নিউজিল্যান্ডের সাউথ আইল্যান্ডে সম্প্রতি ঘটে গেছে এক অভাবনীয় ঘটনা। দান করার উদ্দেশ্যে একটি চ্যারিটি শপে (দাতব্য দোকান) ভুলবশত মাদক ও বিপুল পরিমাণ নগদ টাকাভর্তি ব্যাগ ফেলে গেছে দুই কিশোর-কিশোরী। পরে সেই ব্যাগ উদ্ধারে মরিয়া হয়ে দোকানে ফিরে এলেও শেষরক্ষা হয়নি; পুলিশের হাতে ধরা পড়তে হয়েছে তাদের।
ঘটনাটি ঘটে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সাউথল্যান্ড অঞ্চলের একটি চ্যারিটি শপের বাইরে। শপটির একজন স্বেচ্ছাসেবক জানান, দোকানের বাইরে রাখা একটি ব্যাগের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি তীব্র কটু গন্ধ পান। সন্দেহ হওয়ায় ব্যাগটি খুলতেই চমকে ওঠেন। ব্যাগের ভেতর প্লাস্টিকের প্যাকেটে ভরা ছিল ৪৩.২ গ্রাম গাঁজা এবং ৩ হাজার ৭০০ নিউজিল্যান্ড ডলার (প্রায় ২২০০ মার্কিন ডলার) নগদ অর্থ। অবিলম্বে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
পুলিশের দেওয়া বিবৃতিতে জানা গেছে, ব্যাগটি ফেলে যাওয়া কিশোর ও কিশোরী কাছের একটি গ্যারেজে তাদের গাড়ি সারাই করতে দিয়েছিল। সেখানে অপেক্ষা করার সময় তারা ভুল করে ব্যাগটি চ্যারিটি শপের দান করার জায়গায় ফেলে আসে। কিছুক্ষণ পর ব্যাগটি খুঁজে না পেয়ে তারা চরম আতঙ্কিত অবস্থায় দোকানে ফিরে আসে এবং ব্যাগটি ফেরত চায়। ততক্ষণে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়।
পুলিশ ওই কিশোর-কিশোরীর গাড়ি তল্লাশি করে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পায়। তাদের গাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়: একটি এয়ার পিস্তল (নিউজিল্যান্ডের আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে লাইসেন্স ও অভিভাবক ছাড়া যা রাখা নিষিদ্ধ) ; একটি পুলিশ স্ক্যানার; আরও কিছু নগদ অর্থ।
নিউজিল্যান্ডের আইনে পুলিশ স্ক্যানার রাখা অপরাধ না হলেও এর মাধ্যমে পাওয়া তথ্য প্রচার করা বা ব্যবহার করা দণ্ডনীয় অপরাধ।
নিউজিল্যান্ডে বিনোদনমূলক কাজে গাঁজার ব্যবহার বা বিক্রি সম্পূর্ণ অবৈধ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বয়স ১৭ বছরের নিচে হওয়ায় মামলাটি ‘ইয়ুথ কোর্ট’ বা কিশোর আদালতে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় আইনের কড়াকড়ির কারণে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় বা মামলার পরবর্তী বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ। তবে এই অদ্ভুত কাণ্ড নিয়ে নিউজিল্যান্ডের সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ চর্চা চলছে।
পুলিশের এক মুখপাত্র বলেন, ‘এটি একটি বিরল ঘটনা, যেখানে অপরাধীরা নিজেরাই নিজেদের অপরাধের প্রমাণ পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে।’
তথ্যসূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)