হাঙ্গেরির রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা হলো। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা জাতীয়তাবাদী নেতা ভিক্টর ওরবানকে পরাজিত করে দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন পিটার ম্যাগিয়ার। গতকাল রোববার হাঙ্গেরির পার্লামেন্ট ভবনের সামনে হাজার হাজার মানুষের উল্লাসের মধ্য দিয়ে এই ঐতিহাসিক অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
অভিষেক অনুষ্ঠানের সমস্ত গাম্ভীর্যের মাঝেও সবার নজর কেড়েছেন নতুন মন্ত্রিসভার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জোল্ট হেগেডাস। গত এপ্রিলের নির্বাচনে জয়ের রাতে তাঁর নাচের একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়েছিল। এক ভিডিওতেই রাতারাতি ইন্টারনেট সেনসেশন-এ পরিণত হন তিনি। রোববারের অনুষ্ঠানেও সেই একই আমেজ বজায় রেখে আবারও নাচের ছন্দে ধরা দিলেন তিনি।
মন্ত্রিসভার সদস্যদের পার্লামেন্টে প্রবেশের সময় উপস্থিত জনতা স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বিপুল করতালির মাধ্যমে স্বাগত জানায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে নিয়ে আবারও চর্চা শুরু হয়েছে, যেখানে অনেকেই তাঁকে ‘ড্যান্সিং মিনিস্টার’ হিসেবে অভিহিত করছেন।
এপ্রিলের নির্বাচনে পিটার ম্যাগিয়ারের নেতৃত্বাধীন তিসজা পার্টি অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। হাঙ্গেরির পার্লামেন্টের মোট ১৯৯টি আসনের মধ্যে ১৪১টি আসনেই জয়লাভ করেছে এই দল। আধুনিক হাঙ্গেরির ইতিহাসে এই ঘটনাকে অন্যতম বড় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে জমায়েত হওয়া হাজার হাজার মানুষের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা এবং পরিবর্তনের স্লোগান। অভিষেক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী পিটার ম্যাগিয়ার হাঙ্গেরিকে এক নতুন দিশা দেখানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারই যে তাঁর সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেছেন।
ভিক্টর ওরবানের ১৬ বছরের রক্ষণশীল শাসনের পর পিটার ম্যাগিয়ারের এই জয় ইউরোপীয় রাজনীতিতেও এক বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।