হোম > প্রযুক্তি

মাইক্রোসফট, গুগল ও এক্সএআইয়ের এআই মডেল অবমুক্তের আগে পরীক্ষা করবে ট্রাম্প প্রশাসন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

এআই খাতের প্রতি এতদিনকার নমনীয় নিয়ন্ত্রণের নীতি থেকে সরে আসছে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত

নিরাপত্তা ঝুঁকি ও সাইবার হামলা মোকাবিলায় নিজেদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর বা এআই মডেলগুলো বাজারে ছাড়ার আগেই সরকারের সঙ্গে শেয়ার করার ঘোষণা দিয়েছে গুগল, মাইক্রোসফট এবং এক্সএআই (xAI)। গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেকনোলজি (এনআইএসটি) এই তথ্য জানিয়েছে।

গত মাসে অ্যানথ্রোপিকের নতুন এআই মডেল মিথোস (Mythos) এআই মডেলটি সাইবার নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে এমন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে এই সরকারি সহযোগিতা নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে। এর ফলে হোয়াইট হাউস এআই মডেলগুলোর জন্য একটি আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা প্রক্রিয়া চালুর কথা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

নতুন এই চুক্তির আওতায় মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘সেন্টার ফর এআই স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড ইনোভেশন’ (সিএআইএসআই) নতুন এআই মডেলগুলো বাজারে আসার আগেই সেগুলো জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, তা মূল্যায়ন করতে পারবে। এই কেন্দ্রটি মডেলগুলো উন্মোচনের পরেও গবেষণা ও পরীক্ষা চালিয়ে যাবে। তারা এরই মধ্যে ৪০টির বেশি এআই মডেল মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছে।

সিএআইএসআইয়ের পরিচালক ক্রিস ফল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এআই এবং জাতীয় নিরাপত্তার ওপর এর প্রভাব বোঝার জন্য স্বতন্ত্র ও কঠোর বৈজ্ঞানিক পরিমাপ অপরিহার্য। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে শিল্পের সঙ্গে এই বর্ধিত সহযোগিতা জনস্বার্থে আমাদের কাজকে আরও এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।’

অ্যানথ্রোপিকের দাবি অনুযায়ী, তাদের মিথোস মডেলটি সাইবার নিরাপত্তার দিক থেকে অন্যান্য মডেলের চেয়ে অনেক এগিয়ে। গত এক মাসে এই মডেলটি বিভিন্ন দেশের সরকার, ব্যাংক এবং ইউটিলিটি কোম্পানিগুলোর মধ্যে উদ্বেগের ঢেউ তুলেছে।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা এই মডেলটি এখনই জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে না এবং শুধু অনুমোদিত নির্দিষ্ট কিছু সংস্থাকে এর অ্যাক্সেস দিচ্ছে। এ ছাড়া এর সক্ষমতা সম্পর্কে মার্কিন সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে।

গত সপ্তাহে ওপেনএআই জানিয়েছে, তারাও এআই-এর হুমকিগুলো আগেভাগে শনাক্ত করার লক্ষ্যে তাদের সবচেয়ে উন্নত মডেলগুলো সরকারের পরীক্ষিত সব স্তরের জন্য উন্মুক্ত করছে।

জর্জটাউন সেন্টারের ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড এমার্জিং টেকনোলজির সিনিয়র রিসার্চ অ্যানালিস্ট জেসিকা জি বলেন, এই অংশীদারত্বের ফলে সিএআইএসআইয়ের জন্য এআই পরীক্ষা করা সহজ হবে। বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো পর্যাপ্ত জনবল, কারিগরি কর্মী কিংবা শক্তিশালী কম্পিউটিং সুবিধার অভাবে সরকারি সংস্থাগুলোর পক্ষে এই ধরনের কঠোর পরীক্ষা চালানো কঠিন ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সিএনএনের প্রতিবেদনে জানা যায়, বর্তমানে হোয়াইট হাউস নতুন এআই মডেলগুলোর সরকারি পর্যালোচনা প্রক্রিয়া কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে একটি বিশেষজ্ঞ দলের সঙ্গে পরামর্শ করছে। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের এআই খাতের প্রতি এতদিনকার নমনীয় নিয়ন্ত্রণের নীতি থেকে সরে আসার একটি বড় ইঙ্গিত।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস গত সোমবার এই ওয়ার্কিং গ্রুপের খবরটি প্রথম প্রকাশ করে।

অবশ্য হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র সিএনএনকে বলেন, ‘যেকোনো নীতিগত ঘোষণা সরাসরি প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে আসবে। সম্ভাব্য নির্বাহী আদেশ নিয়ে এখন যা বলা হচ্ছে তা কেবলই অনুমান।’

মাইক্রোসফটের চিফ রেসপন্সিবল এআই অফিসার নাতাশা ক্র্যাম্পটন এক বিবৃতিতে বলেন, মাইক্রোসফট নিয়মিতভাবে নিজেদের মডেলগুলো পরীক্ষা করে, তবে সিএআইএসআই অতিরিক্ত প্রযুক্তিগত, বৈজ্ঞানিক এবং জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক দক্ষতা দিয়ে সহায়তা করতে পারবে।

এই চুক্তির বিষয়ে গুগল বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এ ছাড়া এক্সএআইয়ের পক্ষ থেকেও মন্তব্যের অনুরোধে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

মিথ্যাচারের দায়ে ২৫ কোটি ডলার অর্থদণ্ড অ্যাপলের

ডুমস্ক্রলিং ঠেকাতে অন্য রকম অ্যাপ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মেটা-ডেটা রাখুন নিজের নিয়ন্ত্রণে

পরিবেশ ও প্রযুক্তির মেলবন্ধনে দুবাইয়ে দ্য লুপ প্রজেক্ট

গুগল অ্যাকটিভিটি নিয়ন্ত্রণ করবেন যেভাবে

দক্ষিণ আফ্রিকায় এআই দিয়ে এআইয়ের খসড়া নীতিমালা তৈরি, ধরা পড়ায় প্রত্যাহার

বিটিআরসিতে টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো শেয়ারিং শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি নাম মানচিত্র থেকে সরিয়ে ফেলল মাইক্রোসফট

৮০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারির স্মার্টফোন এখন হাতের নাগালে, কিন্তু উন্নত বিশ্ব বঞ্চিত কেন

রিয়েলমির গ্লোবাল ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হলেন ফুটবল তারকা রাফিনহা