হোম > খেলা > অন্য খেলা

এশিয়ান গেমসের আবাসন নিয়ে ক্ষুব্ধ দক্ষিণ কোরিয়া

ক্রীড়া ডেস্ক    

এশিয়ান গেমসের আবাসন নিয়ে সমালোচনা থামছেই না। সবশেষ আয়োজকদের তোপ দাগল দক্ষিণ কোরিয়া। ছবি: সংগৃহীত

জাপানের নাগোয়া ও আইচিতে শুরু হতে যাওয়া এশিয়ান গেমসের আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। কনটেইনারের আদলে তৈরি অস্থায়ী কেবিনের বিছানা ছোট হওয়ায় খেলোয়াড়দের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ দেশটির কর্মকর্তাদের।

এবারের এশিয়ান গেমসের আবাসন ব্যবস্থায় বাস্কেটবল খেলোয়াড়দের সবচেয়ে বেশি সমস্যা হবে বলে মনে করেন দক্ষিণ কোরিয়া বাস্কেটবল অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জং জে-ইয়ং। এএফপিকে তিনি বলেন, ‘আমার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বলছি, এটাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বাজে। দুই মিটারের বেশি লম্বা খেলোয়াড়েরা বিছানায় পা পর্যন্ত মেলে শুতে পারছেন না। এটা কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়।’

অভিযোগের সঙ্গে বাস্তব চিত্রও সামনে এসেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার পুরুষ বাস্কেটবল দলের খেলোয়াড় বিয়ন জুন-হিয়ং সামাজিক মাধ্যমে তাঁর কেবিনের বাথরুমের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে বেসিনের নিচ থেকে পানি পড়ে পুরো মেঝে ভিজে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। ভিডিওটির সঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন।’

এবারের এশিয়ান গেমসে প্রচলিত অর্থে আলাদা কোনো অ্যাথলেটস ভিলেজ তৈরি করা হয়নি। খরচ কমানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব আয়োজনের লক্ষ্য সামনে রেখে আয়োজকেরা খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের জন্য হোটেল, ক্রুজ জাহাজ এবং কনটেইনারধর্মী অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করেছেন। নাগোয়া বন্দরের কনটেইনার আবাসনে প্রায় ২ হাজার মানুষের থাকার কথা।

তবে আবাসনের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও আয়োজকদের পক্ষ থেকে এখনো দক্ষিণ কোরিয়ার অভিযোগের সন্তোষজনক জবাব মেলেনি বলে দাবি জংয়ের। তিনি বলেন, “আয়োজকেরা এখনো কিছু বলেনি। আমরা খুবই উদ্বিগ্ন এবং কী করা যায়, তা নিয়ে কোরিয়ান স্পোর্ট অ্যান্ড অলিম্পিক কমিটির সঙ্গে আলোচনা করছি।’

আবাসন নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে গত সপ্তাহে নাগোয়ায় রেকর্ড বৃষ্টিপাত পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তোলে। অস্থায়ী কনটেইনার আবাসনে থাকা প্রায় ৪০০ খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছিল। পরে তাঁরা ফিরে যান এবং কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়াও আয়োজকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আয়োজকদের পরিকল্পনায় শুরুতে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের থাকার ব্যবস্থা ছিল। পরে অংশগ্রহণকারী সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১৭ হাজার হওয়ায় আবাসন ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত হোটেলে প্রায় ৯ হাজার, কনটেইনার আবাসনে প্রায় ২ হাজার এবং ইতালির ক্রুজ জাহাজ কোস্টা সেরেনায় প্রায় ৪ হাজার মানুষের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ফিলিপাইনও আবাসন ব্যবস্থাপনায় কিছুটা সমন্বয় করেছে। দেশটির সব খেলোয়াড়ের জন্য কক্ষ নিশ্চিত করা হলেও কিছু কর্মকর্তা, বিশেষ করে কোচদের অন্য হোটেল ও এয়ারবিএনবিতে সরিয়ে নিতে হয়েছে।

অন্যদিকে, ভারতীয় ক্রিকেট দল নির্ধারিত হোটেলেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, সেগুলো পাঁচতারকা না হলেও খেলোয়াড়দের জন্য আরামদায়ক এবং প্রত্যেকের জন্য আলাদা কক্ষের ব্যবস্থা রয়েছে।