হোম > খেলা > অন্য খেলা

জাপানে একই ঘরে থাকবেন নারী-পুরুষ অ্যাথলেট

ক্রীড়া ডেস্ক    

এশিয়ান গেমস আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে আগামীকাল। ছবি: সংগৃহীত

ক্রিকেট-ফুটবলসহ এশিয়ান গেমসের নানা টুর্নামেন্ট এরই মধ্যে শুরু হয়েছে ঠিকই। কিন্তু মূল টুর্নামেন্টের এখনো আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়নি। তার আগেই বেঁধে গেছে ঝামেলা। নারী-পুরুষ অ্যাথলেটদের এক রুমে থাকতে হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এশিয়ান গেমস শুরু হচ্ছে আগামীকাল। এরই মধ্যে জাপানের আইচি ও নাগোয়ায় গেমসে অংশ নিতে আসা অ্যাথলেটরা আবাসনের মান নিয়ে অভিযোগ করতে শুরু করেছেন। আয়োজক জাপানের ক্রীড়াবিদদেরও এই দুর্ভোগ থেকে রেহাই নেই। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের গতকালের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ছেলে ও মেয়ে অ্যাথলেটদের একই কক্ষে থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে জাপানি ক্রীড়াবিদরা বিকল্প আবাসন খুঁজছেন।

এশিয়ান গেমসের আগে জাপানের আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে চলছে সমালোচনা। জাপানের ‘ডেপুটি শেফ দ্য মিশন’ হিসাশি মিজুতোরি গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এমন ঘটনাও ঘটেছে যেখানে কোচ, দলের কর্মকর্তা এবং ক্রীড়াবিদদের একই কক্ষে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে শুধু সংখ্যার হিসাব করেই রুম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যেমন পাঁচজন পুরুষ ও পাঁচজন নারীর একটি দলের জন্য রাখা হয়েছে পাঁচটি টুইন রুম।’

ছেলে-মেয়ে ক্রীড়াবিদদের একই রুমে থাকা নিয়ে লজিস্টিকাল সমস্যা হচ্ছে বলে মনে করেন মিজুতোরি। গতকাল জাপানের ‘ডেপুটি শেফ দ্য মিশন’ বলেন, ‘কাগজে-কলমে সংখ্যার হিসাবে এটি ঠিক মনে হলেও বাস্তবে এর ফলে পুরুষ ও নারীকে একই রুমে রাখা, কোচকে ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে রাখা কিংবা বিপুল পরিমাণ চিকিৎসা সরঞ্জাম বহনকারী প্রশিক্ষকদের একই কক্ষে রাখার মতো জটিল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।’

মিজুতোরির মতে জাপানের ক্রীড়াবিদদের জন্য অতিরিক্ত আবাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে যাতে করে নারী-পুরুষ একই রুমে না থাকতে হয়। তিনি গতকাল বলেন, ‘যতটা সম্ভব আমরা বর্তমানে সমন্বয় করে নিচ্ছি। আলোচনা-আলোচনার মাধ্যমে বদলানোর চেষ্টা করছি। যেসব ক্ষেত্রে তা করা খুব কঠিন হবে, সেসব পরিস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে টিম জাপান আগে থেকেই প্রস্তুত করে রাখা অতিরিক্ত আবাসন ব্যবহারের কথা বিবেচনা করছি।’

এশিয়ান গেমসে প্রায় ১৭০০০ ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তা থাকছেন। সফরকারী দলগুলোর জন্য একটি একক অ্যাথলেটস ভিলেজের পরিবর্তে আয়োজকেরা সৃজনশীল পদ্ধতিতে বিভিন্ন স্থানে আবাসনের ব্যবস্থা করেছেন। ইতালীয় ক্রুজ জাহাজ ‘কোস্টা সেরেনা’ প্রায় চার হাজার অ্যাথলেটের থাকার ব্যবস্থা করেছে। জাহাজটি গত মঙ্গলবার নাগোয়ায় পৌঁছেছে। এ ছাড়া আরও প্রায় ২০০০ ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তা জাপানের সবচেয়ে বড় বন্দরের ডক এলাকায় শিপিং কনটেইনারের আদলে তৈরি কেবিনে থাকবেন।

এশিয়ান গেমস সামনে রেখে গত পরশু ক্রুজ শিপ ভিলেজ চালু করা হয়েছে। মিজুতোরি বলেন, ‘ক্রুজ শিপ ভিলেজ গতকাল (বুধবার) চালু হওয়ার পর থেকেই ক্রীড়াবিদরা আসছেন এবং প্রবেশসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করছেন। তবে পুরো প্রক্রিয়াটিতে যথেষ্ট সময় লেগেছে। পরিচয়পত্র সক্রিয় করার ক্ষেত্রে সমস্যার কারণে কিছু ক্রীড়াবিদকে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে বলে আমরা খবর পেয়েছি।’