মানুষের প্রতিদিনের যোগাযোগ, কাজকর্ম ও ব্যক্তিগত আলাপচারিতা এখন স্মার্টফোনকেন্দ্রিক। স্মার্টফোন কেবল একটি যোগাযোগের মাধ্যমই নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে একটি ‘ডিজিটাল ভল্ট’, যেখানে সংরক্ষিত থাকে ব্যক্তিগত কথোপকথন, সংবেদনশীল তথ্য এবং নানা গুরুত্বপূর্ণ পেশাগত ডেটা। এই বাস্তবতায় ডিজিটাল নিরাপত্তার গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে অনেক বেশি। তথ্যের সুরক্ষা এখন ব্যবহারকারীদের জন্য এটি একটি মৌলিক অধিকারে পরিণত হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ইমো নিয়ে এসেছে ‘ডিসঅ্যাপিয়ারিং মেসেজ’ ফিচার। সময়োপযোগী এ ফিচার ব্যবহারকারীদের যোগাযোগে বাড়তি সুরক্ষা ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে। এই ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারী যে সময় নির্ধারণ করে দেন সেই সময় শেষে বার্তাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যায়। আলাদা করে ডিলিট করার প্রয়োজন না থাকায় ভুলে গেলেও তথ্য ছড়ানোর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।
‘ডিসঅ্যাপিয়ারিং মেসেজ’ ফিচারের ব্যবহারকারী সম্পূর্ণভাবে নিজেদের বার্তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। একটি বার্তা, ভিডিও বা কল রেকর্ড কতক্ষণ থাকবে, তা পুরোপুরি ব্যবহারকারীই ঠিক করে দিতে পারেন। সংবেদনশীল, গোপন বা ব্যক্তিগত কথোপকথনের জন্য এটি বিশেষভাবে কার্যকর। যেমন, কোনো পেশাগত আলোচনা, যার স্থায়ী রেকর্ড রাখার প্রয়োজন নেই, অথবা ব্যক্তিগত আলাপ যা দীর্ঘদিন সংরক্ষিত থাকা উচিত নয়, এমন তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবেই মুছে যায়।
ব্যক্তিগত ব্যবহারিক জীবনে এর প্রাসঙ্গিকতা ব্যাপক। ডিভাইস হারিয়ে যাওয়া, অননুমোদিতভাবে কারো প্রবেশ বা ‘ডেটা ব্রিচ’, অর্থাৎ তথ্য ফাঁসের মত ঝুঁকি কমাতে এটি একটি কার্যকর টুল হিসেবে কাজ করে। একই সঙ্গে এটি দীর্ঘমেয়াদি ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট কমাতেও সহায়তা করে, যা বর্তমান সময়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
‘ডিসঅ্যাপিয়ারিং মেসেজ’ এর মতো প্রাইভেসি টুলগুলো প্রমাণ করে যে, নিস্ক্রিয়ভাবে ডেটা জমা করার যুগ থেকে সক্রিয়ভাবে ডেটার ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দিকে প্রযুক্তি বহুদূর এগিয়ে গিয়েছে। এই ফিচারের মাধ্যমে ইমো ব্যবহারকারীদের জন্য শুধু নতুন নিরাপত্তা সুবিধা যোগ করছে না; পাশাপাশি, একটি ডিজিটাল বিশ্বকে সবার জন্য নিরাপদ করে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।