একটা-দুইটা না, ৫০০ কুমিরের বাস অস্ট্রেলিয়ার কুইনসল্যান্ড রাজ্যের ফিটজরয় নদীতে। খবরটা শুনেই গা শিউরে ওঠা স্বাভাবিক। তবু অলিম্পিক হবেই এখানে। শুধু তা-ই নয়, অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিকের বেশ কিছু টুর্নামেন্ট রাখা হয়েছে এই ফিটজরয় নদীকে।
২০৩২ ব্রিসবেন অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিকের রোয়িং এবং ক্যানোয়িং ইভেন্টের ভেন্যু হিসেবে ৫০০ কুমিরের ফিটজরয় নদীকে বেছে নেওয়া হয়েছে। একটি স্বাধীন কারিগরি মূল্যায়ন শেষে কুইনসল্যান্ড রাজ্যের এই নদীকে ক্যানোয়িংয়ের উপযুক্ত বলে ঘোষণা করেছে। অথচ তারা কুমিরের বিষয়ে বিন্দুমাত্র ভাবেনি।
মূলত অলিম্পিকের সময় এবং তার আগের সময়ে আবহাওয়া, জলের স্তর ও বন্যার ঝুঁকি কতটা, ফিটজরয় নদীর ব্যাপারে সেটা বিবেচনা করা হয়েছে। ২০৩২ ব্রিসবেন অলিম্পিক হবে জুলাই-আগস্টে। রকহ্যাম্পটনের যে ফিটজরয় নদীতে ৫০০ কুমিরের বসবাস, সেটা কুইনসল্যান্ডের রাজধানী ব্রিসবেন থেকে ৬৫২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
ফিটজরয় নদীতে স্রোত কম থাকায় দ্রুতই জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এখানে নিয়মিত স্কুলপর্যায়ের প্রতিযোগিতা, স্থানীয় রেগাটা (একধরনের ইয়ট প্রতিযোগিতা) এবং জাতীয় দলের ক্যাম্প হয়। কুমির দেখা গেলে নিরাপত্তার কথা ভেবে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অ্যাথলেটদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
ওয়ার্ল্ড রোয়িংয়ের প্রেসিডেন্ট জ্যঁ-ক্রিস্তফ রোলাঁর মতে রকহ্যাম্পটনের ফিটজরয় নদী অলিম্পিক-প্যারালিম্পিকের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। রোঁলা বলেন, ‘বিস্তৃত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে আমরা জানতে পেরেছি যে খেলা চলা অবস্থায় ফিটজরয় নদী স্বচ্ছ প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারবে। এটি অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক রোয়িংয়ের প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’
রকহ্যাম্পটনের ৫০০ কুমিরের নদীতে রোয়িং প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে কোনো অসুবিধা নেই মনে করেন প্যাডল ওয়ার্ল্ডওয়াইডের প্রেসিডেন্ট টমাস কোনিয়েটজকো। তিনি বলেন, ‘কারিগরি কাজের মান ও ব্যাপকতা ফিল্ড অব প্লে সম্পর্কে জরিপ করার পর আমরা স্বচ্ছ ধারণা পেয়েছি। এর ফলে আমরা এবং আমাদের ক্রীড়াবিদরা আত্মবিশ্বাসী যে এই কোর্স ক্যানো স্প্রিন্টের ক্রীড়াবিদদের জন্য স্বচ্ছ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে পারবে।’