্যোক্তা মেলা: সংখ্যা কমলেও আশাবাদী নারী উদ্যোক্তারা

রোজের ফুটে ওঠার গল্প

আন্তর্জাতিক নারী: অন্ধকার আকাশ যাঁর ল্যাবরেটরি