বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাত্রীরা এখন অ্যাপভিত্তিক সেবার মাধ্যমে গাড়ি, মোটরবাইক, এমনকি নৌযানও ডাকতে পারেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে আকাশপথের ট্যাক্সি। রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ‘উবার’ ঘোষণা দিয়েছে, চলতি বছরের (২০২৬) শেষ নাগাদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে তাদের অ্যাপের মাধ্যমেই বুক করা যাবে হেলিকপ্টারের মতো দেখতে বৈদ্যুতিক এয়ার ট্যাক্সি।
এই সেবা চালু করতে উবার অংশীদার হয়েছে মার্কিন স্টার্টআপ ‘জোবি অ্যাভিয়েশন’ (Joby Aviation)–এর সঙ্গে। প্রতিষ্ঠানটির তৈরি উড়োজাহাজে সর্বোচ্চ চারজন যাত্রী ভ্রমণ করতে পারবেন এবং সেগুলো পরিচালনা করবেন বাণিজ্যিক লাইসেন্সধারী পাইলট।
প্রাথমিকভাবে দুবাইয়ে চারটি ‘ভার্টিপোর্ট’ বা উড্ডয়ন-অবতরণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এগুলোর মাধ্যমে সংযুক্ত করা হবে দুবাই ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, পাম জুমেইরাহের একটি হোটেল, একটি বড় শপিং মল এবং আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব দুবাই ক্যাম্পাসকে। ফলে বিমানবন্দর থেকে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উবারের প্রধান পণ্য কর্মকর্তা সাচিন কনসাল বলেন, ‘উন্নত আকাশগত গতিশীলতা শহরের ভেতর মানুষের চলাচলকে আমূল বদলে দিতে পারে—এ বিশ্বাস আমরা অনেক দিন ধরেই পোষণ করে আসছি।’ অন্যদিকে জোবি অ্যাভিয়েশনের প্রধান পণ্য কর্মকর্তা এরিক অ্যালিসন জানান, উবারের সঙ্গে এই অংশীদারত্ব নতুন এই পরিবহন ব্যবস্থাকে মানুষের কাছে পরিচিত ও সহজলভ্য করে তুলবে—একটি সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে যা মাটি ও আকাশকে যুক্ত করবে এবং যাত্রীদের সময় সাশ্রয় করবে।
উবার অ্যাপেই সাধারণ গাড়ি সেবার পাশাপাশি ‘উবার এয়ার’ রাইড দেখা যাবে। এয়ার ট্যাক্সি যাত্রার সঙ্গে যাত্রীদের যাত্রার শুরু ও গন্তব্যে পৌঁছাতে প্রিমিয়াম ‘উবার ব্ল্যাক’ সেবাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
জোবি জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (FAA) চূড়ান্ত সনদ পাওয়ার শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অনুমোদন মিললে ভবিষ্যতে নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, যুক্তরাজ্য ও জাপানের মতো বাজারেও সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
জোবি ২০২০ সালে উবারের এয়ার মোবিলিটি বিভাগ ‘উবার এলিভেট’ অধিগ্রহণ করার প্রায় ছয় বছর পর এই উদ্যোগটি আসছে দুবাইয়ে। সেই চুক্তির অংশ হিসেবে উবার ৭৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছিল। মহামারির প্রথম বছরে পরিবহন চাহিদা কমে যাওয়ায় উবার একাধিক বিভাগ বিক্রি করে দেয়। একই সময়ে তারা স্বয়ংক্রিয় গাড়ি বিভাগও বিক্রি করে দেয় স্টার্টআপ অরোরার কাছে।
প্রযুক্তিনির্ভর নগর পরিবহনে আকাশপথ যুক্ত হওয়া এখন আর কল্পবিজ্ঞান নয়—বরং সময় বাঁচানো ও টেকসই যাতায়াতের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে দুবাই থেকেই।