হোম > প্রযুক্তি

নিজস্ব প্রযুক্তির প্রথম চালকবিহীন কার্গো ওড়াল চীন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

চীনের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘এইচএইচ-২০০’ (HH-200) ড্রোন। ছবি: সংগৃহীত

আকাশপথে বৃহৎ আকারের চালকবিহীন পরিবহন তৈরির ক্ষেত্রে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে চীন। দেশটিতে নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘এইচএইচ-২০০’ (HH-200) নামের ‘আনম্যানড’ আকাশযানটি আজ বুধবার সফলভাবে প্রথম উড্ডয়ন সম্পন্ন করেছে।

চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশন অব চায়না (এভিআইসি) নিজস্ব প্রযুক্তিতে আকাশযানটি তৈরি করেছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, উড্ডয়নের সময় কার্গোটি স্থিতিশীলভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং এর সব সিস্টেম সঠিকভাবে কাজ করেছে। পূর্বনির্ধারিত সব ফ্লাইট লক্ষ্যও সফলভাবে পূরণ হয়েছে।

এইচএইচ-২০০ নামে এই আকাশযানটিতে ১২ ঘনমিটার আয়তনের কার্গো হোল্ড বা পণ্য রাখার জায়গা রয়েছে, যা ১৮ ঘনমিটার পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। এটি সর্বোচ্চ ১.৫ টন ওজন বহন করতে পারে। এর সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৩১০ কিলোমিটার এবং এটি একনাগাড়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩৬০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সক্ষম।

উদ্ভাবনী কাঠামো এবং প্রচুর পরিমাণে কম্পোজিট উপকরণের ব্যবহারের ফলে বাহনটির ওজন ২০ শতাংশ কমানো সম্ভব হয়েছে, যা এর পরিচালন ব্যয়ও কমিয়ে এনেছে। বেসামরিক বিমান চলাচলের মানদণ্ড অনুযায়ী তৈরি কার্গোটিতে রয়েছে সম্পূর্ণ বুদ্ধিমান স্বয়ংক্রিয় উড্ডয়ন ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক বাধা এড়ানোর প্রযুক্তি।

এটি ৫০ হাজার ঘণ্টা উড্ডয়ন অথবা ১৫ হাজার বার ওঠানামা (টেকঅফ ও ল্যান্ডিং) করতে পারবে। যানটির জীবনচক্রের পরিচালন ব্যয় প্রতি টন-কিলোমিটারে মাত্র ৪.৭ ইউয়ান (প্রায় ০.৬৯ ডলার)।

যেকোনো পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার অসাধারণ সক্ষমতা রয়েছে এই উড়ন্ত কার্গোটির। এটি মাত্র ৫০০ মিটারের ছোট রানওয়ে এবং ৪ হাজার ২০০ মিটারের বেশি উচ্চতার মালভূমি অঞ্চল থেকেও ওঠানামা করতে পারে। এ ছাড়া মাইনাস ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত চরম তাপমাত্রায় এটি সচল থাকে। ফলে পাহাড়ি এলাকা, দ্বীপপুঞ্জ, বরফে ঢাকা অঞ্চল এবং উচ্চ পার্বত্য এলাকার যাতায়াত বাধা কাটিয়ে এটি কার্যকর ‘লো-অ্যাল্টিটিউড’ বা নিম্ন-উচ্চতার লজিস্টিক চ্যানেল গড়ে তুলতে পারবে।

এইচএইচ-২০০ মূলত সীমান্ত এলাকা, উপকূলীয় অঞ্চল এবং আন্তসীমান্ত মালবাহী রুটে পণ্য পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হবে। এ ছাড়া এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বীপগুলোর মধ্যে পণ্য পরিবহন এবং ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’-এ অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর বিমান কার্গো নেটওয়ার্কেও যুক্ত হবে। ভবিষ্যতে এই আকাশ যানটি জরুরি উদ্ধার অভিযান, বনের আগুন নির্বাপণ, আবহাওয়া পরিবর্তন প্রযুক্তি, আকাশ থেকে রিমোট সেন্সিং এবং কৃষি ও বনায়নের ফসল রক্ষার মতো কাজেও দ্রুত ব্যবহারোপযোগী করা যাবে।

বেইজিং একাডেমি অব সোশ্যাল সায়েন্সেসের সহযোগী গবেষক ওয়াং পেং গ্লোবাল টাইমসকে বলেন, এই অর্জন চীনের ‘লো-অ্যাল্টিটিউড ইকোনমি’ বা নিম্ন-উচ্চতার অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার কৌশলগত প্রচেষ্টার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

ওয়াং আরও বলেন, বাণিজ্যিক চালকবিহীন কার্গো তৈরির এই সাফল্য জরুরি উদ্ধারকাজ, কৃষি, বনায়ন ও লজিস্টিক খাতের নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করবে—বিশেষ করে দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হবে।

গত ফেব্রুয়ারিতে চীনের বাজার নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং বেশ কয়েকটি কেন্দ্রীয় সরকারি দপ্তরের দেওয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে নিম্ন-উচ্চতার অর্থনীতির জন্য একটি মানদণ্ড কাঠামো (স্ট্যান্ডার্ড সিস্টেম) গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে চীন।

নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে এই খাতের জন্য ৩০০ টির বেশি মানদণ্ড তৈরি করা হবে, যা হবে উন্নত ও আন্তর্জাতিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই ব্যবস্থা নিম্ন-উচ্চতার উড়োজাহাজ, অবকাঠামো, বিমান চলাচল ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা তদারকি এবং প্রয়োগের ক্ষেত্রসহ পুরো শিল্প শৃঙ্খলকে সহায়তা দেবে।

আবার কোডিং শুরু করলেন জাকারবার্গ, বসছেন এআই টিমের ডেস্কে

ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে ভিডিও প্রচার, ইরানপন্থী ইউটিউব চ্যানেল সরিয়ে দিল গুগল

দুই ডলারে ভিডিও কলে এআই যিশু, কিনতে বলেন প্রিমিয়াম ভার্সন

দেশে প্রথমবারের মতো বসছে ব্রডব্যান্ড এক্সপো

ওপেনএআই প্রধান স্যাম অল্টম্যানের বাড়িতে পেট্রলবোমা হামলা

সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজনৈতিক পোস্ট নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন করছে ভারত

১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করছে গ্রিসও

সাবমেরিন কেব্‌ল রক্ষণাবেক্ষণে ইন্টারনেট সেবা ব্যাহতের আশঙ্কা

শিশুদের জন্য নেটফ্লিক্স নিয়ে এল গেমিং অ্যাপ ‘প্লেগ্রাউন্ড’

কলম যখন ‘স্মার্ট পেন’