বিমানবন্দরে লাগেজ হারিয়ে যাওয়া নতুন কিছু নয়। যাত্রা শুরু বা শেষে এই ভোগান্তির মতো খারাপ জিনিস আর হয় না। তবে এই কষ্ট থেকে মুক্তি দিতে গুগল নিয়ে এসেছে নতুন ফিচার ‘ফাইন্ড হাব’। এর মাধ্যমে যাত্রীরা তাদের হারিয়ে যাওয়া লাগেজের অবস্থান বা ‘লাইভ লোকেশন’ সরাসরি এয়ারলাইনসকে জানাতে পারবেন। এতে এয়ারলাইনস কর্মীরা সঠিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে দ্রুত লাগেজটি খুঁজে বের করতে পারবেন।
সংবাদমাধ্যম বিজনেস টুডে’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এরই মধ্যে তুর্কি এয়ারলাইনস তাদের লাগেজ ট্র্যাকিং প্রক্রিয়ায় এই প্রযুক্তি যুক্ত করেছে।
ব্যক্তিগত ডিভাইসের মাধ্যমে হারানো জিনিস খুঁজে পাওয়ার একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম তৈরির লক্ষ্যেই গুগলের এই উদ্যোগ। তবে ভ্রমণ ক্ষেত্রে এর ব্যবহার ইতিমধ্যেই বেশ নজর কাড়ছে, কারণ হারিয়ে যাওয়া লাগেজ দ্রুত উদ্ধার করার উপায় খুঁজছে অনেক এয়ারলাইনস।
গুগল এই প্রক্রিয়াটি এমনভাবে ডিজাইন করেছে যাতে একজন যাত্রী লাগেজ বেল্টের পাশে অপেক্ষারত অবস্থাতেই (ক্যারোসেল) এটি ব্যবহার করতে পারেন। তবে লাগেজের সঙ্গে অবশ্যই একটি ‘ফাইন্ড হাব’ সমর্থিত ট্র্যাকার বা সরঞ্জাম থাকতে হবে। লাগেজ না পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই তথ্য শেয়ার করা সম্ভব।
অ্যাপটি খুলে তালিকায় থাকা হারিয়ে যাওয়া জিনিসটি নির্বাচন করুন। ‘শেয়ার আইটেম লোকেশন’ অপশনে ট্যাপ করে একটি নিরাপদ লিংক (URL) তৈরি করুন, যেখানে লাগেজের অবস্থান সরাসরি দেখা যাবে।
তারপর সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের ‘ব্যাগেজ ক্লেইম’ ফরমে ওই লিংকটি পেস্ট করুন। এয়ারলাইনস কর্মীদের ওই লিংকের মাধ্যমে লাগেজের সর্বশেষ অবস্থান দেখার অনুমতি দিন।
এই সিস্টেমটি গোপনীয়তার বিষয়টি মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে গোপনীয়তার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যবহারকারী যেকোনো সময় লোকেশন শেয়ার করা বন্ধ করতে পারবেন। এ ছাড়া শেয়ার করা লিংকগুলো সাত দিন পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে অকার্যকর হয়ে যাবে।
আবার ফোনটি যখনই হারানো লাগেজের কাছাকাছি চলে আসবে, তখন এই ফিচারটি নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যাবে। অ্যাপের মাধ্যমে আদান-প্রদান করা সব তথ্যই থাকবে এনক্রিপ্টেড। ফলে তথ্য কতক্ষণ এবং কে দেখবে, তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে যাত্রীর হাতেই।
শুরুতেই গুগল বিশ্বের ১০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থার সঙ্গে এই সুবিধা যুক্ত করতে কাজ করছে। প্রাথমিক তালিকায় রয়েছে—
১. তুর্কি এয়ারলাইনস
২. এয়ার ইন্ডিয়া
৩. এজেট (AJet)
৪. চায়না এয়ারলাইনস
৫. লুফথানসা গ্রুপ (লুফথানসা, অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইনস, ব্রাসেলস এয়ারলাইনস ও সুইস)
৬. সৌদিয়া
৭. স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এয়ারলাইনস (এসএএস)
শিগগিরই এই তালিকায় কান্তাসের মতো আরও কিছু এয়ারলাইনস যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই ফিচারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, হারিয়ে যাওয়া লাগেজ খুঁজে পাওয়ার দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। ম্যানুয়াল স্ক্যান বা এয়ারলাইনসের অভ্যন্তরীণ বার্তার ওপর নির্ভর না করে কর্মীরা সরাসরি লিংকের মাধ্যমে মুহূর্তেই লাগেজের অবস্থান শনাক্ত করতে পারবেন। এতে যাত্রীদের অনিশ্চয়তা কমবে এবং ব্যস্ত বিমানবন্দরগুলোতে তল্লাশি প্রক্রিয়া দ্রুততর হবে।
সংবাদ সংস্থা ‘স্কিফট’-এর তথ্যমতে, যাত্রীর অনুমোদিত এই লোকেশন শেয়ারিং ব্যবস্থা ‘ওয়ার্ল্ডট্রেসার’-এর মতো সিস্টেমের কার্যকারিতা বাড়াবে। এটি এয়ারলাইনস কর্মীদের কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণে সাহায্য করবে এবং লাগেজ পুরোপুরি হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমাবে। নিয়মিত আকাশপথের যাত্রীদের জন্য এটি বেশ উপকারী হবে কারণ এতে তারা লাগেজের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা না করে দ্রুত ও কার্যকর সমাধান পাবেন।