বিজ্ঞানীরা বিশ্বের সবচেয়ে ছোট স্বয়ংক্রিয় রোবট উন্মোচন করেছেন। এটি এতটাই ক্ষুদ্র যে খালি চোখে সহজে দেখা যায় না। আকারে এটি লবণের দানার চেয়ে ছোট। তবু এটি নিজে নিজে কাজ করতে পারে এবং একে প্রোগ্রাম করা যায়।
পেনসিলভানিয়া এবং মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা যৌথভাবে এই রোবট তৈরি করেছেন। তাঁদের দাবি, এত ছোট একটি যন্ত্রে একসঙ্গে প্রসেসর, মেমোরি, সেন্সর এবং প্রোপালশন সিস্টেম যুক্ত করা এই প্রথম। এটি বিশ্বের সবচেয়ে ছোট প্রোগ্রামেবল রোবট, যা তরল পদার্থের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলাচল করতে পারে। রোবোটিকস ও ন্যানো প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এটিকে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে চিকিৎসা, উৎপাদন এবং স্মার্ট সিস্টেমে এর ব্যবহার হতে পারে। এই মাইক্রো রোবটের আকার মাত্র ২০০×৩০০×৫০ মাইক্রোমিটার।
এত ছোট হলেও রোবটটির ভেতরে একটি অনবোর্ড কম্পিউটার রাখা হয়েছে। এই মাইক্রোস্কোপিক কম্পিউটারে প্রসেসর, মেমোরি ও সেন্সর যুক্ত আছে। রোবটটি খুব কম শক্তিতে কাজ করতে পারে। এতে শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে সোলার সেল। এর অনবোর্ড কম্পিউটার মাত্র ৭৫ ন্যানো ওয়াট শক্তিতে চলে, যা একটি স্মার্ট ওয়াচের তুলনায় প্রায় এক লাখ গুণ কম। এই সামান্য বিদ্যুৎ পাওয়ার জন্য সৌর প্যানেল রোবটটির বেশির ভাগ জায়গা দখল করে রেখেছে।
এই মাইক্রোরোবট নিজে নিজে অভিনব একটি প্রোপালশন সিস্টেম ব্যবহার করে পানির মধ্যে চলাচল করে। আশপাশের পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা নিতে পারে এবং এটি বিশেষভাবে তাপমাত্রা পরিমাপ করতে সক্ষম। কারণ, এর সার্কিটে একটি তাপমাত্রা সেন্সর যুক্ত আছে। পানিতে চলার জন্য এতে কোনো প্রপেলার বা যান্ত্রিক অংশ ব্যবহার করা হয়নি; বরং রোবটটি নিজের চারপাশে একটি বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র তৈরি করে, যা পানির ভেতরের আয়নগুলোকে ঠেলে দিয়ে গতি তৈরি করে।
গবেষকদের মতে, এই রোবটের বিশেষত্ব হলো, এত ছোট আকারেও বুদ্ধিমত্তা এবং স্বয়ংক্রিয় চলাচল সম্ভব হওয়া। ভবিষ্যতের মাইক্রোস্কেল রোবোটিকসের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ এক আবিষ্কার। এর প্রধান ব্যবহার হতে পারে কোষ পর্যবেক্ষণে। কোষের স্বাস্থ্য এবং কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করার জন্য প্রয়োজনীয় সেন্সর এতে যুক্ত করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, মানবদেহের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে চিকিৎসামূলক কাজেও এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
গবেষকেরা মনে করছেন, প্রতিটি রোবটের দাম এক ডলারের কম হওয়ায় এগুলো একসঙ্গে গোষ্ঠীবদ্ধভাবে ব্যবহার করা সম্ভব। এতে ভবিষ্যতে একসঙ্গে অনেক রোবট দিয়ে জটিল কাজ সম্পন্ন করার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে মাইক্রো রোবোটিকসে এই ক্ষুদ্র রোবট ভবিষ্যতের গবেষণায় নতুন দিক খুলে দিতে পারে।
সূত্র: মিশিগান ইঞ্জিনিয়ারিং নিউজ