রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত হ্যাকাররা জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপগুলো ব্যবহার করে ব্যাপক সাইবার হামলা চালাচ্ছে। উচ্চপদস্থ ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্ট হ্যাকের উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হচ্ছে বলে সতর্কবার্তা জারি করেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এফবিআই)।
সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সির সঙ্গে এক যৌথ নির্দেশনায় এফবিআই জানিয়েছে, এই হ্যাকাররা এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করেছে। নির্দেশনায় বলা হয়, যাঁদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে, তাঁদেরই লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান ও সাবেক মার্কিন সরকারি কর্মকর্তা, সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সাংবাদিকেরা।
একবার কোনো অ্যাকাউন্ট হ্যাক করতে পারলে হামলাকারীরা ওই ব্যক্তির সব মেসেজ ও কন্টাক্ট লিস্ট দেখতে পারে। এমনকি ভুক্তভোগীর পরিচয় ব্যবহার করে অন্য ব্যক্তিদের কাছে মেসেজ পাঠাতে পারে এবং অন্যান্য কমার্শিয়াল মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশনে (সিএমএ) ফিশিং হামলা চালাতে পারে।
তদন্তে দেখা গেছে, হ্যাকাররা বিশেষভাবে সিগন্যাল (ওপেন সোর্স মেসেজিং অ্যাপ) ব্যবহারকারীদের লক্ষ্যবস্তু করছে। তবে একই ফিশিং পদ্ধতি হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মতো অন্যান্য জনপ্রিয় অ্যাপের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা সম্ভব। সিগন্যাল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ব্যবহারকারীদের ধোঁকা দিয়ে তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার জন্য অত্যন্ত ‘পরিশীলিত ফিশিং ক্যাম্পেইন’ চালানো হচ্ছে।
ব্রিটিশ দৈনিক দি ইনডিপেনডেন্ট থেকে জানা যায়, হ্যাকাররা অ্যাপের মূল এনক্রিপশন বা নিরাপত্তাব্যবস্থা ভাঙতে পারেনি; বরং তারা ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা সামাজিক কৌশলের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলছে। রুশ হ্যাকাররা অ্যাপের ‘অফিশিয়াল সাপোর্ট’ সেজে ব্যবহারকারীদের ভেরিফিকেশন কোড বা পিন শেয়ার করতে অথবা কোনো লিংকে ক্লিক করতে প্রলুব্ধ করে। এর মাধ্যমে তারা অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশাধিকার পায়, যা পরে ম্যালওয়্যার ছড়ানোর মতো আরও বড় হামলার দিকে মোড় নিতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে এফবিআই এবং সিআইএসএ ব্যবহারকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। অপরিচিত নম্বর থেকে আসা যেকোনো অপ্রত্যাশিত মেসেজ যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ছাড়া সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করা বা ফাইল ওপেন করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। যাঁরা ইতিমধ্যে এই রুশ হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছেন, তাঁদের ‘ইন্টারনেট ক্রাইম কমপ্লেইন্ট সেন্টারে’ (আইসি-৩) অভিযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।