নব্বই বা শূন্য দশকের শুরুর দিকের সেই কোরবানির ঈদের দিনগুলোর কথা মনে আছে? হাটের গরু নিয়ে তুমুল উত্তেজনা কিংবা ঈদের দিন সকাল থেকে মাংস কাটাছেঁড়ার বিশাল ব্যস্ততা। এর মাঝেও আমাদের শৈশবের একটা বড় অংশজুড়ে থাকত ঈদ কার্ড। ঈদের আগের রাতে ড্রয়িংরুমে বসে একদিকে বড়রা যখন মাংস বিলি-বণ্টনের হিসাব মেলাতেন, ঠিক তখন ঘরের এক কোণে চলত গোপন মিশন। পাড়ার মোড়ের দোকান থেকে দুই টাকা, পাঁচ টাকা দিয়ে কেনা রঙিন কার্ড, কোনোটাতে জরির কাজ, কোনোটাতে আবার স্প্রে পেইন্টের নকশা। আর ভেতরে কাঁপা কাঁপা অক্ষরে সেই চিরন্তন চার লাইন ‘ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি’।
প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আমরা সবাই এখন ডিজিটাল। কোরবানি ঈদের শুভেচ্ছা মানেই এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গরুর ছবির সঙ্গে একটা ‘ঈদ মোবারক’ স্ট্যাটাস, একটা ফরওয়ার্ডেড মেসেজ কিংবা ঝকঝকে অ্যানিমেটেড জিআইএফ। এক ক্লিকেই শুভেচ্ছা বিনিময়ের দায়িত্ব শেষ! তবে ব্যস্ততার দোহাই দেওয়া এই সময়ে ঈদে হারিয়ে যাওয়া শৈশবের স্বাদ
আর অনাবিল আনন্দ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
মোবাইল অ্যাপের জন্য সেরা মাধ্যম
কম্পিউটার ছাড়াই শুধু হাতের স্মার্টফোন দিয়ে ঝটপট ঈদ কার্ড তৈরি করতে কিছু অ্যাপ গুগল প্লে-স্টোর বা অ্যাপ-স্টোর থেকে নামিয়ে নিতে পারেন। এই অ্যাপগুলো ফ্রি ব্যবহার করা যায়। অ্যাপের ভেতরে কিছু নির্দিষ্ট প্রিমিয়াম ব্যাকগ্রাউন্ড ও এলিমেন্ট রয়েছে, যেগুলো ব্যবহার করতে চাইলে সেসব অ্যাপের পেইড ভার্সন ব্যবহার করতে হয়।
ক্যানভা মোবাইল অ্যাপ
- অ্যাপটি ইনস্টল করে ওপেন করুন এবং লগইন করুন।
- সার্চবারে ‘ঈদ কার্ড’ লিখে সার্চ করুন।
- আপনার পছন্দের যেকোনো একটি ফ্রি টেমপ্লেটের ওপর ট্যাপ করুন।
- স্ক্রিনের লেখার ওপর ট্যাপ করে নিজের নাম বা শুভেচ্ছা লিখুন। চাইলে স্মার্টফোনের গ্যালারি থেকে ছবিও যোগ করতে পারবেন।
- ওপরের ডান দিকের অ্যারো (ডাউনলোড) আইকনে চাপ দিয়ে কার্ড গ্যালারিতে সেভ করুন।
- ডিজাইনার
- অ্যাপটি খুলে ক্যাটাগরি থেকে ‘গ্রিটিংস’ বা ‘কার্ডস’ বাছুন অথবা সার্চবারে ‘ঈদ’ লিখে সার্চ করুন।
- ফ্রি টেমপ্লেটগুলোর মধ্য থেকে একটি সিলেক্ট করুন।
- লেখার ওপর টাচ করে টেক্সট বদলান। প্রয়োজনমতো ব্যাকগ্রাউন্ডের রং পরিবর্তন বা নতুন স্টিকার বা ফ্রেম যুক্ত করুন।
- কাজ শেষে ডাউনলোড অপশনে গিয়ে কার্ডটি সেভ করে নিন।
- পোস্টার মেকার, ফ্লায়ার মেকার অ্যান্ড গ্রাফিক ডিজাইনার মেকার
- অ্যাপটি ওপেন করে হোম স্ক্রিনের উৎসবের তালিকা থেকে ‘ঈদ’ বা ‘ফেস্টিভ্যাল’ ক্যাটাগরি বেছে নিন।
- তৈরি থাকা টেমপ্লেট থেকে যেকোনো একটি পছন্দ করুন।
- নিচের টুলবার থেকে টেক্সট অপশনে গিয়ে শুভেচ্ছা বার্তা লিখুন। এখানে ফন্ট স্টাইল কিংবা
- থ্রি-ডি ইফেক্ট দেওয়ার সুযোগ আছে। স্টিকার অপশন থেকে ঈদের স্টিকারও যোগ করে নিতে পারেন।
- সেভ বাটনে চাপ দিলে কার্ডটি হাই-কোয়ালিটি ছবি হিসেবে ফোনে সেভ হয়ে যাবে।
ডেস্কটপের মাধ্যমে ঈদ কার্ড তৈরি
ক্যানভা
- ব্রাউজার থেকে সাইটে গিয়ে গুগল বা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট দিয়ে ফ্রি লগইন করুন।
- ওপরের সার্চবারে ‘ঈদ কার্ড’ বা ‘ঈদ গ্রিটিংস’ লিখে সার্চ করুন।
- যেসব টেমপ্লেটের ওপর ‘প্রো’ বা মুকুটের চিহ্ন নেই, এমন একটি ফ্রি টেমপ্লেট সিলেক্ট করুন।
- এডিটিং প্যানেলে লেখার ওপর ডাবল ক্লিক করে নিজের নাম বা শুভেচ্ছা লিখুন। চাইলে রং ও ফন্ট বদলে নিতে পারেন।
- ওপরের ডানের শেয়ার বাটনে ক্লিক করে ডাউনলোডে যান। ফাইল টাইপ জেপিজি বা পিএনজি সিলেক্ট করে কম্পিউটারে সেভ করুন।
অ্যাডোবি এক্সপ্রেস
- অ্যাডোবির ওয়েবসাইটে গিয়ে একটি ফ্রি অ্যাকাউন্ট তৈরি করে লগইন করুন।
- সার্চ বক্সে ‘ঈদ’ বা ‘ঈদ কার্ড’ লিখে সার্চ করে ফ্রি লে-আউটগুলো সামনে আনুন।
- পছন্দসই টেমপ্লেট বেছে নিয়ে কাস্টমাইজে ক্লিক করুন।
- মাউস দিয়ে টেনে নতুন ছবি, চাঁদ-তারা বা লণ্ঠনের আইকন বসান। টেক্সট বক্সে ক্লিক করে নিজের শুভেচ্ছাবাণী লিখুন।
- কাজ শেষ হলে ওপরের ডাউনলোড বাটনে ক্লিক করে জেপিজি বা পিএনজি ফরম্যাটের ছবি কম্পিউটারে সেভ করে যাঁকে খুশি পাঠিয়ে দিন।
ডিজিটাল যুগে সেই চেনা হাতের লেখার ওম, খাম খোলার রোমাঞ্চ আর কার্ড ওলটানোর চিরচেনা নস্টালজিয়াটা হয়তো আর পাওয়া যাবে না।
কিন্তু শুভেচ্ছা পাঠানোর যে উষ্ণতা, সেটা পাওয়া যাবে। বন্ধুদের কাছে পুরোনো স্মৃতি লিখে পাঠাতে পারেন। তাতে আরও রঙিন হয়ে উঠবে ঈদ।