কোডিং দুনিয়ায় ফিরে গেছেন ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা ও টেক জায়ান্ট মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গ। এমনকি আগে যে ডেস্কে কাজ করতেন, সেই ডেস্কও পাল্টে ফেলেছেন তিনি। বসছেন মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে কর্মরত গবেষকদের সঙ্গে।
জানা গেছে, এআই খাতে মেটার আমূল পরিবর্তনের প্রচেষ্টাকে একেবারে সামনে থেকে পরখ করতে চাচ্ছেন জাকারবার্গ। এ কারণে এআই গবেষকদের সঙ্গে একই ডেস্কে বসে অফিস করছেন তিনি।
ওয়াশিংটন ডিসিতে ‘সেমাফোর ওয়ার্ল্ড ইকোনমি সামিটে’ মেটার প্রেসিডেন্ট দিনা পাওয়েল ম্যাককরমিক বলেন, ‘মার্ক তাঁর ডেস্ক সরিয়ে নিয়েছেন। তিনি এখন এআই ল্যাবে আলেকজান্ডার ওয়াং ও ন্যাট ফ্রিডম্যানের সঙ্গেই বসছেন এবং সারাদিন কোডিং করছেন।’
রসিকতা করে ম্যাককরমিক বলেন, “একদিক থেকে গবেষকদের অবস্থা এমন যে, ‘বাহ্ দারুণ তো মার্ক, কোডিং করার সময় তোমার কাছ থেকে আরও বেশি পরামর্শ পাওয়া যাবে’। ”
তবে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ম্যাককরমিক জানান, জাকারবার্গ মনে করেন কোম্পানির এআই কার্যক্রমে তাঁর এভাবে সম্পৃক্ত হওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, আমাদের এআই মডেলটিকে সবচেয়ে শক্তিশালী করতে হলে তাঁকে একদম তৃণমূল পর্যায় থেকে বিষয়টি বুঝতে হবে।’
ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি, অ্যানথ্রোপিকের ক্লদ এবং গুগলের জেমিনির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এআই প্রতিযোগিতায় মেটা যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, জাকারবার্গের এই সক্রিয়তা তারই বহিঃপ্রকাশ। এর আগেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর এমন গভীর সম্পৃক্ততার কথা উঠে এসেছে।
গত জুন মাসে ব্লুমবার্গ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, জাকারবার্গ মেনলো পার্কে কোম্পানির সদর দপ্তরের ডেস্কগুলোর বিন্যাস পরিবর্তন করেছেন যাতে নতুন কর্মীরা তাঁর কাছাকাছি বসতে পারেন। গত সোমবার ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানায়, জাকারবার্গ প্রতি সপ্তাহে পাঁচ থেকে দশ ঘণ্টা সময় বিভিন্ন এআই প্রজেক্টের কোডিং এবং অন্যদের কাজ পর্যালোচনায় ব্যয় করছেন।
‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ল্যাবস’ (এমএসএল) নামে নিজেদের নতুন এআই টিম গঠনে মেটা কোটি কোটি ডলার ব্যয় করছে। এর মধ্যে স্কেল এআইতে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এবং এর সহপ্রতিষ্ঠাতা আলেকজান্ডার ওয়াংকে দলে ভেজানোর বিষয়টিও রয়েছে। এই বিভাগের কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জাকারবার্গ নিজে সরাসরি যুক্ত ছিলেন।
ম্যাককরমিক আরও জানান, গত জুলাই মাসে গিটহাবের সাবেক সিইও ন্যাট ফ্রিডম্যান মেটাতে যোগ দিয়েছেন। তিনি কোম্পানির এআই পণ্যগুলোর উন্নয়নে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
জেনারেটিভ এআইয়ের দৌড়ে মেটা তার প্রতিদ্বন্দ্বী হাইপারস্কেলার ও ফ্রন্টিয়ার মডেল নির্মাতাদের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে আছে, বাইরে থেকে এমন একটি ধারণা প্রচলিত ছিল। এমএসএল টিম নতুন নতুন মডেল তৈরির মাধ্যমে সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করার চেষ্টা করছে।
চ্যাটজিপিটির মাধ্যমে চ্যাটবট বাজারে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছে ওপেনএআই। অন্যদিকে গুগল তাদের ‘ফুল-স্ট্যাক’ সুবিধার মাধ্যমে ওপেনএআইকে কড়া টক্কর দিচ্ছে। গত ছয় মাসে ক্লদ কোড এবং কো-ওয়ার্কের মতো উদ্ভাবনী কাজের জন্য ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে অ্যানথ্রোপিক। তবে সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, এমন আশঙ্কায় তাদের সর্বশেষ মডেল ‘ক্লদ মিথোস’ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত না করার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
অবশ্য এমএসএল টিম গঠনে মেটার বিশাল বিনিয়োগের সুফল পেতে শুরু করার লক্ষণও দেখা যাচ্ছে। সুপার ইন্টেলিজেন্স ল্যাবসের তৈরি প্রথম এআই মডেল ‘মিউজ স্পার্ক’ মুক্তির পর মেটার শেয়ারের দাম ৮ শতাংশ বেড়েছে। জাকারবার্গ এটিকে এই বিভাগের ‘প্রথম মাইলফলক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।